লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে শপিংমলে বিস্ফোরণ ও ধস, বহু হতাহতের শঙ্কা

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কুমামোতো অঞ্চলে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। কিউশু দ্বীপের বৃহত্তম শহর কুমামোতো থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই ভূমিকম্পের প্রভাবে হাজার হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন সড়ক ও সেতু। ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় তিন লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ৩ হাজার ৬০০ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পরপরই কুমামোতোর একটি অ্যায়ন শপিংমলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং ভবনটির একাংশ ধসে পড়ে। এতে ভেতরে বেশ কয়েকজন আটকা পড়েছেন এবং তাদের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে পুলিশ। টিবিএস টেলিভিশনের বরাত দিয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। অ্যায়নের মুখপাত্র জানান, প্রথম কম্পনের পরেই ক্রেতা ও কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তবে পরবর্তী বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী কাজুয়া সুরুনাগা জানান, বিস্ফোরণটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এর ফলে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়েছিল।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ড, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভবন ধসের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, একটি হাসপাতালেই ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া চলন্ত দ্রুতগতির ট্রেনে থাকা কয়েকজন যাত্রীও আহত হয়েছেন। রেলওয়ে কোম্পানি জেআর কিউশু জানিয়েছে, শিনকানসেনসহ সব ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কুমামোতো বিমানবন্দরের রানওয়েও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রভাবিত এলাকায় টিএসএমসি, সনি ও ফুজিফিল্মের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কারখানা থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে। মোবাইল অপারেটর কেডিডিআই এবং ডোকোমো জানিয়েছে যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও যোগাযোগ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মোবাইল নেটওয়ার্কেও বিঘ্ন ঘটছে। তবে পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকার কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অস্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।

আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত শক্তিশালী আফটারশকের ঝুঁকি রয়েছে। এর আগে দশ বছর আগে কুমামোতোতে এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ২৭৫ জন নিহত এবং ২ হাজার ৭৩৯ জন আহত হয়েছিলেন। মঙ্গলবারের এই কম্পনে শহরের অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন কুমামোতো দুর্গের পাথরের প্রাচীরের কিছু অংশও ধসে পড়েছে বলে জানা গেছে। যদিও শুরুতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, তবে তা পরে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় স্বার্থেই সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবে ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে শপিংমলে বিস্ফোরণ ও ধস, বহু হতাহতের শঙ্কা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কুমামোতো অঞ্চলে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। কিউশু দ্বীপের বৃহত্তম শহর কুমামোতো থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই ভূমিকম্পের প্রভাবে হাজার হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন সড়ক ও সেতু। ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় তিন লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ৩ হাজার ৬০০ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পরপরই কুমামোতোর একটি অ্যায়ন শপিংমলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং ভবনটির একাংশ ধসে পড়ে। এতে ভেতরে বেশ কয়েকজন আটকা পড়েছেন এবং তাদের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে পুলিশ। টিবিএস টেলিভিশনের বরাত দিয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। অ্যায়নের মুখপাত্র জানান, প্রথম কম্পনের পরেই ক্রেতা ও কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তবে পরবর্তী বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী কাজুয়া সুরুনাগা জানান, বিস্ফোরণটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এর ফলে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়েছিল।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ড, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভবন ধসের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, একটি হাসপাতালেই ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া চলন্ত দ্রুতগতির ট্রেনে থাকা কয়েকজন যাত্রীও আহত হয়েছেন। রেলওয়ে কোম্পানি জেআর কিউশু জানিয়েছে, শিনকানসেনসহ সব ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কুমামোতো বিমানবন্দরের রানওয়েও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রভাবিত এলাকায় টিএসএমসি, সনি ও ফুজিফিল্মের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কারখানা থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে। মোবাইল অপারেটর কেডিডিআই এবং ডোকোমো জানিয়েছে যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও যোগাযোগ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মোবাইল নেটওয়ার্কেও বিঘ্ন ঘটছে। তবে পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকার কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অস্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।

আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত শক্তিশালী আফটারশকের ঝুঁকি রয়েছে। এর আগে দশ বছর আগে কুমামোতোতে এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ২৭৫ জন নিহত এবং ২ হাজার ৭৩৯ জন আহত হয়েছিলেন। মঙ্গলবারের এই কম্পনে শহরের অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন কুমামোতো দুর্গের পাথরের প্রাচীরের কিছু অংশও ধসে পড়েছে বলে জানা গেছে। যদিও শুরুতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, তবে তা পরে প্রত্যাহার করা হয়েছে।