লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লিঙ্গ পরীক্ষায় পুরুষ প্রমাণিত হওয়ায় নিষিদ্ধ জান্নাত ও কবিতা

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নজিরবিহীন এক ঘটনায় দুই অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে নারী বিভাগে খেলার ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। লিঙ্গ নির্ধারণী পরীক্ষায় তারা নিজেদের নারী হিসেবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আজ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি নারী বিভাগে তাদের অর্জিত সব পদক ও রেকর্ড বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিবন্ধিত অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কবিতা রায়ের লিঙ্গ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে অভিযোগ তোলা হয়। এর প্রেক্ষিতে বিষয়টি সুরাহার জন্য অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন দেশের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ জানায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তাদের শারীরিক পরীক্ষা শুরু করে। দীর্ঘ এক বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২০২৬ সালের ১১ মে এই কার্যক্রম শেষ হয় এবং একই বছরের ১৬ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মেডিকেল বোর্ডের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ বছর বয়সী জান্নাত বেগম এবং ১৯ বছর বয়সী কবিতা রায়ের হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষায় '৪৬, এক্সওয়াই ডিএসডি' (Differences of Sex Development) ধরা পড়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী এটি তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করে। বিশেষজ্ঞ বোর্ডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই দুই অ্যাথলেটেরই 'পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস' রয়েছে এবং তাদের উভয়েরই জননগ্রন্থি বা গোনাড ইনগুইনাল ক্যানেলে অবস্থিত।

রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেছে, জান্নাত বেগমের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯.৬৬ nmol/L, যা ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্সের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা ২.৫ nmol/L থেকে প্রায় আট গুণ বেশি। অন্যদিকে কবিতা রায়ের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৬.৫০ nmol/L, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে সাড়ে sechs গুণেরও বেশি। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অ্যাথলেটের নারী বিভাগে অংশ নিতে হলে তার শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২.৫ nmol/L-এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক। এই দুই অ্যাথলেটের কেউই এই শর্ত পূরণ করতে পারেননি।

অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির আজকের সভায় মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তাদের স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। একই সাথে জান্নাত বেগমের জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে গড়া দুটি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ ৮টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে কবিতা রায়ের ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪×১০০ মিটার ইভেন্টে অর্জিত ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদকও বাতিল করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বাতিল হওয়া এসব পদক সংশ্লিষ্ট ইভেন্টগুলোর তালিকায় পরবর্তী অবস্থানে থাকা অ্যাথলেটদের মাঝে পুনঃবণ্টন করা হবে।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এমন ঘটনা মাঝেমধ্যে দেখা গেলেও বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এটিই প্রথম। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন জানিয়েছে, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের সঠিক নিয়ম-নীতি অনুসরণ, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই তারা এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী অ্যাথলেট জান্নাত বেগম (বয়স: ২৮ বছর) এবং কবিতা রায় (বয়স: ১৯ বছর) এর হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষায় 46, XY DSD (Differences of Sex Development) ধরা পড়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করে। বিজ্ঞ বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী উভয় অ্যাথলেটের পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস (Penoscrotal Hypospadias) রয়েছে এবং উভয় গোনাড (জননগ্রন্থি) ইনগুইনাল ক্যানেলে অবস্থিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কাউটার মাহফুজুর রহমানের দাফন সম্পন্ন

লিঙ্গ পরীক্ষায় পুরুষ প্রমাণিত হওয়ায় নিষিদ্ধ জান্নাত ও কবিতা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নজিরবিহীন এক ঘটনায় দুই অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে নারী বিভাগে খেলার ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। লিঙ্গ নির্ধারণী পরীক্ষায় তারা নিজেদের নারী হিসেবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আজ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি নারী বিভাগে তাদের অর্জিত সব পদক ও রেকর্ড বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিবন্ধিত অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কবিতা রায়ের লিঙ্গ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে অভিযোগ তোলা হয়। এর প্রেক্ষিতে বিষয়টি সুরাহার জন্য অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন দেশের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ জানায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তাদের শারীরিক পরীক্ষা শুরু করে। দীর্ঘ এক বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২০২৬ সালের ১১ মে এই কার্যক্রম শেষ হয় এবং একই বছরের ১৬ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মেডিকেল বোর্ডের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ বছর বয়সী জান্নাত বেগম এবং ১৯ বছর বয়সী কবিতা রায়ের হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষায় '৪৬, এক্সওয়াই ডিএসডি' (Differences of Sex Development) ধরা পড়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী এটি তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করে। বিশেষজ্ঞ বোর্ডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই দুই অ্যাথলেটেরই 'পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস' রয়েছে এবং তাদের উভয়েরই জননগ্রন্থি বা গোনাড ইনগুইনাল ক্যানেলে অবস্থিত।

রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেছে, জান্নাত বেগমের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯.৬৬ nmol/L, যা ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্সের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা ২.৫ nmol/L থেকে প্রায় আট গুণ বেশি। অন্যদিকে কবিতা রায়ের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৬.৫০ nmol/L, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে সাড়ে sechs গুণেরও বেশি। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অ্যাথলেটের নারী বিভাগে অংশ নিতে হলে তার শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২.৫ nmol/L-এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক। এই দুই অ্যাথলেটের কেউই এই শর্ত পূরণ করতে পারেননি।

অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির আজকের সভায় মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তাদের স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। একই সাথে জান্নাত বেগমের জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে গড়া দুটি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ ৮টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে কবিতা রায়ের ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪×১০০ মিটার ইভেন্টে অর্জিত ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদকও বাতিল করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বাতিল হওয়া এসব পদক সংশ্লিষ্ট ইভেন্টগুলোর তালিকায় পরবর্তী অবস্থানে থাকা অ্যাথলেটদের মাঝে পুনঃবণ্টন করা হবে।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এমন ঘটনা মাঝেমধ্যে দেখা গেলেও বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এটিই প্রথম। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন জানিয়েছে, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের সঠিক নিয়ম-নীতি অনুসরণ, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই তারা এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী অ্যাথলেট জান্নাত বেগম (বয়স: ২৮ বছর) এবং কবিতা রায় (বয়স: ১৯ বছর) এর হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষায় 46, XY DSD (Differences of Sex Development) ধরা পড়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করে। বিজ্ঞ বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী উভয় অ্যাথলেটের পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস (Penoscrotal Hypospadias) রয়েছে এবং উভয় গোনাড (জননগ্রন্থি) ইনগুইনাল ক্যানেলে অবস্থিত।