লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সচিবালয়ে বিএনপির দলীয় বৈঠকের তীব্র সমালোচনা করলেন জামায়াত নেতা

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির দলীয় বৈঠক করার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সমালোচনা করেন। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সচিবালয় হলো নির্বাহী কাজ পরিচালনার জায়গা। সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ফোরামের বৈঠকের নজির তাঁদের জানা নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি যদি এমনটিই করে, তবে তারা গণতন্ত্রকে কীভাবে মূল্যায়ন করে? তার ভাষায়, ‘আমার দলের মতো হলে গণতন্ত্র, নাহলে স্বৈরতন্ত্র!’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন।

এদিন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। অলি আহমদ সম্পর্কে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতীয়ভাবে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে। তিনি বলেন, তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন কোনো নির্বাচন চান না, কারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতেই তারা অলি আহমদকে প্রার্থী করেছেন।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারেন না। বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গোপন ব্যালটের বিধান চালু করতে পারত বলে তিনি মন্তব্য করেন। হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, ‘সবাই মিলে যখন জুলাই সনদ অনুযায়ী একমত হয়েছিলাম, তখন একটি অধ্যাদেশ জারি করে গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ ছিল, কিন্তু বিএনপি তা করেনি।’ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত হতো এবং সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারতেন বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, সংসদ সদস্যদের কাছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হওয়ায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন।

এদিকে, নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন, সামসুল আলম আগে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং তাকে ইসি ভবনে রেখে বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা করছে।

কারণ, সংসদ সদস্যদের কাছে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী।.রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: বিএনপির নিশ্চিত জয়ের ভোটে কর্নেল অলি প্রার্থী যে কারণে.সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলি নির্বাচনে সমানে-সমান লড়াই, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

সচিবালয়ে বিএনপির দলীয় বৈঠকের তীব্র সমালোচনা করলেন জামায়াত নেতা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির দলীয় বৈঠক করার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সমালোচনা করেন। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সচিবালয় হলো নির্বাহী কাজ পরিচালনার জায়গা। সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ফোরামের বৈঠকের নজির তাঁদের জানা নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি যদি এমনটিই করে, তবে তারা গণতন্ত্রকে কীভাবে মূল্যায়ন করে? তার ভাষায়, ‘আমার দলের মতো হলে গণতন্ত্র, নাহলে স্বৈরতন্ত্র!’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন।

এদিন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। অলি আহমদ সম্পর্কে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতীয়ভাবে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে। তিনি বলেন, তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন কোনো নির্বাচন চান না, কারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতেই তারা অলি আহমদকে প্রার্থী করেছেন।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারেন না। বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গোপন ব্যালটের বিধান চালু করতে পারত বলে তিনি মন্তব্য করেন। হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, ‘সবাই মিলে যখন জুলাই সনদ অনুযায়ী একমত হয়েছিলাম, তখন একটি অধ্যাদেশ জারি করে গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ ছিল, কিন্তু বিএনপি তা করেনি।’ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত হতো এবং সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারতেন বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, সংসদ সদস্যদের কাছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হওয়ায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন।

এদিকে, নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন, সামসুল আলম আগে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং তাকে ইসি ভবনে রেখে বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা করছে।

কারণ, সংসদ সদস্যদের কাছে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী।.রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: বিএনপির নিশ্চিত জয়ের ভোটে কর্নেল অলি প্রার্থী যে কারণে.সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক।