লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি বাসভবনকেই কর্মস্থল বানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বর্তমানে তার সরকারি বাসভবন থেকেই দাপ্তরিক কাজের বেশিরভাগ অংশ সম্পন্ন করছেন। কাজের সময় সাশ্রয় এবং দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংলগ্ন এই ঐতিহাসিক বাসভবনটিকে নিয়মিত কর্মস্থল হিসেবে ব্যবহার করছেন। গত ডিসেম্বরে এই ভবনে ওঠার পর থেকেই তিনি এই অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। ১৯২৯ সালে নির্মিত এই ভবনটি অতীতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যা বর্তমানে কার্যালয়ের খুব কাছেই অবস্থিত। তাকাইচির মতে, এই অবস্থানের কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো সময় নষ্ট না করেই তিনি দ্রুত কাজে যোগ দিতে পারেন।

তাকাইচি জানিয়েছেন, সরকারি বাসভবনটিতে অফিসের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। এখান থেকেই তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কিংবা অনলাইনে বৈঠক করতে পারেন। অফিস সময়ের পরেও তিনি এই বাসভবন থেকে কাজ চালিয়ে যান এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক নথি বাসায় বসে পর্যালোচনা করেন। তার ভাষ্যমতে, সরকারি বাসভবন এখন তার কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মস্থল।

তবে তার এই দীর্ঘ সময় কাজ করার অভ্যাসটি নিয়ে সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। তাকাইচি নিজেই জানিয়েছেন, কাজের চাপ এবং ঘরের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে কোনো কোনো রাতে তিনি মাত্র শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমান। সমালোচকদের মতে, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার এই কর্মপদ্ধতি কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং লিঙ্গসমতার ক্ষেত্রে সমাজে ভুল বার্তা দিতে পারে।

পাশাপাশি তাকাইচির জনপ্রিয়তাও বর্তমানে নিম্নমুখী। পুরুষ উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে রাজপরিবার-সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে বিলম্বের কারণে তার সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে। এছাড়া ছুটির দিন ও রাতে তিনি সরকারি বাসভবনেই বেশি সময় কাটানোয় আগের প্রধানমন্ত্রীর তুলনায় সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ কমেছে। তিনি এখন গণমাধ্যমের বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ নিজের বক্তব্য ও নীতিগুলো বেশি তুলে ধরছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৩০-এর দশকে এই সরকারি বাসভবনে দুটি রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের চেষ্টার ইতিহাস রয়েছে এবং ভবনটি নিয়ে ভূতের গল্পের প্রচলনও আছে। তবে তাকাইচি জানিয়েছেন, তিনি সেখানে কোনো ভূতের অস্তিত্ব পাননি; বরং তেলাপোকার মুখোমুখি হয়েই তিনি বেশি আতঙ্কিত হয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব হলেন মো. ইউনুস আলী

সরকারি বাসভবনকেই কর্মস্থল বানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩৩:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বর্তমানে তার সরকারি বাসভবন থেকেই দাপ্তরিক কাজের বেশিরভাগ অংশ সম্পন্ন করছেন। কাজের সময় সাশ্রয় এবং দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংলগ্ন এই ঐতিহাসিক বাসভবনটিকে নিয়মিত কর্মস্থল হিসেবে ব্যবহার করছেন। গত ডিসেম্বরে এই ভবনে ওঠার পর থেকেই তিনি এই অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। ১৯২৯ সালে নির্মিত এই ভবনটি অতীতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যা বর্তমানে কার্যালয়ের খুব কাছেই অবস্থিত। তাকাইচির মতে, এই অবস্থানের কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো সময় নষ্ট না করেই তিনি দ্রুত কাজে যোগ দিতে পারেন।

তাকাইচি জানিয়েছেন, সরকারি বাসভবনটিতে অফিসের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। এখান থেকেই তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কিংবা অনলাইনে বৈঠক করতে পারেন। অফিস সময়ের পরেও তিনি এই বাসভবন থেকে কাজ চালিয়ে যান এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক নথি বাসায় বসে পর্যালোচনা করেন। তার ভাষ্যমতে, সরকারি বাসভবন এখন তার কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মস্থল।

তবে তার এই দীর্ঘ সময় কাজ করার অভ্যাসটি নিয়ে সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। তাকাইচি নিজেই জানিয়েছেন, কাজের চাপ এবং ঘরের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে কোনো কোনো রাতে তিনি মাত্র শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমান। সমালোচকদের মতে, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার এই কর্মপদ্ধতি কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং লিঙ্গসমতার ক্ষেত্রে সমাজে ভুল বার্তা দিতে পারে।

পাশাপাশি তাকাইচির জনপ্রিয়তাও বর্তমানে নিম্নমুখী। পুরুষ উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে রাজপরিবার-সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে বিলম্বের কারণে তার সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে। এছাড়া ছুটির দিন ও রাতে তিনি সরকারি বাসভবনেই বেশি সময় কাটানোয় আগের প্রধানমন্ত্রীর তুলনায় সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ কমেছে। তিনি এখন গণমাধ্যমের বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ নিজের বক্তব্য ও নীতিগুলো বেশি তুলে ধরছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৩০-এর দশকে এই সরকারি বাসভবনে দুটি রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের চেষ্টার ইতিহাস রয়েছে এবং ভবনটি নিয়ে ভূতের গল্পের প্রচলনও আছে। তবে তাকাইচি জানিয়েছেন, তিনি সেখানে কোনো ভূতের অস্তিত্ব পাননি; বরং তেলাপোকার মুখোমুখি হয়েই তিনি বেশি আতঙ্কিত হয়েছেন।