লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পোশাকশ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান মালিকদের

পোশাকখাত ও কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে এবং নতুন গঠিত মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রেখে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। তারা বলেছেন, শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির মতো স্পর্শকাতর বিষয়টি কোনো বিশৃঙ্খলা বা রেষারেষির মাধ্যমে নয়, বরং নির্দিষ্ট ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক বক্তব্যে বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক জানান, মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধৈর্য ধরতে হবে। আগের নিয়ম তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পর পর মজুরি বোর্ড পর্যালোচনার বিধান থাকলেও ২০২১ সালে মজুরি বোর্ড গঠনের সময় পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর বাধ্যতামূলকভাবে পাঁচ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সেই সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর নির্ধারণ করে এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার বাড়িয়ে নয় শতাংশ করে। তৎকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কারখানা মালিকেরা শ্রমিকদের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন।

আগামী জানুয়ারিতে সেই তিন বছরের সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে ফজলুল হক বলেন, বেতন বাড়ানো নিয়ে যেকোনো দাবি রাজপথের মিছিল বা আন্দোলনের বদলে নির্ধারিত নিয়মে মেটাতে হবে। শ্রমিকদের কষ্টের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের দুজন করে প্রতিনিধি এবং সরকারের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাই এই বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখা প্রয়োজন। একইসঙ্গে শুধু বেতন বাড়ানোর দাবি তুললেই হবে না, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সেই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করার ক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার ওপর তিনি জোর দেন।

কারখানা বন্ধের চিত্র সম্পর্কে ফজলুল হক জানান, এ বিষয়ে নানা ধরনের তথ্য পাওয়া গেলেও উত্তরা এলাকায় আট থেকে দশ দিন আগেই বিচ্ছিন্ন মিছিলের মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষের কিছু পূর্বাভাস দেখা গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি।

অন্যদিকে, বিকেএমইএর বর্তমান কমিটির নির্বাহী সভাপতি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তাই এই মুহূর্তে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণগুলো চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পেছনে কী ধরনের দাবি বা উদ্দেশ্য কাজ করছে, তা স্পষ্টভাবে জানার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

ফজলুল হক বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর মজুরি বোর্ড পর্যালোচনার বিধান ছিল। ২০২১ সালে সর্বশেষ মজুরি বোর্ড গঠনের সময় ৫ বছর ধরে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাধ্যতামূলক বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এ সময়সীমা ৫ বছর থেকে কমিয়ে ৩ বছর করে এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ

কারখানা বন্ধের সংখ্যা সম্পর্কে ফজলুল হক বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে উত্তরা এলাকায় আট থেকে ১০ দিন আগেই বিচ্ছিন্ন মিছিলের মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষের কিছু পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এ মুহূর্তে মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সংকট ও বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা

বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পোশাকশ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান মালিকদের

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

পোশাকখাত ও কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে এবং নতুন গঠিত মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রেখে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। তারা বলেছেন, শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির মতো স্পর্শকাতর বিষয়টি কোনো বিশৃঙ্খলা বা রেষারেষির মাধ্যমে নয়, বরং নির্দিষ্ট ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক বক্তব্যে বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক জানান, মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধৈর্য ধরতে হবে। আগের নিয়ম তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পর পর মজুরি বোর্ড পর্যালোচনার বিধান থাকলেও ২০২১ সালে মজুরি বোর্ড গঠনের সময় পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর বাধ্যতামূলকভাবে পাঁচ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সেই সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর নির্ধারণ করে এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার বাড়িয়ে নয় শতাংশ করে। তৎকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কারখানা মালিকেরা শ্রমিকদের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন।

আগামী জানুয়ারিতে সেই তিন বছরের সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে ফজলুল হক বলেন, বেতন বাড়ানো নিয়ে যেকোনো দাবি রাজপথের মিছিল বা আন্দোলনের বদলে নির্ধারিত নিয়মে মেটাতে হবে। শ্রমিকদের কষ্টের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের দুজন করে প্রতিনিধি এবং সরকারের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাই এই বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখা প্রয়োজন। একইসঙ্গে শুধু বেতন বাড়ানোর দাবি তুললেই হবে না, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সেই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করার ক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার ওপর তিনি জোর দেন।

কারখানা বন্ধের চিত্র সম্পর্কে ফজলুল হক জানান, এ বিষয়ে নানা ধরনের তথ্য পাওয়া গেলেও উত্তরা এলাকায় আট থেকে দশ দিন আগেই বিচ্ছিন্ন মিছিলের মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষের কিছু পূর্বাভাস দেখা গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি।

অন্যদিকে, বিকেএমইএর বর্তমান কমিটির নির্বাহী সভাপতি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তাই এই মুহূর্তে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণগুলো চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পেছনে কী ধরনের দাবি বা উদ্দেশ্য কাজ করছে, তা স্পষ্টভাবে জানার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

ফজলুল হক বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর মজুরি বোর্ড পর্যালোচনার বিধান ছিল। ২০২১ সালে সর্বশেষ মজুরি বোর্ড গঠনের সময় ৫ বছর ধরে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাধ্যতামূলক বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এ সময়সীমা ৫ বছর থেকে কমিয়ে ৩ বছর করে এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ

কারখানা বন্ধের সংখ্যা সম্পর্কে ফজলুল হক বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে উত্তরা এলাকায় আট থেকে ১০ দিন আগেই বিচ্ছিন্ন মিছিলের মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষের কিছু পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এ মুহূর্তে মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্