লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতা হত্যায় ঢাকা থেকে আসা ৩ খুনি আটক

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলমকে (৫২) হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন বরগুনার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া এলাকার মৃত সুলতানের ছেলে মো. হেলাল (২৫), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর এলাকার নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার নাগমুদ বাজার মধ্যপাড়া এলাকার রহমত উল্লাহর ছেলে শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঢাকা থেকে ভাড়াটে হিসেবে মিঠামইনে এসে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন সদর বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে জাহিদুল আলম এবং স্থানীয় বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকে (৩৮) তাদের বাগানবাড়ির সামনে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জাহিদুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা হত্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ঘটনার তিন দিন আগেই ঢাকা থেকে তাদের ভাড়া করে মিঠামইনে আনা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় একজনকে এবং পরে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গভীর রাতে বাকি দুজনকে আটক করা হয়। বর্তমানে পুলিশ এই হত্যার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

নিহতের বড় ভাই তপন শিকদার জানিয়েছেন, তার ভাইকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিকল্পনাকারীসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, জাহিদুল আলম মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে মেহগনিগাছ কাটার অভিযোগের ঘটনায় তার দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছিল এবং তিনি কারাগারেও ছিলেন। তবে গত ৫ জুলাই তার পদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে দুই দফা হামলা, ক্ষোভ নাহিদ ইসলামের

কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতা হত্যায় ঢাকা থেকে আসা ৩ খুনি আটক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলমকে (৫২) হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন বরগুনার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া এলাকার মৃত সুলতানের ছেলে মো. হেলাল (২৫), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর এলাকার নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার নাগমুদ বাজার মধ্যপাড়া এলাকার রহমত উল্লাহর ছেলে শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঢাকা থেকে ভাড়াটে হিসেবে মিঠামইনে এসে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন সদর বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে জাহিদুল আলম এবং স্থানীয় বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকে (৩৮) তাদের বাগানবাড়ির সামনে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জাহিদুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা হত্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ঘটনার তিন দিন আগেই ঢাকা থেকে তাদের ভাড়া করে মিঠামইনে আনা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় একজনকে এবং পরে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গভীর রাতে বাকি দুজনকে আটক করা হয়। বর্তমানে পুলিশ এই হত্যার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

নিহতের বড় ভাই তপন শিকদার জানিয়েছেন, তার ভাইকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিকল্পনাকারীসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, জাহিদুল আলম মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে মেহগনিগাছ কাটার অভিযোগের ঘটনায় তার দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছিল এবং তিনি কারাগারেও ছিলেন। তবে গত ৫ জুলাই তার পদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।