লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাইন-ইলেভেন: যেভাবে বদলে গেল মুসলিমদের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ২২

২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ‘নাইন-ইলেভেন’ শব্দটি বিশ্বজুড়ে এক বিশেষ ঐতিহাসিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে রয়ে গেছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি ভবনে মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বিমান আঘাত হানে। এই নজিরবিহীন হামলা কেবল আমেরিকার বুকেই আঘাত করেনি, বরং মুসলিম সংগঠন ও নেতৃত্বের প্রতি দেশটির দৃষ্টিভঙ্গিও চিরতরে বদলে দিয়েছিল।

এই হামলার জন্য ওয়াশিংটন সরাসরি দায়ী করে ইসলামি চরমপন্থি দল আল-কায়েদা এবং এর প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে। এর পরদিনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। হামলার ঠিক পরের মাসেই আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ঘোষিত ‘ওয়ার অন টেরর’ বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের এটিই ছিল প্রথম ধাপ।

বুশের এই নীতি কেবল আফগানিস্তানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসন চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে ২০১১ সালে লিবিয়াতেও সামরিক অভিযান পরিচালনা করে দেশটির বাহিনী। ২০০১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট বুশ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ওয়ার অন টেরর’ পরিভাষাটি প্রথম ব্যবহার করেন। সেদিন বিশ্ববাসীকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আইদার ইউ আর উইথ আস, অর উইথ দেম’—অর্থাৎ এই লড়াইয়ে যেকোনো দেশকে হয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে থাকতে হবে, নয়তো সন্ত্রাসীদের পক্ষে।

যদিও নাইন-ইলেভেনের পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার দাবি করে এসেছেন যে, তাদের এই লড়াই কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং কেবল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। তবে মুসলিম বিশ্বের বহু মানুষের কাছে এই দাবির সত্যতা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নীতি এবং পরবর্তীতে মুসলিম দেশগুলোতে চালানো সামরিক অভিযানের বাস্তব রূপরেখার মধ্যে বড় ধরনের অমিল রয়েছে, যা মার্কিন ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ এজেন্ডার পেছনে থাকা উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন তুলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রাণ গেল ২০ বছর বয়সী যুবকের

নাইন-ইলেভেন: যেভাবে বদলে গেল মুসলিমদের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ২২

২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ‘নাইন-ইলেভেন’ শব্দটি বিশ্বজুড়ে এক বিশেষ ঐতিহাসিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে রয়ে গেছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি ভবনে মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বিমান আঘাত হানে। এই নজিরবিহীন হামলা কেবল আমেরিকার বুকেই আঘাত করেনি, বরং মুসলিম সংগঠন ও নেতৃত্বের প্রতি দেশটির দৃষ্টিভঙ্গিও চিরতরে বদলে দিয়েছিল।

এই হামলার জন্য ওয়াশিংটন সরাসরি দায়ী করে ইসলামি চরমপন্থি দল আল-কায়েদা এবং এর প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে। এর পরদিনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। হামলার ঠিক পরের মাসেই আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ঘোষিত ‘ওয়ার অন টেরর’ বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের এটিই ছিল প্রথম ধাপ।

বুশের এই নীতি কেবল আফগানিস্তানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসন চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে ২০১১ সালে লিবিয়াতেও সামরিক অভিযান পরিচালনা করে দেশটির বাহিনী। ২০০১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট বুশ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ওয়ার অন টেরর’ পরিভাষাটি প্রথম ব্যবহার করেন। সেদিন বিশ্ববাসীকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আইদার ইউ আর উইথ আস, অর উইথ দেম’—অর্থাৎ এই লড়াইয়ে যেকোনো দেশকে হয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে থাকতে হবে, নয়তো সন্ত্রাসীদের পক্ষে।

যদিও নাইন-ইলেভেনের পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার দাবি করে এসেছেন যে, তাদের এই লড়াই কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং কেবল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। তবে মুসলিম বিশ্বের বহু মানুষের কাছে এই দাবির সত্যতা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নীতি এবং পরবর্তীতে মুসলিম দেশগুলোতে চালানো সামরিক অভিযানের বাস্তব রূপরেখার মধ্যে বড় ধরনের অমিল রয়েছে, যা মার্কিন ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ এজেন্ডার পেছনে থাকা উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন তুলছে।