লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক বছরে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমল প্রায় ৫০০ কোটি টাকা

বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত ও মুনাফা উভয় সূচকেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংকের কার্যক্রম: প্রবণতা ও পরিচালনাগত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে এসব ব্যাংকের সম্মিলিত মুনাফা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বা সাড়ে ১৭ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি মোট আমানতের পরিমাণও ১১১ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে। তবে ব্যাংকগুলোর আমানত ও মুনাফা কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুন শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৮৭ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। মুনাফার ক্ষেত্রে চিত্রটি আরও স্পষ্ট; গত জুন শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত মুনাফা কমে ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এই মুনাফা ছিল ২ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে মুনাফা কমেছে ৪৯৪ কোটি টাকা।

বর্তমানে বাংলাদেশে ৯টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৬৭টি শাখা ও ৬টি উপশাখার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ, সিটিব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, উরি ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং ব্যাংক আলফালাহ।

বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের একটি বড় অংশ আসে কম সুদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে, যার পরিমাণ জুন শেষে ছিল ৩২ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমানত রয়েছে বিদেশি মুদ্রার হিসাবে ১৭ হাজার ৮৮ কোটি টাকা এবং মেয়াদি বা স্থায়ী আমানত রয়েছে ১২ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। সাধারণত স্থায়ী আমানতে সুদহার বেশি থাকলেও বিদেশি ব্যাংকগুলোতে এ ধরনের আমানত তুলনামূলক কম থাকে।

আমানত কমলেও ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বিদেশি ব্যাংকগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গত জুন শেষে এসব ব্যাংকের সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের জুন শেষে ছিল ৪৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। এক বছরে ব্যাংকগুলোর ঋণ বেড়েছে ৩৪৯ কোটি টাকা। ঋণের বড় একটি অংশ শিল্প খাতে নিয়োজিত, যার পরিমাণ ২৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। তবে পরিবহন ও নির্মাণ খাতে তাদের ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে কম; জুন শেষে পরিবহন খাতে ১০ কোটি এবং নির্মাণ খাতে ৪২৮ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এক বছরে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমল প্রায় ৫০০ কোটি টাকা

এক বছরে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমল প্রায় ৫০০ কোটি টাকা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৪০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত ও মুনাফা উভয় সূচকেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংকের কার্যক্রম: প্রবণতা ও পরিচালনাগত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে এসব ব্যাংকের সম্মিলিত মুনাফা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বা সাড়ে ১৭ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি মোট আমানতের পরিমাণও ১১১ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে। তবে ব্যাংকগুলোর আমানত ও মুনাফা কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুন শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৮৭ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। মুনাফার ক্ষেত্রে চিত্রটি আরও স্পষ্ট; গত জুন শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত মুনাফা কমে ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এই মুনাফা ছিল ২ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে মুনাফা কমেছে ৪৯৪ কোটি টাকা।

বর্তমানে বাংলাদেশে ৯টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৬৭টি শাখা ও ৬টি উপশাখার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ, সিটিব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, উরি ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং ব্যাংক আলফালাহ।

বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের একটি বড় অংশ আসে কম সুদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে, যার পরিমাণ জুন শেষে ছিল ৩২ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমানত রয়েছে বিদেশি মুদ্রার হিসাবে ১৭ হাজার ৮৮ কোটি টাকা এবং মেয়াদি বা স্থায়ী আমানত রয়েছে ১২ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। সাধারণত স্থায়ী আমানতে সুদহার বেশি থাকলেও বিদেশি ব্যাংকগুলোতে এ ধরনের আমানত তুলনামূলক কম থাকে।

আমানত কমলেও ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বিদেশি ব্যাংকগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গত জুন শেষে এসব ব্যাংকের সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের জুন শেষে ছিল ৪৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। এক বছরে ব্যাংকগুলোর ঋণ বেড়েছে ৩৪৯ কোটি টাকা। ঋণের বড় একটি অংশ শিল্প খাতে নিয়োজিত, যার পরিমাণ ২৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। তবে পরিবহন ও নির্মাণ খাতে তাদের ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে কম; জুন শেষে পরিবহন খাতে ১০ কোটি এবং নির্মাণ খাতে ৪২৮ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।