লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মক্কার পাঁচটি ঐতিহাসিক মসজিদ ও নবীজির স্মৃতিবিজড়িত প্রেক্ষাপট

মক্কায় পবিত্র কাবা শরিফের প্রাঙ্গণে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত মুমিন হৃদয়ের জন্য অতুলনীয় প্রশান্তি বয়ে আনে। তবে এই পবিত্র নগরীর আধ্যাত্মিক আবহ শুধু মসজিদুল হারামের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নগরীর অলিগলি ও পাহাড়ের উপত্যকায় এমন বেশ কিছু ঐতিহাসিক মসজিদ ছড়িয়ে রয়েছে, যেগুলোর প্রতিটি কোণ এবং ইটের গাঁথুনিতে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র স্মৃতি সিক্ত হয়ে আছে।

মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে আল-হুজুন এলাকায় অবস্থিত আর-রায়াহ মসজিদ। মক্কা বিজয়ের সময় মহানবী (সা.) এই স্থানে পতাকা স্থাপন করেছিলেন বলে ইমাম বুখারি (রহ.)-এর বর্ণনায় পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এখানে মসজিদ নির্মাণ করেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হাজিদের কাছে এটি 'ক্যাট মসজিদ' নামেও পরিচিত, যদিও এই নামের কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই।

আর-রায়াহ মসজিদ থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত আল-জিন মসজিদ। এটি আল-হারাস মসজিদ হিসেবেও পরিচিত। জিনদের একটি দলের কাছে মহানবী (সা.)-এর দাওয়াতি কাজের স্মারক হিসেবে এই মসজিদটি নির্মিত হয়। রাসুল (সা.) সাহাবি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.)-কে নিয়ে এই স্থানে গিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করেছিলেন এবং জিনদের জন্য হাড় নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সাধারণের ধারণা অনুযায়ী এখানে কোনো ভৌতিক অভিজ্ঞতার সুযোগ নেই, তাই কোনো অলৌকিক বা ভূতুড়ে অভিজ্ঞতার আশা করা ঠিক নয়।

আল-জিন মসজিদের বিপরীতেই রয়েছে আশ-শাজারাহ মসজিদ। এখানে মহানবী (সা.)-এর একটি অলৌকিক ঘটনার স্মৃতি রয়েছে। ওমর আল-খাত্তাব (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, অমুসলিমদের প্রত্যাখ্যানের মুখে মহানবী (সা.) আল্লাহর কাছে নিদর্শন চাইলে একটি গাছ তাঁর কাছে এসে সালাম জানায় এবং পরে আদেশে ফিরে যায়। অতীতে এখানে একটি ছোট স্মারক গম্বুজ থাকলেও বর্তমানে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ অবস্থিত।

শুমাইসি এলাকায় মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হুদাইবিয়া মসজিদ, যা বায়াত আর-রিদওয়ান মসজিদ নামেও পরিচিত। হিজরি ষষ্ঠ বর্ষে ওমরাহ পালনে বাধা পাওয়ার পর সাহাবিরা এখানে রাসুল (সা.)-এর হাতে হাত রেখে আনুগত্যের শপথ নিয়েছিলেন। উসমান বিন আফফান (রা.)-কে হত্যা করা হয়েছে এমন গুজব ছড়ালে সাহাবিরা প্রতিশোধের শপথ গ্রহণ করেন, যা দেখে কুরাইশরা ভীত হয়ে উসমান (রা.)-কে ফিরিয়ে দেয়। বায়াত গ্রহণের সময় নবী (সা.) একটি গাছের নিচে ছিলেন, যা ওমর (রা.)-এর খিলাফতকালে কেটে ফেলা হয়। বর্তমানে সেখানে মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে, যা ইহরাম বাঁধার মিকাত হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

মসজিদ তানঈম বা মসজিদ আল-মিকাত মসজিদুল হারাম থেকে মাত্র সাড়ে ৭ কিলোমিটার উত্তরে মক্কার সীমানার কাছে অবস্থিত। মদিনা থেকে আসা অধিকাংশ হজ ও ওমরাহ যাত্রী এই মসজিদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন এবং এখান থেকে ইহরাম বাঁধেন। মক্কায় হামজা এবং ওমর আল-খাত্তাব (রা.)-এর মসজিদের মতো আরও অনেক ঐতিহাসিক মসজিদ রয়েছে, তবে সেগুলোর ঐতিহাসিক সত্যতা এখনো পর্যালোচনার অপেক্ষায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

