লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালু করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা করে দেশটির প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার (১৭ জুলাই) হরিয়ানার জিন্দ রেলস্টেশন থেকে ট্রেনটির যাত্রার সূচনা করা হয়। উত্তর রেলওয়ের ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ জিন্দ-সোনিপত রুটে ট্রেনটি চলাচল করবে এবং গোহানাসহ বেশ কয়েকটি স্টেশনে এর যাত্রাবিরতি থাকবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারতের প্রথম ট্রেন যেমন মুম্বাই ও থানের মধ্যে চলেছিল, তেমনি ভবিষ্যতে হাইড্রোজেন ট্রেনের কথা উঠলে জিন্দ, সোনিপত ও হরিয়ানার নামও গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হবে। মোদির দাবি অনুযায়ী, জিন্দ-সোনিপত রুটে চলাচলকারী এই ট্রেনটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন। একই সঙ্গে এটি ভারতের দীর্ঘতম হাইড্রোজেন ট্রেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে হাইড্রোজেন ট্রেন সাধারণত তিন বা চার কোচের হলেও ভারত শুরুতেই ১০ কোচের যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করেছে, যেখানে প্রায় দুই হাজার ৬০০ যাত্রীর বসার ব্যবস্থা রয়েছে।

ট্রেনটি ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম এবং এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। এই প্রযুক্তিটি বিশ্বে মাত্র সাত-আট বছর আগে এসেছে এবং বর্তমানে মাত্র তিন-চারটি দেশের এটি পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে। মোদি আরও বলেন, এই ট্রেনটি কেবল নির্গমনমুক্ত নয়, এটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগেরও একটি সফল উদাহরণ। ভবিষ্যতে হাইড্রোজেন ট্রেন-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও নতুন কারখানা স্থাপন করা হবে, যা হরিয়ানার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

ভারতীয় রেলওয়েতে প্রথমবারের মতো এই প্রকল্পে প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন (পিইএম) ফুয়েল সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। ফলে এটি প্রচলিত বৈদ্যুতিক ট্রেনের মতো ওভারহেড লাইনের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং এর একমাত্র নির্গমন হলো জলীয় বাষ্প ও তাপ। এই পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে জিন্দে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ও রিফুয়েলিং অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, যা ভারতের প্রথম সমন্বিত হাইড্রোজেন রেল ইকোসিস্টেম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। নিয়মিত সেবায় এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হবে, যা ভবিষ্যতে এর সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল নোটের কারবার, আটক ১

ভারতে প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালু করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা করে দেশটির প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার (১৭ জুলাই) হরিয়ানার জিন্দ রেলস্টেশন থেকে ট্রেনটির যাত্রার সূচনা করা হয়। উত্তর রেলওয়ের ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ জিন্দ-সোনিপত রুটে ট্রেনটি চলাচল করবে এবং গোহানাসহ বেশ কয়েকটি স্টেশনে এর যাত্রাবিরতি থাকবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারতের প্রথম ট্রেন যেমন মুম্বাই ও থানের মধ্যে চলেছিল, তেমনি ভবিষ্যতে হাইড্রোজেন ট্রেনের কথা উঠলে জিন্দ, সোনিপত ও হরিয়ানার নামও গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হবে। মোদির দাবি অনুযায়ী, জিন্দ-সোনিপত রুটে চলাচলকারী এই ট্রেনটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন। একই সঙ্গে এটি ভারতের দীর্ঘতম হাইড্রোজেন ট্রেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে হাইড্রোজেন ট্রেন সাধারণত তিন বা চার কোচের হলেও ভারত শুরুতেই ১০ কোচের যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করেছে, যেখানে প্রায় দুই হাজার ৬০০ যাত্রীর বসার ব্যবস্থা রয়েছে।

ট্রেনটি ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম এবং এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। এই প্রযুক্তিটি বিশ্বে মাত্র সাত-আট বছর আগে এসেছে এবং বর্তমানে মাত্র তিন-চারটি দেশের এটি পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে। মোদি আরও বলেন, এই ট্রেনটি কেবল নির্গমনমুক্ত নয়, এটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগেরও একটি সফল উদাহরণ। ভবিষ্যতে হাইড্রোজেন ট্রেন-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও নতুন কারখানা স্থাপন করা হবে, যা হরিয়ানার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

ভারতীয় রেলওয়েতে প্রথমবারের মতো এই প্রকল্পে প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন (পিইএম) ফুয়েল সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। ফলে এটি প্রচলিত বৈদ্যুতিক ট্রেনের মতো ওভারহেড লাইনের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং এর একমাত্র নির্গমন হলো জলীয় বাষ্প ও তাপ। এই পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে জিন্দে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ও রিফুয়েলিং অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, যা ভারতের প্রথম সমন্বিত হাইড্রোজেন রেল ইকোসিস্টেম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। নিয়মিত সেবায় এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হবে, যা ভবিষ্যতে এর সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।