লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি, দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট

কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে স্থাপিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির ফলে সারা দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। টার্মিনালটির একটি ইউনিটে সমস্যা দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। গত শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত এই ত্রুটি পুরোপুরি মেরামত করা সম্ভব হয়নি।

এই সরবরাহ ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আবাসিক গ্রাহক, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে। আবাসিক গ্রাহকদের দৈনন্দিন রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা বা এলপিজি সিলিন্ডারের মতো বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ সারি; ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পাওয়ায় চালকদের দৈনিক আয় কমে গেছে এবং যাত্রী পরিবহন সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

শিল্পকারখানাগুলোতেও উৎপাদন সংকটের মুখে পড়েছে। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ চালাতে পারছে না, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তিতাসের অপারেশন ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান জানান, বর্তমানে তারা প্রায় ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাচ্ছেন, যেখানে তিতাসের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তিনি জানান, এফএসআরইউ নষ্ট হওয়ার আগে তিতাসকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হতো। এর মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে চলে যায়। ফলে অন্যান্য খাতের জন্য থাকে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে প্রয়োজন কমপক্ষে ১ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ কারণে এফএসআরইউ সচল হলেও ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থেকে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, সমস্যা সমাধানে কারিগরি বিশেষজ্ঞরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছেন এবং সীমিত গ্যাস সরবরাহের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা মহেশখালীর এই জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও বিকল্প ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন খান ও আব্দুল মান্নান উল্লেখ করেন, জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পগুলোতে ত্রুটি দেখা দিলে পুরো দেশে প্রভাব পড়ে, তাই দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, সংকট মোকাবিলায় কমপক্ষে ১৫ দিনের গ্যাস মজুত সক্ষমতা, আরেকটি এফএসআরইউ এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি অবকাঠামো প্রয়োজন। আমদানিকৃত এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে না পারার কারণেই বর্তমান এই বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি, দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৫৯:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে স্থাপিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির ফলে সারা দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। টার্মিনালটির একটি ইউনিটে সমস্যা দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। গত শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত এই ত্রুটি পুরোপুরি মেরামত করা সম্ভব হয়নি।

এই সরবরাহ ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আবাসিক গ্রাহক, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে। আবাসিক গ্রাহকদের দৈনন্দিন রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা বা এলপিজি সিলিন্ডারের মতো বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ সারি; ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পাওয়ায় চালকদের দৈনিক আয় কমে গেছে এবং যাত্রী পরিবহন সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

শিল্পকারখানাগুলোতেও উৎপাদন সংকটের মুখে পড়েছে। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ চালাতে পারছে না, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তিতাসের অপারেশন ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান জানান, বর্তমানে তারা প্রায় ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাচ্ছেন, যেখানে তিতাসের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তিনি জানান, এফএসআরইউ নষ্ট হওয়ার আগে তিতাসকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হতো। এর মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে চলে যায়। ফলে অন্যান্য খাতের জন্য থাকে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে প্রয়োজন কমপক্ষে ১ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ কারণে এফএসআরইউ সচল হলেও ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থেকে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, সমস্যা সমাধানে কারিগরি বিশেষজ্ঞরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছেন এবং সীমিত গ্যাস সরবরাহের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা মহেশখালীর এই জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও বিকল্প ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন খান ও আব্দুল মান্নান উল্লেখ করেন, জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পগুলোতে ত্রুটি দেখা দিলে পুরো দেশে প্রভাব পড়ে, তাই দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, সংকট মোকাবিলায় কমপক্ষে ১৫ দিনের গ্যাস মজুত সক্ষমতা, আরেকটি এফএসআরইউ এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি অবকাঠামো প্রয়োজন। আমদানিকৃত এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে না পারার কারণেই বর্তমান এই বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।