২৩ বছর পর ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে ফিরছে টেস্ট ক্রিকেট

মক্কার পাঁচটি ঐতিহাসিক মসজিদ ও নবীজির স্মৃতিবিজড়িত প্রেক্ষাপট

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

মক্কায় পবিত্র কাবা শরিফের প্রাঙ্গণে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত মুমিন হৃদয়ের জন্য অতুলনীয় প্রশান্তি বয়ে আনে। তবে এই পবিত্র নগরীর আধ্যাত্মিক আবহ শুধু মসজিদুল হারামের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নগরীর অলিগলি ও পাহাড়ের উপত্যকায় এমন বেশ কিছু ঐতিহাসিক মসজিদ ছড়িয়ে রয়েছে, যেগুলোর প্রতিটি কোণ এবং ইটের গাঁথুনিতে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র স্মৃতি সিক্ত হয়ে আছে।

মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে আল-হুজুন এলাকায় অবস্থিত আর-রায়াহ মসজিদ। মক্কা বিজয়ের সময় মহানবী (সা.) এই স্থানে পতাকা স্থাপন করেছিলেন বলে ইমাম বুখারি (রহ.)-এর বর্ণনায় পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এখানে মসজিদ নির্মাণ করেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হাজিদের কাছে এটি 'ক্যাট মসজিদ' নামেও পরিচিত, যদিও এই নামের কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই।

আর-রায়াহ মসজিদ থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত আল-জিন মসজিদ। এটি আল-হারাস মসজিদ হিসেবেও পরিচিত। জিনদের একটি দলের কাছে মহানবী (সা.)-এর দাওয়াতি কাজের স্মারক হিসেবে এই মসজিদটি নির্মিত হয়। রাসুল (সা.) সাহাবি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.)-কে নিয়ে এই স্থানে গিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করেছিলেন এবং জিনদের জন্য হাড় নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সাধারণের ধারণা অনুযায়ী এখানে কোনো ভৌতিক অভিজ্ঞতার সুযোগ নেই, তাই কোনো অলৌকিক বা ভূতুড়ে অভিজ্ঞতার আশা করা ঠিক নয়।

আল-জিন মসজিদের বিপরীতেই রয়েছে আশ-শাজারাহ মসজিদ। এখানে মহানবী (সা.)-এর একটি অলৌকিক ঘটনার স্মৃতি রয়েছে। ওমর আল-খাত্তাব (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, অমুসলিমদের প্রত্যাখ্যানের মুখে মহানবী (সা.) আল্লাহর কাছে নিদর্শন চাইলে একটি গাছ তাঁর কাছে এসে সালাম জানায় এবং পরে আদেশে ফিরে যায়। অতীতে এখানে একটি ছোট স্মারক গম্বুজ থাকলেও বর্তমানে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ অবস্থিত।

শুমাইসি এলাকায় মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হুদাইবিয়া মসজিদ, যা বায়াত আর-রিদওয়ান মসজিদ নামেও পরিচিত। হিজরি ষষ্ঠ বর্ষে ওমরাহ পালনে বাধা পাওয়ার পর সাহাবিরা এখানে রাসুল (সা.)-এর হাতে হাত রেখে আনুগত্যের শপথ নিয়েছিলেন। উসমান বিন আফফান (রা.)-কে হত্যা করা হয়েছে এমন গুজব ছড়ালে সাহাবিরা প্রতিশোধের শপথ গ্রহণ করেন, যা দেখে কুরাইশরা ভীত হয়ে উসমান (রা.)-কে ফিরিয়ে দেয়। বায়াত গ্রহণের সময় নবী (সা.) একটি গাছের নিচে ছিলেন, যা ওমর (রা.)-এর খিলাফতকালে কেটে ফেলা হয়। বর্তমানে সেখানে মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে, যা ইহরাম বাঁধার মিকাত হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

মসজিদ তানঈম বা মসজিদ আল-মিকাত মসজিদুল হারাম থেকে মাত্র সাড়ে ৭ কিলোমিটার উত্তরে মক্কার সীমানার কাছে অবস্থিত। মদিনা থেকে আসা অধিকাংশ হজ ও ওমরাহ যাত্রী এই মসজিদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন এবং এখান থেকে ইহরাম বাঁধেন। মক্কায় হামজা এবং ওমর আল-খাত্তাব (রা.)-এর মসজিদের মতো আরও অনেক ঐতিহাসিক মসজিদ রয়েছে, তবে সেগুলোর ঐতিহাসিক সত্যতা এখনো পর্যালোচনার অপেক্ষায়।