লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক গডফাদার সরকারদলীয় হলেও ধরতে হাত কাঁপবে না: আইনমন্ত্রী

মাদক কারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে বা মাদকের গডফাদার হিসেবে সরকারদলীয় কিংবা বিরোধী কোনো নেতার সম্পৃক্ততা থাকলে তাকে ধরতেও যেন হাত না কাঁপে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাকে আইনের আওতায় আনবেন। তিনি যত শক্তিশালীই হোন না কেন, এমনকি আমি যে রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সেই বিএনপির কোনো শক্তিশালী নেতাও যদি তাকে পৃষ্ঠপোষকতা করার চেষ্টা করেন, তার ব্যাপারেও আপনারা জিরো টলারেন্স দেখাবেন। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এখানে কোনো পক্ষপাত নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগ আছে, আপনি তা উপেক্ষা করবেন, সেটা হবে না। আইনের হাতে সোপর্দ করবেন। আইন আইনের মতো এগিয়ে যাবে। সে যদি আদালত থেকে জামিন পায়, জামিন পাওয়া তার অধিকার। কিন্তু পুলিশ তাকে বাইরে ঘুরে বেড়াতে দেবে, খুন করে বেড়াবে, আর জনগণের মুখে এই কথা হবে যে খুন করলেও পুলিশ তাকে ধরতে সাহস পাচ্ছে না—এটা হতে পারে না।’

নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমার একটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। সে মাদক সেবন করে এবং মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত- এমন অভিযোগ পুলিশ আমাকে জানানোর পর আমি বললাম, গ্রেপ্তার করেন। আমাকে জিজ্ঞাসা করার কী প্রয়োজন? সে যদি বিএনপি না করত, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল করত, তাহলে তার ক্ষেত্রে যেটা করতেন, এক্ষেত্রেও সেটাই করবেন।’

ওই নেতাকে গ্রেপ্তারের পর মাদক সেবনের পরীক্ষায় তার ফলাফল পজিটিভ আসে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয় বলে জানান আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সে আমার নির্বাচনে সবচেয়ে নিবেদিতভাবে যারা কাজ করেছিল, তাদের একজন ছিল। কিন্তু আমার কাছে একজন সত্যিকারের রাজনৈতিক কর্মী হতে গেলে তার প্রথম শর্ত হলো, তাকে নৈতিকভাবে স্বচ্ছ হতে হবে। জনগণের কাছে যখন তাকে পাঠাব, জনগণ যেন বুঝতে পারে, সে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে এসেছে। অথচ সে নিজেই মাদকমুক্ত নয় এটা হতে পারে না।’

মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে মাদকের সঙ্গে জড়িত বা সম্পৃক্ত যে বা যারাই থাকুক, সবার ক্ষেত্রেই জিরো টলারেন্স। যত বড় নেতাই হোক, সেটা আমরা দেখব।’

বাগেরহাটের মানুষের মধ্যে মাদক কারবারিদের কারণে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি বিরূপ ধারণা তৈরি হোক, তা তারা চান না উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাগেরহাট জেলায় ১০ জন লোক মাদক বিক্রি করে। আমি যদি এভাবে ধরি যে, এই ১০ জনই বিএনপি করে, তাহলে এই ১০ জনের কারণে বাগেরহাট জেলার ১০ হাজার মানুষ আমাকে ঘৃণা করবে। এই ১০ জনের কারণে বাগেরহাট জেলার ১০ হাজার মানুষ বিএনপিকে অপছন্দ করবে। আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে, সরকার হিসেবে এই ঝুঁকি নেব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোনো নেতা এর পেছনে থেকে থাকেন, তাদেরও আমরা সতর্ক করছি।’

আদালতে জামিনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, জামিন দেওয়া না দেওয়া আদালতের বিষয়। তবে ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করে জামিন নেওয়া বা দেওয়ার চেষ্টা কিংবা জামিন ঠেকানোর চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতকে লক্ষ্য করে মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ক্রসফায়ার।’

তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে চার হাজারের বেশি বিএনপির নেতাকর্মীকে গুম ও ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৭০০ বিএনপি নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-১, ২, ৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক, বাগেরহাট মেডিকেল ফাউন্ডেশনের নেতা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন এবং আইনজীবী সমিতির নেতা, জেলা বিএনপির নেতাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন জেমস রদ্রিগেজ

