লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিডিও কলে স্বামীর সঙ্গে কথা বলার পর গৃহবধূর বিষপান, ঢামেকে মৃত্যু

বরিশালের গৌরনদীতে প্রবাসী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যে বিষপান করা এক সন্তানের জননী ঝুমুর খানম সেতু (২৭) মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে রবিবার রাতে স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার পর তিনি বিষপান করেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

নিহত ঝুমুর খানম সেতু বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী এলাকার মৃত হারুন কাজীর ছেলে শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। এই দম্পতির চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে বাবার বাড়িতে বিষপান করেন ঝুমুর। স্বজনরা তাকে প্রথমে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সোমবার বেলা ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় পাঠান। অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঝুমুরের বাবা আব্দুল করিম খানের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক হিসেবে পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, বরযাত্রীর সংখ্যা আশানুরূপ না হওয়া এবং মেয়ের চেহারা নিয়ে কটূক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে তার ওপর মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। একপর্যায়ে ঝুমুরকে তার শিশুকন্যাসহ শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলে তিনি বাবার বাড়িতে এসে বসবাস শুরু করেন। জীবিকার তাগিদে স্বামী শাহারিয়া কাজী কুয়েতে চলে গেলেও দূর থেকেই স্ত্রীর ওপর নির্যাতন অব্যাহত রাখেন।

আব্দুল করিম খান আরও অভিযোগ করেন, শাহারিয়ারের মা রুনু বেগম, বোন নাজমিন বেগম, শারমিন ও রিয়া এবং বোনজামাই সাইদুল হাওলাদারের প্ররোচনায় ঝুমুরকে প্রতিনিয়ত নির্যাতন সহ্য করতে হতো। ঘটনার রাতে স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় ঝুমুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং একপর্যায়ে বিষপান করে মারা যেতে বলা হয়। এরপরই সবার অজান্তে বিষপান করেন ঝুমুর। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন নিহতের বাবা। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহারিয়া কাজীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেঘনায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, চাল পাবেন ৪২ হাজার জেলে

ভিডিও কলে স্বামীর সঙ্গে কথা বলার পর গৃহবধূর বিষপান, ঢামেকে মৃত্যু

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৩:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

বরিশালের গৌরনদীতে প্রবাসী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যে বিষপান করা এক সন্তানের জননী ঝুমুর খানম সেতু (২৭) মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে রবিবার রাতে স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার পর তিনি বিষপান করেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

নিহত ঝুমুর খানম সেতু বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী এলাকার মৃত হারুন কাজীর ছেলে শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। এই দম্পতির চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে বাবার বাড়িতে বিষপান করেন ঝুমুর। স্বজনরা তাকে প্রথমে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সোমবার বেলা ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় পাঠান। অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঝুমুরের বাবা আব্দুল করিম খানের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক হিসেবে পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, বরযাত্রীর সংখ্যা আশানুরূপ না হওয়া এবং মেয়ের চেহারা নিয়ে কটূক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে তার ওপর মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। একপর্যায়ে ঝুমুরকে তার শিশুকন্যাসহ শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলে তিনি বাবার বাড়িতে এসে বসবাস শুরু করেন। জীবিকার তাগিদে স্বামী শাহারিয়া কাজী কুয়েতে চলে গেলেও দূর থেকেই স্ত্রীর ওপর নির্যাতন অব্যাহত রাখেন।

আব্দুল করিম খান আরও অভিযোগ করেন, শাহারিয়ারের মা রুনু বেগম, বোন নাজমিন বেগম, শারমিন ও রিয়া এবং বোনজামাই সাইদুল হাওলাদারের প্ররোচনায় ঝুমুরকে প্রতিনিয়ত নির্যাতন সহ্য করতে হতো। ঘটনার রাতে স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় ঝুমুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং একপর্যায়ে বিষপান করে মারা যেতে বলা হয়। এরপরই সবার অজান্তে বিষপান করেন ঝুমুর। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন নিহতের বাবা। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহারিয়া কাজীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।