লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যা মোকাবিলায় উন্নত পূর্বাভাস ও পরিকল্পিত নগরায়ণের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত নগরায়ণের ফলে ক্রমবর্ধমান বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বাংলাদেশে আরও নির্ভুল বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অধিক বিনিয়োগ এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, সময়োপযোগী পূর্বাভাস প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। তাই দেশের বন্যা পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তার মতে, নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস পাওয়া গেলে পানি জমার আগেই ড্রেনেজ পাম্প চালু করা, জরুরি সেবা সক্রিয় করা এবং মানুষকে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, কার্যকর আবহাওয়া রাডার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পূর্বাভাস সক্ষমতা ও জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ভারী বৃষ্টির সময় অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য ঢাকা শহরের খাল, জলাভূমি ও আশপাশের জলাধার পুনঃসংযুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি নগর পানি ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণ করা উচিত। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে রাজধানীর প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাভূমি পুনরুদ্ধার, রিটেনশন পুকুর নির্মাণ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেন। তার মতে, বৃষ্টির পানিকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে সরকারি ও বেসরকারি ভবনে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু করলে তা জলাবদ্ধতা ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের (আইডব্লিউএফএম) অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে নগর বন্যা, নদীবন্যা, পাহাড়ি ঢলসহ বিভিন্ন ধরনের বন্যা দেখা যায় এবং প্রতিটির জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক বন্যার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে একদিনে প্রায় ৪১৩ মিলিমিটার এবং তিন দিনে প্রায় ৮৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা নিষ্কাশন ব্যবস্থার ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের অতি ভারী বৃষ্টিপাত ঘন ঘন ঘটছে।

অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, অতিবৃষ্টির পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল দখল এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নগর এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। আবর্জনা জমে ড্রেনগুলোর পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে, তাই নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া নতুন ড্রেন নির্মাণ কার্যকর হবে না। বিশেষজ্ঞরা নগর মহাপরিকল্পনা, ভবন নির্মাণবিধি ও জোনিং নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়ন এবং ড্রেনেজ অবকাঠামো ও বাঁধের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। নির্ভুল পূর্বাভাস, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমেই পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রেক্ষাপটে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন সম্ভব বলে তারা মত দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘরের মাঠে ৩ প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, সূচি প্রকাশ

বন্যা মোকাবিলায় উন্নত পূর্বাভাস ও পরিকল্পিত নগরায়ণের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪৬:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত নগরায়ণের ফলে ক্রমবর্ধমান বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বাংলাদেশে আরও নির্ভুল বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অধিক বিনিয়োগ এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, সময়োপযোগী পূর্বাভাস প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। তাই দেশের বন্যা পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তার মতে, নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস পাওয়া গেলে পানি জমার আগেই ড্রেনেজ পাম্প চালু করা, জরুরি সেবা সক্রিয় করা এবং মানুষকে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, কার্যকর আবহাওয়া রাডার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পূর্বাভাস সক্ষমতা ও জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ভারী বৃষ্টির সময় অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য ঢাকা শহরের খাল, জলাভূমি ও আশপাশের জলাধার পুনঃসংযুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি নগর পানি ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণ করা উচিত। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে রাজধানীর প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাভূমি পুনরুদ্ধার, রিটেনশন পুকুর নির্মাণ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেন। তার মতে, বৃষ্টির পানিকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে সরকারি ও বেসরকারি ভবনে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু করলে তা জলাবদ্ধতা ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের (আইডব্লিউএফএম) অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে নগর বন্যা, নদীবন্যা, পাহাড়ি ঢলসহ বিভিন্ন ধরনের বন্যা দেখা যায় এবং প্রতিটির জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক বন্যার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে একদিনে প্রায় ৪১৩ মিলিমিটার এবং তিন দিনে প্রায় ৮৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা নিষ্কাশন ব্যবস্থার ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের অতি ভারী বৃষ্টিপাত ঘন ঘন ঘটছে।

অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, অতিবৃষ্টির পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল দখল এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নগর এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। আবর্জনা জমে ড্রেনগুলোর পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে, তাই নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া নতুন ড্রেন নির্মাণ কার্যকর হবে না। বিশেষজ্ঞরা নগর মহাপরিকল্পনা, ভবন নির্মাণবিধি ও জোনিং নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়ন এবং ড্রেনেজ অবকাঠামো ও বাঁধের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। নির্ভুল পূর্বাভাস, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমেই পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রেক্ষাপটে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন সম্ভব বলে তারা মত দেন।