মাদক গডফাদার সরকারদলীয় হলেও ধরতে হাত কাঁপবে না: আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদক কারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে বা মাদকের গডফাদার হিসেবে সরকারদলীয় কিংবা বিরোধী কোনো নেতার সম্পৃক্ততা থাকলে তাকে ধরতেও যেন হাত না কাঁপে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাকে আইনের আওতায় আনবেন। তিনি যত শক্তিশালীই হোন না কেন, এমনকি আমি যে রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সেই বিএনপির কোনো শক্তিশালী নেতাও যদি তাকে পৃষ্ঠপোষকতা করার চেষ্টা করেন, তার ব্যাপারেও আপনারা জিরো টলারেন্স দেখাবেন। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এখানে কোনো পক্ষপাত নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগ আছে, আপনি তা উপেক্ষা করবেন, সেটা হবে না। আইনের হাতে সোপর্দ করবেন। আইন আইনের মতো এগিয়ে যাবে। সে যদি আদালত থেকে জামিন পায়, জামিন পাওয়া তার অধিকার। কিন্তু পুলিশ তাকে বাইরে ঘুরে বেড়াতে দেবে, খুন করে বেড়াবে, আর জনগণের মুখে এই কথা হবে যে খুন করলেও পুলিশ তাকে ধরতে সাহস পাচ্ছে না—এটা হতে পারে না।’

নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমার একটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। সে মাদক সেবন করে এবং মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত- এমন অভিযোগ পুলিশ আমাকে জানানোর পর আমি বললাম, গ্রেপ্তার করেন। আমাকে জিজ্ঞাসা করার কী প্রয়োজন? সে যদি বিএনপি না করত, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল করত, তাহলে তার ক্ষেত্রে যেটা করতেন, এক্ষেত্রেও সেটাই করবেন।’

ওই নেতাকে গ্রেপ্তারের পর মাদক সেবনের পরীক্ষায় তার ফলাফল পজিটিভ আসে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয় বলে জানান আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সে আমার নির্বাচনে সবচেয়ে নিবেদিতভাবে যারা কাজ করেছিল, তাদের একজন ছিল। কিন্তু আমার কাছে একজন সত্যিকারের রাজনৈতিক কর্মী হতে গেলে তার প্রথম শর্ত হলো, তাকে নৈতিকভাবে স্বচ্ছ হতে হবে। জনগণের কাছে যখন তাকে পাঠাব, জনগণ যেন বুঝতে পারে, সে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে এসেছে। অথচ সে নিজেই মাদকমুক্ত নয় এটা হতে পারে না।’

মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে মাদকের সঙ্গে জড়িত বা সম্পৃক্ত যে বা যারাই থাকুক, সবার ক্ষেত্রেই জিরো টলারেন্স। যত বড় নেতাই হোক, সেটা আমরা দেখব।’

বাগেরহাটের মানুষের মধ্যে মাদক কারবারিদের কারণে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি বিরূপ ধারণা তৈরি হোক, তা তারা চান না উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাগেরহাট জেলায় ১০ জন লোক মাদক বিক্রি করে। আমি যদি এভাবে ধরি যে, এই ১০ জনই বিএনপি করে, তাহলে এই ১০ জনের কারণে বাগেরহাট জেলার ১০ হাজার মানুষ আমাকে ঘৃণা করবে। এই ১০ জনের কারণে বাগেরহাট জেলার ১০ হাজার মানুষ বিএনপিকে অপছন্দ করবে। আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে, সরকার হিসেবে এই ঝুঁকি নেব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোনো নেতা এর পেছনে থেকে থাকেন, তাদেরও আমরা সতর্ক করছি।’

আদালতে জামিনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, জামিন দেওয়া না দেওয়া আদালতের বিষয়। তবে ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করে জামিন নেওয়া বা দেওয়ার চেষ্টা কিংবা জামিন ঠেকানোর চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতকে লক্ষ্য করে মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ক্রসফায়ার।’

তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে চার হাজারের বেশি বিএনপির নেতাকর্মীকে গুম ও ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৭০০ বিএনপি নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-১, ২, ৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক, বাগেরহাট মেডিকেল ফাউন্ডেশনের নেতা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন এবং আইনজীবী সমিতির নেতা, জেলা বিএনপির নেতাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা।