লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তি পেতে পারেন কারাবন্দি ইমরান খান

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে স্বাস্থ্যগত কারণে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশটির চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যেই তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় এই প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র এবং ইমরান খানের পরিবারের সদস্যরা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানকে এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থেই এই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার অবসান প্রয়োজন, কারণ দীর্ঘস্থায়ী এই পরিস্থিতি দেশটির অপূরণীয় ক্ষতি করছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তিন বছর ধরে বন্দি রয়েছেন। ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি, যদিও বিশ্লেষকদের মতে, মূলত শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধই তার কারাবাসের মূল কারণ।

আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী মুক্তি পাওয়ার জন্য সাধারণত সুনির্দিষ্ট কারণ প্রয়োজন হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তি দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে তার চোখে অস্ত্রোপচারও হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যা নিয়ে তারা চরম উদ্বিগ্ন। এমনকি সম্প্রতি তার মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল।

ইমরান খানের দুই ছেলে সুলায়মান খান ও কাসিম খান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের কারাবাসে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সাইয়েদ জুলফি বুখারি জানান, ইমরান খানকে একাকী বন্দি করে রাখা হয়েছে এবং তার জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। এমনকি তার বোন, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদেরও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। সরকার সামান্য দায়িত্বশীল হলেও স্বাস্থ্যগত কারণে তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধের জেরে কারাবন্দি থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সমঝোতা হলে ইমরান খানের ক্ষেত্রে দেশত্যাগ, রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় থাকা বা কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়ার মতো কঠোর শর্ত থাকতে পারে।

তবে পাকিস্তানের ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত এমন শর্ত মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মানবাধিকার আইনজীবী ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথ জানান, ইমরান খান অত্যন্ত একগুঁয়ে স্বভাবের মানুষ। ক্রিকেট মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষিপ্রগতির বোলারদের মুখোমুখি হতেও তিনি কখনো হেলমেট পরেননি। ফলে রাজনৈতিক মুক্তির এমন কঠোর শর্ত তিনি মানবেন না বলেই মনে হয়। তবে ব্যক্তিগত বন্ধু হিসেবে তিনি চাইলেও, ইমরান খান শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন সেটিই এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহেশপুরে এক রাতেই ৪ কৃষকের সেচপাম্প চুরি

স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তি পেতে পারেন কারাবন্দি ইমরান খান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩১:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে স্বাস্থ্যগত কারণে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশটির চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যেই তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় এই প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র এবং ইমরান খানের পরিবারের সদস্যরা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানকে এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থেই এই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার অবসান প্রয়োজন, কারণ দীর্ঘস্থায়ী এই পরিস্থিতি দেশটির অপূরণীয় ক্ষতি করছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তিন বছর ধরে বন্দি রয়েছেন। ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি, যদিও বিশ্লেষকদের মতে, মূলত শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধই তার কারাবাসের মূল কারণ।

আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী মুক্তি পাওয়ার জন্য সাধারণত সুনির্দিষ্ট কারণ প্রয়োজন হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তি দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে তার চোখে অস্ত্রোপচারও হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যা নিয়ে তারা চরম উদ্বিগ্ন। এমনকি সম্প্রতি তার মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল।

ইমরান খানের দুই ছেলে সুলায়মান খান ও কাসিম খান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের কারাবাসে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সাইয়েদ জুলফি বুখারি জানান, ইমরান খানকে একাকী বন্দি করে রাখা হয়েছে এবং তার জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। এমনকি তার বোন, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদেরও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। সরকার সামান্য দায়িত্বশীল হলেও স্বাস্থ্যগত কারণে তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধের জেরে কারাবন্দি থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সমঝোতা হলে ইমরান খানের ক্ষেত্রে দেশত্যাগ, রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় থাকা বা কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়ার মতো কঠোর শর্ত থাকতে পারে।

তবে পাকিস্তানের ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত এমন শর্ত মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মানবাধিকার আইনজীবী ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথ জানান, ইমরান খান অত্যন্ত একগুঁয়ে স্বভাবের মানুষ। ক্রিকেট মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষিপ্রগতির বোলারদের মুখোমুখি হতেও তিনি কখনো হেলমেট পরেননি। ফলে রাজনৈতিক মুক্তির এমন কঠোর শর্ত তিনি মানবেন না বলেই মনে হয়। তবে ব্যক্তিগত বন্ধু হিসেবে তিনি চাইলেও, ইমরান খান শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন সেটিই এখন দেখার বিষয়।