লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ভারতে ফিরছে প্রাচীন জলব্যবস্থা

জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান পানিসংকট মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি ভারত তার প্রাচীন জলব্যবস্থার দিকে ফিরে তাকাচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে পরিত্যক্ত কুয়া, জলাধার, মাটির বাঁধ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্রাচীন কাঠামো সংস্কার করে ফের ব্যবহার শুরু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ রাজস্থানের আলওয়ার শহরের মুসি রানি সাগর স্টেপওয়েল। ২০২১ সালে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পর ২০২৫ সালে তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো জলাধারটির পানি পাড়ের ফুটপাথ উপচে পড়ে। ১৮০০-এর দশকের শুরুর দিকে নির্মিত প্রায় ১ দশমিক ৩ একর আয়তনের এই জলাধারটি একসময় অনিয়মিত ও দূষিত পানির কারণে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল, তবে বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত পানি জমছে।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বাওরি, জোহাদ, কুন্ড, টাঙ্কা ও নাদি নামে পরিচিত এই প্রাচীন জলব্যবস্থাগুলো মূলত বৃষ্টির পানি ধীরগতিতে মাটিতে প্রবেশ করিয়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরায় পূরণে ভূমিকা রাখে। এসব ব্যবস্থা শত বছর ধরে গ্রামীণ ভারতের পানি ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮ শতাংশ ভারতে বাস করলেও দেশটির হাতে রয়েছে বিশ্বের মিঠা পানির মাত্র ৪ শতাংশ, যার একটি বড় অংশ দূষিত। কৃষি ও দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে ভারত বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে, যা গ্রামীণ সেচ ও পানীয় জলের মূল উৎস।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। উষ্ণতা বৃদ্ধিতে মাটি দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে এবং তীব্র বৃষ্টিপাতের ফলে পানি মাটিতে শোষিত হওয়ার আগেই প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক বাঁধ ও খাল কিছু ক্ষেত্রে সাহায্য করলেও খোলা জলাধারে সূর্যের তাপে পানি বাষ্পীভূত হয়। বিপরীতে, প্রাচীন স্টেপওয়েলসহ কিছু কাঠামো পানি মাটির গভীরে পৌঁছাতে সাহায্য করে, যেখানে তা সূর্যের তাপ থেকে সুরক্ষিত থাকে। আলওয়ারে ঐতিহ্যবাহী জোহাদ ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবনও উল্লেখযোগ্য ফল দিয়েছে। ১৯৮৫ সালে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক রাজেন্দ্র সিংয়ের সহায়তায় স্থানীয়রা জোহাদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৯৮৬ সালের বর্ষায় গোপালপুরা গ্রামের পুনর্নির্মিত জোহাদ পানিতে পূর্ণ হওয়ার পর দীর্ঘদিন শুকিয়ে থাকা আশপাশের কূপগুলোতেও পানি ফিরে আসে। ১৯৯৪ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে আলওয়ারে ১০ হাজারের বেশি জলসংরক্ষণ কাঠামো নির্মাণ করা হয়, যা পাঁচটি নদীতে সারা বছর পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনে এবং প্রায় ২৫০টি গ্রামকে উপকৃত করে। রাজস্থানের ৭০০টিরও বেশি গ্রাম পর্যন্ত এই উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়ে।

পশ্চিম ভারতের মারাঠওয়াড়ায় ২০১০-এর দশকের শেষ দিকে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজারের বেশি গ্রাম মাটি ও পানি সংরক্ষণ কাঠামো সংস্কার করেছে, যার মাধ্যমে ৫৫০ বিলিয়ন লিটারের বেশি পানি সংরক্ষণের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। আধুনিক নলকূপের বিপরীতে জোহাদের মতো কাঠামো পুরো জলাধার এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণ করতে সক্ষম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের সরকারি নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। ২০১৯ সালে সরকার প্রতিটি গ্রামীণ বাড়িতে বিশুদ্ধ পানির সংযোগের পাশাপাশি জোহাদ, টাঙ্কা, বাওরি ও কুন্ড সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংক, পুকুর ও পানি সংরক্ষণ কাঠামো থেকে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ ২০১৭ সালে ১৪ বিলিয়ন ঘনমিটার থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ২৫ বিলিয়ন ঘনমিটারে পৌঁছেছে। ২০২০ সালে সরকার কৃত্রিমভাবে ভূগর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণের একটি মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করে, যার লক্ষ্য ১ কোটি ৪০ লাখ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ কাঠামো নির্মাণ করা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কাঠামো সংস্কার করলেই হবে না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পলি অপসারণ এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণও সমান জরুরি। রাজস্থানের ৬৭ বছর বয়সী বাসিন্দা বর্ষা জানান, জোহাদ নির্মাণের ফলে তার গ্রামের কূপে এখন সারা বছর পানি থাকে, যা আগে সম্ভব ছিল না। সেন্ট্রাল অ্যারিড জোন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী প্রতাপ মোহরানার মতে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে টাঙ্কা ও নাদির গুরুত্বের জ্ঞান কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি; বরং অনেক এলাকায় মানুষ এগুলো নির্মাণ করতেই থেকেছে।

