লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিঠামইনে বিয়ের বহরে অটোরিকশাচালকদের হামলা, পুলিশসহ আহত ১৫

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতি ও স্বজনদের নিয়ে ফেরার পথে অটোরিকশাচালকদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার কাটখাল গরুর হাট এলাকায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। হামলা চলাকালে কনের পরিবারের সদস্যদের মারধরসহ টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ অক্টোবর মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের রানীগঞ্জ এলাকার স্বপন মিয়ার সঙ্গে বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের জোনাকি আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। শনিবার দুপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা এবং খাওয়া-দাওয়া শেষে কনের স্বজনেরা নবদম্পতিকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। বিকেলে তাদের বহনকারী অটোরিকশাটি কাটখাল গরুর হাট এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে চরকাটখাল এলাকার অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া তাদের সঙ্গে থাকা এক স্বজনকে ধাক্কা দেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে দয়াল মিয়া ও তাঁর সহযোগী অটোরিকশাচালকেরা একজোট হয়ে কনের পরিবারের ওপর হামলা চালান। এতে কনের পক্ষের অন্তত ১৪ জন স্বজন আহত হন।

ঘটনার খবর পেয়ে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু হামলাকারীরা পুলিশের ওপরও চড়াও হয় এবং আক্রমণ চালায়। অটোরিকশাচালকদের এই হামলায় মো. কাউসার মিয়া নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।

বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করে জানান, গরুর হাট এলাকার অটোরিকশা স্ট্যান্ডটি মূলত চালক দয়াল মিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন। এলাকা জুড়ে তাঁর বেশ প্রভাব রয়েছে। দয়াল মিয়ার নেতৃত্বেই কনের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের ওপর অতর্কিত এই হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে হামলাকারীরা স্বজনদের কাছে থাকা নগদ টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কারও ছিনিয়ে নেয়। আহত ১৪ জন স্বজনকে চিকিৎসার জন্য মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হচ্ছে।

তবে কনের পরিবারের আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দয়াল মিয়ার স্ত্রী রূপ নাহার। তিনি পাল্টা দাবি করে বলেন, মাইজচরের লোকজন বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে সাইড নেওয়ার জন্য তাঁর স্বামী অটোরিকশার হর্ন বাজিয়েছিলেন। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাইজচরের লোকজনই প্রথম তাঁর স্বামীর ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন। বর্তমানে তাঁর স্বামীও আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুরো বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল গাফফার জানান, দুপক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়েই ফাঁড়ির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একপর্যায়ে দয়াল মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা পুলিশের ওপরও হামলা চালান। ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগতি করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে বিয়ের বহরে অটোরিকশাচালকদের হামলা, পুলিশসহ আহত ১৫

মিঠামইনে বিয়ের বহরে অটোরিকশাচালকদের হামলা, পুলিশসহ আহত ১৫

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:১৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতি ও স্বজনদের নিয়ে ফেরার পথে অটোরিকশাচালকদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার কাটখাল গরুর হাট এলাকায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। হামলা চলাকালে কনের পরিবারের সদস্যদের মারধরসহ টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ অক্টোবর মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের রানীগঞ্জ এলাকার স্বপন মিয়ার সঙ্গে বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের জোনাকি আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। শনিবার দুপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা এবং খাওয়া-দাওয়া শেষে কনের স্বজনেরা নবদম্পতিকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। বিকেলে তাদের বহনকারী অটোরিকশাটি কাটখাল গরুর হাট এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে চরকাটখাল এলাকার অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া তাদের সঙ্গে থাকা এক স্বজনকে ধাক্কা দেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে দয়াল মিয়া ও তাঁর সহযোগী অটোরিকশাচালকেরা একজোট হয়ে কনের পরিবারের ওপর হামলা চালান। এতে কনের পক্ষের অন্তত ১৪ জন স্বজন আহত হন।

ঘটনার খবর পেয়ে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু হামলাকারীরা পুলিশের ওপরও চড়াও হয় এবং আক্রমণ চালায়। অটোরিকশাচালকদের এই হামলায় মো. কাউসার মিয়া নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।

বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করে জানান, গরুর হাট এলাকার অটোরিকশা স্ট্যান্ডটি মূলত চালক দয়াল মিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন। এলাকা জুড়ে তাঁর বেশ প্রভাব রয়েছে। দয়াল মিয়ার নেতৃত্বেই কনের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের ওপর অতর্কিত এই হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে হামলাকারীরা স্বজনদের কাছে থাকা নগদ টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কারও ছিনিয়ে নেয়। আহত ১৪ জন স্বজনকে চিকিৎসার জন্য মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হচ্ছে।

তবে কনের পরিবারের আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দয়াল মিয়ার স্ত্রী রূপ নাহার। তিনি পাল্টা দাবি করে বলেন, মাইজচরের লোকজন বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে সাইড নেওয়ার জন্য তাঁর স্বামী অটোরিকশার হর্ন বাজিয়েছিলেন। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাইজচরের লোকজনই প্রথম তাঁর স্বামীর ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন। বর্তমানে তাঁর স্বামীও আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুরো বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল গাফফার জানান, দুপক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়েই ফাঁড়ির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একপর্যায়ে দয়াল মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা পুলিশের ওপরও হামলা চালান। ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগতি করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।