লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন ঋণের জন্য বাংলাদেশের সামনে আইএমএফের চারটি কঠিন শর্ত

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে বড় অঙ্কের নতুন ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সংস্থাটি মূলত রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের যথাযথ সংস্কার, ভর্তুকি কমানো ও যৌক্তিকীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে আগ্রহী।

আগামী ২৯ অক্টোবর আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে। তাদের এই দুই সপ্তাহের সফরে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পর্যালোচনার পাশাপাশি চলমান ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। এছাড়া, আইএমএফের আগের পাঁচটি কিস্তির শর্ত কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা যাচাই করবে প্রতিনিধিদলটি। এর আগে ১৩ থেকে ১৭ অক্টোবর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি রয়েছে। সরকার নতুন এই কর্মসূচির আওতায় ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা প্রত্যাশা করছে।

রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবারের আলোচনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘ সময় ধরে কম থাকায় সরকারের ব্যয় সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে, যা বাজেট ঘাটতি ও ঋণের চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আইএমএফের মূল্যায়নেও কম রাজস্ব আহরণকে অর্থনীতির একটি প্রধান দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংস্থাটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে করের আওতা বাড়ানো, কর প্রশাসনের সংস্কার এবং রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানতে চাইতে পারে।

ব্যাংক খাতের সংস্কার দ্বিতীয় বড় শর্ত। গত জুলাই মাসে বাংলাদেশ সফর শেষে আইএমএফ এই খাতের ওপর বিদ্যমান চাপের কথা জানিয়েছিল। এখন শুধু সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, খেলাপি ঋণ হ্রাস, মূলধন বৃদ্ধি এবং পরিচালনা পর্ষদে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের বাস্তব অগ্রগতি দেখতে চায় সংস্থাটি। অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা না কাটলে নতুন ঋণের অর্থ অর্থনীতিতে যথাযথ প্রভাব ফেলতে পারবে না।

ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা নতুন কর্মসূচিতে আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দামের অস্থিরতা এবং আমদানি ব্যয়ের কারণে সরকারের ভর্তুকির ওপর চাপ বেড়েছে। সরকার এরই মধ্যে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম সমন্বয় করেছে। যদিও সরকার দাবি করছে যে জ্বালানির দাম বাড়ানো আইএমএফের সরাসরি শর্ত নয়, তবে নতুন ঋণ আলোচনায় জ্বালানি মূল্য সমন্বয় এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণের বিষয়টি অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই শর্তগুলো বাস্তবায়নের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পরোক্ষভাবে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত সফর নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

নতুন ঋণের জন্য বাংলাদেশের সামনে আইএমএফের চারটি কঠিন শর্ত

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে বড় অঙ্কের নতুন ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সংস্থাটি মূলত রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের যথাযথ সংস্কার, ভর্তুকি কমানো ও যৌক্তিকীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে আগ্রহী।

আগামী ২৯ অক্টোবর আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে। তাদের এই দুই সপ্তাহের সফরে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পর্যালোচনার পাশাপাশি চলমান ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। এছাড়া, আইএমএফের আগের পাঁচটি কিস্তির শর্ত কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা যাচাই করবে প্রতিনিধিদলটি। এর আগে ১৩ থেকে ১৭ অক্টোবর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি রয়েছে। সরকার নতুন এই কর্মসূচির আওতায় ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা প্রত্যাশা করছে।

রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবারের আলোচনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘ সময় ধরে কম থাকায় সরকারের ব্যয় সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে, যা বাজেট ঘাটতি ও ঋণের চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আইএমএফের মূল্যায়নেও কম রাজস্ব আহরণকে অর্থনীতির একটি প্রধান দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংস্থাটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে করের আওতা বাড়ানো, কর প্রশাসনের সংস্কার এবং রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানতে চাইতে পারে।

ব্যাংক খাতের সংস্কার দ্বিতীয় বড় শর্ত। গত জুলাই মাসে বাংলাদেশ সফর শেষে আইএমএফ এই খাতের ওপর বিদ্যমান চাপের কথা জানিয়েছিল। এখন শুধু সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, খেলাপি ঋণ হ্রাস, মূলধন বৃদ্ধি এবং পরিচালনা পর্ষদে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের বাস্তব অগ্রগতি দেখতে চায় সংস্থাটি। অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা না কাটলে নতুন ঋণের অর্থ অর্থনীতিতে যথাযথ প্রভাব ফেলতে পারবে না।

ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা নতুন কর্মসূচিতে আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দামের অস্থিরতা এবং আমদানি ব্যয়ের কারণে সরকারের ভর্তুকির ওপর চাপ বেড়েছে। সরকার এরই মধ্যে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম সমন্বয় করেছে। যদিও সরকার দাবি করছে যে জ্বালানির দাম বাড়ানো আইএমএফের সরাসরি শর্ত নয়, তবে নতুন ঋণ আলোচনায় জ্বালানি মূল্য সমন্বয় এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণের বিষয়টি অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই শর্তগুলো বাস্তবায়নের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পরোক্ষভাবে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।