লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি হুমায়ুন কবির আর নেই

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবির ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

কুমিল্লার কৃতী এই সন্তান কৈশোরেই দেশের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে দশম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন তিনি ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং পরবর্তীতে গণিতে এম.এসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে গণিতের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করেন। ১৯৮৮ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই কর্মকর্তা রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশ, ঢাকা রেঞ্জ ও বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবেও তিনি দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন।

রাঙামাটি জেলায় পুলিশ সুপার থাকাকালে ৪০ একর জমিতে 'সুখীনীলগঞ্জ' বন সৃজন করে তিনি জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় পুরস্কার অর্জন করেন এবং 'বৃক্ষপ্রেমী পুলিশ কর্মকর্তা' হিসেবে পরিচিতি পান। হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি থাকাকালীন সারা দেশে ৩১টি হাইওয়ে আউটপোস্টের জন্য প্রায় ৩০ একর জমি বিনামূল্যে সংগ্রহ করেন, যার আনুমানিক মূল্য ৩০০ কোটি টাকা। সততা ও দূরদর্শিতার সাথে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালে তিনি বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

মরহুমের জানাজা আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের এসআই শিরু মিয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইস্তাম্বুল জাস্টিস সামিটে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব ভাগের আহ্বান আইনমন্ত্রীর

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি হুমায়ুন কবির আর নেই

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবির ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

কুমিল্লার কৃতী এই সন্তান কৈশোরেই দেশের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে দশম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন তিনি ২য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং পরবর্তীতে গণিতে এম.এসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে গণিতের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করেন। ১৯৮৮ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই কর্মকর্তা রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশ, ঢাকা রেঞ্জ ও বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবেও তিনি দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন।

রাঙামাটি জেলায় পুলিশ সুপার থাকাকালে ৪০ একর জমিতে 'সুখীনীলগঞ্জ' বন সৃজন করে তিনি জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় পুরস্কার অর্জন করেন এবং 'বৃক্ষপ্রেমী পুলিশ কর্মকর্তা' হিসেবে পরিচিতি পান। হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি থাকাকালীন সারা দেশে ৩১টি হাইওয়ে আউটপোস্টের জন্য প্রায় ৩০ একর জমি বিনামূল্যে সংগ্রহ করেন, যার আনুমানিক মূল্য ৩০০ কোটি টাকা। সততা ও দূরদর্শিতার সাথে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালে তিনি বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

মরহুমের জানাজা আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের এসআই শিরু মিয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।