লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু

চলতি বর্ষা মৌসুমে উজানের পানির তীব্র স্রোত ও টানা বর্ষণে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামে ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ও আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ফয়জুল্লাহপুর পয়েন্টে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আব্দুল গফুর। উদ্বোধনের সময় তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত ও আতঙ্কিত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার প্রবল স্রোতে ফয়জুল্লাহপুর এলাকায় বাঁধ ধসে পড়ার এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই প্রাথমিক ঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজারেরও বেশি জিও ব্যাগ এবং ২৩০টি জিও টিউব প্রস্তুত করে ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে।

তবে সরকারি এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পরিবর্তে সাময়িক জোড়াতালি হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষাকালে লোকদেখানোর জন্য জিও ব্যাগ ফেলা হয়, যা পদ্মার তীব্র ঘূর্ণিস্রোতে কয়েকদিনের মধ্যেই ভেসে যায়। শুকনো মৌসুমে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতি বছরই নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি হয় এবং বহু পরিবার ভিটামাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু জিও ব্যাগ ফেলে সরকারি অর্থের অপচয় না করে সিসি ব্লক দিয়ে মজবুত প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভেড়ামারা-সোনাইকুন্ডি পাকা সড়ক ও ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল আমিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রশিক্ষণ বিষয়ক সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন জসিম, ভেড়ামারা উপজেলা জামায়াতের আমির মো. জালাল উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিপি নেতা তানভীরকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

চলতি বর্ষা মৌসুমে উজানের পানির তীব্র স্রোত ও টানা বর্ষণে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামে ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ও আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ফয়জুল্লাহপুর পয়েন্টে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আব্দুল গফুর। উদ্বোধনের সময় তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত ও আতঙ্কিত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার প্রবল স্রোতে ফয়জুল্লাহপুর এলাকায় বাঁধ ধসে পড়ার এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই প্রাথমিক ঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজারেরও বেশি জিও ব্যাগ এবং ২৩০টি জিও টিউব প্রস্তুত করে ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে।

তবে সরকারি এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পরিবর্তে সাময়িক জোড়াতালি হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষাকালে লোকদেখানোর জন্য জিও ব্যাগ ফেলা হয়, যা পদ্মার তীব্র ঘূর্ণিস্রোতে কয়েকদিনের মধ্যেই ভেসে যায়। শুকনো মৌসুমে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতি বছরই নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি হয় এবং বহু পরিবার ভিটামাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু জিও ব্যাগ ফেলে সরকারি অর্থের অপচয় না করে সিসি ব্লক দিয়ে মজবুত প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভেড়ামারা-সোনাইকুন্ডি পাকা সড়ক ও ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল আমিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রশিক্ষণ বিষয়ক সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন জসিম, ভেড়ামারা উপজেলা জামায়াতের আমির মো. জালাল উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।