আলওয়ারে ঐতিহ্যবাহী জোহাদ ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবনও উল্লেখযোগ্য ফল দিয়েছে। জোহাদ হলো অর্ধচন্দ্রাকৃতির মাটির বাঁধ, যা বর্ষার পানি কিছু সময় ধরে রাখে এবং ধীরে ধীরে তা মাটির নিচে প্রবেশের সুযোগ দেয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে বন উজাড়, খনন কার্যক্রম এবং জলাধার এলাকার ক্ষতির ফলে আলওয়ারের পুরোনো জোহাদ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। পরে গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন হলেও তার পুনর্ভরণ যথেষ্ট হয়নি। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এ অঞ্চলের নদীগুলো শুকিয়ে যায় এবং কিছু এলাকাকে ‘ডার্ক জোন’ ঘোষণা করা হয়।

২০২০ সালে ভারত সরকার কৃত্রিমভাবে ভূগর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণের একটি মাস্টারপ্ল্যানও গ্রহণ করে। এতে বৃষ্টির পানি ও বৃষ্টির প্রবাহকে মাটির নিচে পাঠিয়ে ক্ষয়িষ্ণু ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরায় পূরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনাটিতে ১ কোটি ৪০ লাখ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও পুনর্ভরণ কাঠামো নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ১৮৫ বিলিয়ন ঘনমিটার বর্ষার পানি ধারণ করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যমুনার চরে পাট চাষে কৃষকদের বাজিমাত, মেলেনি সরকারি প্রণোদনা

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ভারতে ফিরছে প্রাচীন জলব্যবস্থা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:২৭:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান পানিসংকট মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি ভারত তার প্রাচীন জলব্যবস্থার দিকে ফিরে তাকাচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে পরিত্যক্ত কুয়া, জলাধার, মাটির বাঁধ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্রাচীন কাঠামো সংস্কার করে ফের ব্যবহার শুরু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ রাজস্থানের আলওয়ার শহরের মুসি রানি সাগর স্টেপওয়েল। ২০২১ সালে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পর ২০২৫ সালে তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো জলাধারটির পানি পাড়ের ফুটপাথ উপচে পড়ে। ১৮০০-এর দশকের শুরুর দিকে নির্মিত প্রায় ১ দশমিক ৩ একর আয়তনের এই জলাধারটি একসময় অনিয়মিত ও দূষিত পানির কারণে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল, তবে বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত পানি জমছে।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বাওরি, জোহাদ, কুন্ড, টাঙ্কা ও নাদি নামে পরিচিত এই প্রাচীন জলব্যবস্থাগুলো মূলত বৃষ্টির পানি ধীরগতিতে মাটিতে প্রবেশ করিয়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরায় পূরণে ভূমিকা রাখে। এসব ব্যবস্থা শত বছর ধরে গ্রামীণ ভারতের পানি ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮ শতাংশ ভারতে বাস করলেও দেশটির হাতে রয়েছে বিশ্বের মিঠা পানির মাত্র ৪ শতাংশ, যার একটি বড় অংশ দূষিত। কৃষি ও দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে ভারত বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে, যা গ্রামীণ সেচ ও পানীয় জলের মূল উৎস।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। উষ্ণতা বৃদ্ধিতে মাটি দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে এবং তীব্র বৃষ্টিপাতের ফলে পানি মাটিতে শোষিত হওয়ার আগেই প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক বাঁধ ও খাল কিছু ক্ষেত্রে সাহায্য করলেও খোলা জলাধারে সূর্যের তাপে পানি বাষ্পীভূত হয়। বিপরীতে, প্রাচীন স্টেপওয়েলসহ কিছু কাঠামো পানি মাটির গভীরে পৌঁছাতে সাহায্য করে, যেখানে তা সূর্যের তাপ থেকে সুরক্ষিত থাকে। আলওয়ারে ঐতিহ্যবাহী জোহাদ ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবনও উল্লেখযোগ্য ফল দিয়েছে। ১৯৮৫ সালে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক রাজেন্দ্র সিংয়ের সহায়তায় স্থানীয়রা জোহাদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৯৮৬ সালের বর্ষায় গোপালপুরা গ্রামের পুনর্নির্মিত জোহাদ পানিতে পূর্ণ হওয়ার পর দীর্ঘদিন শুকিয়ে থাকা আশপাশের কূপগুলোতেও পানি ফিরে আসে। ১৯৯৪ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে আলওয়ারে ১০ হাজারের বেশি জলসংরক্ষণ কাঠামো নির্মাণ করা হয়, যা পাঁচটি নদীতে সারা বছর পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনে এবং প্রায় ২৫০টি গ্রামকে উপকৃত করে। রাজস্থানের ৭০০টিরও বেশি গ্রাম পর্যন্ত এই উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়ে।

