লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠা সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা দেশ ছেড়েছেন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এক আসামিকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার দেশ ছেড়েছেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ৩১ অক্টোবর দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সাইমুম রেজা তালুকদারের বিদেশভ্রমণের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তাই তিনি কোথায় যাচ্ছেন বা যাবেন না, সে বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের কিছু করার নেই।

ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শহরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিনে মুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে তাঁর পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা চেয়েছিলেন তৎকালীন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার। প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ গত ১০ মার্চ এ বিষয়ে একটি যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগের দিন, অর্থাৎ ৯ মার্চ সাইমুম রেজা তালুকদার পদত্যাগ করেন।

প্রতিবেদন প্রকাশের দিনই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় ঘটনাটি তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে, যার প্রধান ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন যে, আট মাসেও কেন তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং এটি কি অভিযুক্তকে দেশ ছাড়ার সুযোগ করে দিয়েছে কি না। জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এটি সঠিক নয়। কমিটির কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে আছে এবং তাঁরা প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন।

আমিনুল ইসলাম জানান, কমিটির একজন সদস্য দীর্ঘ সময় অসুস্থ ছিলেন, তিনি নিজেও কিছু দিন বিদেশে ছিলেন এবং অন্য একজন প্রসিকিউটরের মা মারা যাওয়ায় তিনিও দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। এসব কারণে প্রতিবেদন দিতে দেরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘুষ চাওয়া ও দেওয়া উভয়ই অপরাধ এবং যাঁরা ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাঁরাও সমভাবে দায়ী। চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, তিনি ট্রাইব্যুনালে যোগদানের এক মাসের মধ্যেই সাইমুম রেজার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তিনি পদত্যাগ করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্রব্যমূল্যের চাপে দিশাহারা সাধারণ মানুষ: আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম

ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠা সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা দেশ ছেড়েছেন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এক আসামিকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার দেশ ছেড়েছেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ৩১ অক্টোবর দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সাইমুম রেজা তালুকদারের বিদেশভ্রমণের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তাই তিনি কোথায় যাচ্ছেন বা যাবেন না, সে বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের কিছু করার নেই।

ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শহরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিনে মুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে তাঁর পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা চেয়েছিলেন তৎকালীন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার। প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ গত ১০ মার্চ এ বিষয়ে একটি যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগের দিন, অর্থাৎ ৯ মার্চ সাইমুম রেজা তালুকদার পদত্যাগ করেন।

প্রতিবেদন প্রকাশের দিনই চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় ঘটনাটি তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে, যার প্রধান ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন যে, আট মাসেও কেন তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং এটি কি অভিযুক্তকে দেশ ছাড়ার সুযোগ করে দিয়েছে কি না। জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এটি সঠিক নয়। কমিটির কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে আছে এবং তাঁরা প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন।

আমিনুল ইসলাম জানান, কমিটির একজন সদস্য দীর্ঘ সময় অসুস্থ ছিলেন, তিনি নিজেও কিছু দিন বিদেশে ছিলেন এবং অন্য একজন প্রসিকিউটরের মা মারা যাওয়ায় তিনিও দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। এসব কারণে প্রতিবেদন দিতে দেরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘুষ চাওয়া ও দেওয়া উভয়ই অপরাধ এবং যাঁরা ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাঁরাও সমভাবে দায়ী। চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, তিনি ট্রাইব্যুনালে যোগদানের এক মাসের মধ্যেই সাইমুম রেজার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তিনি পদত্যাগ করেছেন।