লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা: সৌদি আরবের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা

সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব কীভাবে জবাব দেবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হওয়া সবচেয়ে মারাত্মক হামলার ঘটনা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে রিয়াদ। গত শনিবার সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এর একদিন পর রোববার আবারও একই বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে তারা। এই হামলার পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালেদ বিন সালমানের সামনে বিকল্প সীমিত হয়ে এসেছে।

হুথিরা এখন সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করতে সৌদি আরব গত সপ্তাহে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করলেও হুথিরা তাদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। উল্টো তারা হামলা আরও জোরদার করেছে। সামরিক অভিযান ও আলোচনার মাধ্যমে ১১ বছর ধরে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়েও রিয়াদ খুব একটা সফল হয়নি।

সৌদি আরবের রাজনীতি নিয়ে ধারণা রাখা লেখক আলী শিহাবি সিএনএনকে বলেছেন, এই হুমকি চূড়ান্তভাবে মোকাবিলা করতে হবে এবং এর জন্য ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর স্থলপথে সাফল্য জরুরি, যেখানে সৌদি আরব আকাশপথে ব্যাপক সহায়তা দিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সরাসরি বড় আকারে স্থলযুদ্ধে সেনা মোতায়েন থেকে বিরত থেকেছে সৌদি আরব। ইয়েমেনে বিপুল সেনা পাঠানো ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, যা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের গড়ে তোলা আধুনিক ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে।

হুথিরা বর্তমানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ আধুনিক ও জটিল অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলি জানিয়েছেন, তাদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাপ শনাক্তকারী এবং আগের চেয়ে দ্রুতগতির। এছাড়া এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনভিত্তিক একটি গোষ্ঠী তাদের ক্লদ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের দিকনির্দেশনা সফটওয়্যার তৈরিতে সহায়তা নিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব মিত্রদের সহায়তা চেয়েছে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তান সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তুরস্কও বিষয়টি বিবেচনা করছে। এমনকি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকেও সহায়তার জন্য অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে সৌদি আরবের বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সরাসরি বিমান হামলায় অংশ নেয়নি, বরং গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের জন্য ১০০ জনের বেশি সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ দুবার কথা বললেও ট্রাম্প সরাসরি হামলায় সম্মত হননি, যদিও তিনি হুথিদের এই কর্মকাণ্ডকে ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন এবং ভবিষ্যতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা: সৌদি আরবের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হওয়া সবচেয়ে মারাত্মক হামলার ঘটনা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে রিয়াদ। গত শনিবার সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এর একদিন পর রোববার আবারও একই বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে তারা। এই হামলার পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালেদ বিন সালমানের সামনে বিকল্প সীমিত হয়ে এসেছে।

হুথিরা এখন সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করতে সৌদি আরব গত সপ্তাহে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করলেও হুথিরা তাদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। উল্টো তারা হামলা আরও জোরদার করেছে। সামরিক অভিযান ও আলোচনার মাধ্যমে ১১ বছর ধরে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়েও রিয়াদ খুব একটা সফল হয়নি।

সৌদি আরবের রাজনীতি নিয়ে ধারণা রাখা লেখক আলী শিহাবি সিএনএনকে বলেছেন, এই হুমকি চূড়ান্তভাবে মোকাবিলা করতে হবে এবং এর জন্য ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর স্থলপথে সাফল্য জরুরি, যেখানে সৌদি আরব আকাশপথে ব্যাপক সহায়তা দিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সরাসরি বড় আকারে স্থলযুদ্ধে সেনা মোতায়েন থেকে বিরত থেকেছে সৌদি আরব। ইয়েমেনে বিপুল সেনা পাঠানো ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, যা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের গড়ে তোলা আধুনিক ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে।

হুথিরা বর্তমানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ আধুনিক ও জটিল অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলি জানিয়েছেন, তাদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাপ শনাক্তকারী এবং আগের চেয়ে দ্রুতগতির। এছাড়া এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনভিত্তিক একটি গোষ্ঠী তাদের ক্লদ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের দিকনির্দেশনা সফটওয়্যার তৈরিতে সহায়তা নিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব মিত্রদের সহায়তা চেয়েছে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তান সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তুরস্কও বিষয়টি বিবেচনা করছে। এমনকি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকেও সহায়তার জন্য অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে সৌদি আরবের বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সরাসরি বিমান হামলায় অংশ নেয়নি, বরং গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের জন্য ১০০ জনের বেশি সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ দুবার কথা বললেও ট্রাম্প সরাসরি হামলায় সম্মত হননি, যদিও তিনি হুথিদের এই কর্মকাণ্ডকে ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন এবং ভবিষ্যতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।