পশ্চিম ভারতের মারাঠওয়াড়ায় ২০১০-এর দশকের শেষ দিকে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজারের বেশি গ্রাম মাটি ও পানি সংরক্ষণ কাঠামো সংস্কার করেছে, যার মাধ্যমে ৫৫০ বিলিয়ন লিটারের বেশি পানি সংরক্ষণের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। আধুনিক নলকূপের বিপরীতে জোহাদের মতো কাঠামো পুরো জলাধার এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণ করতে সক্ষম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের সরকারি নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। ২০১৯ সালে সরকার প্রতিটি গ্রামীণ বাড়িতে বিশুদ্ধ পানির সংযোগের পাশাপাশি জোহাদ, টাঙ্কা, বাওরি ও কুন্ড সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংক, পুকুর ও পানি সংরক্ষণ কাঠামো থেকে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ ২০১৭ সালে ১৪ বিলিয়ন ঘনমিটার থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ২৫ বিলিয়ন ঘনমিটারে পৌঁছেছে। ২০২০ সালে সরকার কৃত্রিমভাবে ভূগর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণের একটি মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করে, যার লক্ষ্য ১ কোটি ৪০ লাখ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ কাঠামো নির্মাণ করা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কাঠামো সংস্কার করলেই হবে না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পলি অপসারণ এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণও সমান জরুরি। রাজস্থানের ৬৭ বছর বয়সী বাসিন্দা বর্ষা জানান, জোহাদ নির্মাণের ফলে তার গ্রামের কূপে এখন সারা বছর পানি থাকে, যা আগে সম্ভব ছিল না। সেন্ট্রাল অ্যারিড জোন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী প্রতাপ মোহরানার মতে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে টাঙ্কা ও নাদির গুরুত্বের জ্ঞান কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি; বরং অনেক এলাকায় মানুষ এগুলো নির্মাণ করতেই থেকেছে।

আলওয়ারে ঐতিহ্যবাহী জোহাদ ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবনও উল্লেখযোগ্য ফল দিয়েছে। জোহাদ হলো অর্ধচন্দ্রাকৃতির মাটির বাঁধ, যা বর্ষার পানি কিছু সময় ধরে রাখে এবং ধীরে ধীরে তা মাটির নিচে প্রবেশের সুযোগ দেয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে বন উজাড়, খনন কার্যক্রম এবং জলাধার এলাকার ক্ষতির ফলে আলওয়ারের পুরোনো জোহাদ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। পরে গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন হলেও তার পুনর্ভরণ যথেষ্ট হয়নি। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এ অঞ্চলের নদীগুলো শুকিয়ে যায় এবং কিছু এলাকাকে ‘ডার্ক জোন’ ঘোষণা করা হয়।

২০২০ সালে ভারত সরকার কৃত্রিমভাবে ভূগর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণের একটি মাস্টারপ্ল্যানও গ্রহণ করে। এতে বৃষ্টির পানি ও বৃষ্টির প্রবাহকে মাটির নিচে পাঠিয়ে ক্ষয়িষ্ণু ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরায় পূরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনাটিতে ১ কোটি ৪০ লাখ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও পুনর্ভরণ কাঠামো নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ১৮৫ বিলিয়ন ঘনমিটার বর্ষার পানি ধারণ করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হয়েছে।