লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাদু-টোনা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? জানুন ভয়াবহতা ও প্রতিকার

জাদু-টোনা বা ব্ল্যাক ম্যাজিক শব্দগুলো শুনলেই মানুষের মনে রহস্য, ভয় এবং অদৃশ্য শক্তির উপস্থিতি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। অনেকে একে ক্ষমতার উৎস মনে করলেও ইসলামে এই বিষয়টিকে কোনো কল্পকাহিনি হিসেবে দেখা হয় না; বরং এটি একটি বাস্তব ও ভয়াবহ বিষয়, যা স্পষ্টভাবে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে জাদুর অস্তিত্বের কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা বাকারার ১০২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, সুলায়মান (আ.)-এর রাজত্বকালে শয়তানরা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত। তারা এমন বিদ্যা শিখত যা দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো সম্ভব ছিল। আয়াতে আরও বলা হয়েছে যে, তারা বাবিলের দুজন ফেরেশতা হারুত ও মারুতের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল তা অনুসরণ করত। ফেরেশতাদ্বয় মানুষকে সতর্ক করে বলতেন, আমরা পরীক্ষাস্বরূপ, কাজেই তুমি কুফুরি করো না। এই আয়াত প্রমাণ করে যে, জাদু বাস্তব হলেও তা আল্লাহর নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। যারা এই কাজে লিপ্ত হয়, পরকালে তাদের কোনো অংশ থাকবে না এবং তারা নিজেদের আত্মাকে জঘন্য বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়।

ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, জাদুর মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা করা মূলত শয়তানের সাহায্য নেওয়া, যা ইসলামি আকিদার পরিপন্থি। অনেক ক্ষেত্রে জাদুকররা কোরআন অবমাননা, কবরস্থানে অপবিত্র আচরণ বা কুফরি কাজের আশ্রয় নেয়, যা সরাসরি শিরকের শামিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাতটি ধ্বংসকারী কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, যার মধ্যে জাদু করা বা করানো অন্যতম।

ইসলামে জাদুকরের শাস্তির বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কঠোর অবস্থান রয়েছে। ইবনে কুদামা (রহ.)-এর মতে, জাদুকরের শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। ওমর (রা.), ওসমান বিন আফফান (রা.), ইবনে আমর বিন আব্দুল আজিজ (রহ.), আবু হানিফা (রহ.) এবং ইমাম মালেক (রহ.) এই অভিমত পোষণ করেছেন। ইমাম মালেক (রহ.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, একজন মুসলমান জাদুকর যদি কুফুরি কালামের মাধ্যমে জাদু করে, তবে তাকে হত্যা করা হবে। তার তওবা গ্রহণ করা হবে না এবং তাকে তওবা করতেও বলা হবে না, কারণ এটি আল্লাহর নির্দেশকে লঙ্ঘন করার শামিল।

তবে ইসলাম কেবল নিষেধাজ্ঞা দিয়েই থেমে থাকেনি, বরং এর থেকে মুক্তির উপায়ও বাতলে দিয়েছে। বৈধ ঝাড়ফুঁক বা রুকইয়ার মাধ্যমে জাদুর প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। রাসুল (সা.) নিজে কোরআনের আয়াত দ্বারা চিকিৎসা করতেন এবং সাহাবিদেরও তা শিক্ষা দিয়েছেন। আয়াতুল কুরসি, সুরা ফালাক, সুরা নাস এবং সূরা ফাতিহা পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন। একজন মুসলমানের উচিত জাদুর ভয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং যেকোনো শিরকমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা। জাদু-টোনা শুধুমাত্র মানুষের দুনিয়া নয়, আখেরাতকেও ধ্বংস করে দিতে পারে, তাই এসব থেকে দূরে থাকাই মুমিনের কর্তব্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরিয়ার আলেপ্পোয় সেনা ঘাঁটিতে পরপর শক্তিশালী বিস্ফোরণ

জাদু-টোনা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? জানুন ভয়াবহতা ও প্রতিকার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাদু-টোনা বা ব্ল্যাক ম্যাজিক শব্দগুলো শুনলেই মানুষের মনে রহস্য, ভয় এবং অদৃশ্য শক্তির উপস্থিতি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। অনেকে একে ক্ষমতার উৎস মনে করলেও ইসলামে এই বিষয়টিকে কোনো কল্পকাহিনি হিসেবে দেখা হয় না; বরং এটি একটি বাস্তব ও ভয়াবহ বিষয়, যা স্পষ্টভাবে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে জাদুর অস্তিত্বের কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা বাকারার ১০২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, সুলায়মান (আ.)-এর রাজত্বকালে শয়তানরা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত। তারা এমন বিদ্যা শিখত যা দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো সম্ভব ছিল। আয়াতে আরও বলা হয়েছে যে, তারা বাবিলের দুজন ফেরেশতা হারুত ও মারুতের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল তা অনুসরণ করত। ফেরেশতাদ্বয় মানুষকে সতর্ক করে বলতেন, আমরা পরীক্ষাস্বরূপ, কাজেই তুমি কুফুরি করো না। এই আয়াত প্রমাণ করে যে, জাদু বাস্তব হলেও তা আল্লাহর নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। যারা এই কাজে লিপ্ত হয়, পরকালে তাদের কোনো অংশ থাকবে না এবং তারা নিজেদের আত্মাকে জঘন্য বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়।

ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, জাদুর মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা করা মূলত শয়তানের সাহায্য নেওয়া, যা ইসলামি আকিদার পরিপন্থি। অনেক ক্ষেত্রে জাদুকররা কোরআন অবমাননা, কবরস্থানে অপবিত্র আচরণ বা কুফরি কাজের আশ্রয় নেয়, যা সরাসরি শিরকের শামিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাতটি ধ্বংসকারী কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, যার মধ্যে জাদু করা বা করানো অন্যতম।

ইসলামে জাদুকরের শাস্তির বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কঠোর অবস্থান রয়েছে। ইবনে কুদামা (রহ.)-এর মতে, জাদুকরের শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। ওমর (রা.), ওসমান বিন আফফান (রা.), ইবনে আমর বিন আব্দুল আজিজ (রহ.), আবু হানিফা (রহ.) এবং ইমাম মালেক (রহ.) এই অভিমত পোষণ করেছেন। ইমাম মালেক (রহ.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, একজন মুসলমান জাদুকর যদি কুফুরি কালামের মাধ্যমে জাদু করে, তবে তাকে হত্যা করা হবে। তার তওবা গ্রহণ করা হবে না এবং তাকে তওবা করতেও বলা হবে না, কারণ এটি আল্লাহর নির্দেশকে লঙ্ঘন করার শামিল।

তবে ইসলাম কেবল নিষেধাজ্ঞা দিয়েই থেমে থাকেনি, বরং এর থেকে মুক্তির উপায়ও বাতলে দিয়েছে। বৈধ ঝাড়ফুঁক বা রুকইয়ার মাধ্যমে জাদুর প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। রাসুল (সা.) নিজে কোরআনের আয়াত দ্বারা চিকিৎসা করতেন এবং সাহাবিদেরও তা শিক্ষা দিয়েছেন। আয়াতুল কুরসি, সুরা ফালাক, সুরা নাস এবং সূরা ফাতিহা পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন। একজন মুসলমানের উচিত জাদুর ভয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং যেকোনো শিরকমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা। জাদু-টোনা শুধুমাত্র মানুষের দুনিয়া নয়, আখেরাতকেও ধ্বংস করে দিতে পারে, তাই এসব থেকে দূরে থাকাই মুমিনের কর্তব্য।