লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান মাহ্দী আমিনের

পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে দেশের সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে ইতিবাচক সমালোচনা ও ভিন্নমত থাকলেও পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রুখতে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা অত্যন্ত জরুরি।

মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক পরিচয় এবং সব ভেদাভেদ ভুলে গণতন্ত্রকামী প্রতিটি শক্তির একমাত্র পরিচয় হয়ে উঠেছিল তারা বাংলাদেশের পক্ষে। বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘ফ্যাসিবাদ বনাম বাংলাদেশ’ এক নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে আজ দুই বছর পূর্তিতে সেই ঐক্যের মাঝে এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দূরত্ব দেখা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, কোনো ধরনের অশালীন আচরণ না করেও একে অপরকে প্রশ্ন করা যায় এবং প্রজ্ঞার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা যায়।

দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আত্মনিয়োগকারী মুক্তিকামী জনগণের কাছে ৫ আগস্টকে একটি অবিস্মরণীয় বিজয়ের দিন এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণে ২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় এগিয়ে যায়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের রক্তে রঞ্জিত এই দিনটি আজ জাতীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় নেতৃত্ব, সাহস ও দিকনির্দেশনা আন্দোলনকে সফল পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে。

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত শক্তি ছিল সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, প্রবাসী, কৃষক, পোশাকশ্রমিক ও নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এই আন্দোলনকে বেগবান করেছিল। মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ভোটাধিকার লুণ্ঠন ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ছিল এই বিপ্লব। আন্দোলন দমাতে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণসহ চরম নির্মমতা চালিয়েছে, যা জাতিসংঘ ও বিশ্ব গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। রংপুরের শহিদ আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামের ছাত্রদল নেতা শহিদ ওয়াসিম আকরামের মতো অসংখ্য বীরের আত্মত্যাগ দেশের মানুষকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।

তিনি জানান, জুলাই-আগস্টের এই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ শহিদ হয়েছেন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। শত শত মানুষ স্থায়ীভাবে অঙ্গহানি ও দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়, এর প্রকৃত নায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ। জুলাইয়ের কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য কেউ প্রতিযোগিতায় নামলে তা আমাদের পেছনে টেনে নিয়ে যাবে। অতীতে একটি রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধকে একক অর্জন হিসেবে কুক্ষিগত করতে গিয়ে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল। সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এগোতে হবে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ এবং ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ।

মাহ্দী আমিন আরও উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের ১৫ বছরে সবচেয়ে বেশি গুম, খুন ও মামলার শিকার হওয়া দল বিএনপি আজ রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছে। বিগত সময়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৩১ দফা রূপকল্প, নির্বাচনি ইশতেহার, জুলাই সনদ এবং সংবিধান সংস্কারের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শ ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই নির্বাচিত বিএনপি সরকারের লক্ষ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দিয়ে শহীদদের অপমান করেছে ভারত: রিজভী

পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান মাহ্দী আমিনের

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪২:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে দেশের সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে ইতিবাচক সমালোচনা ও ভিন্নমত থাকলেও পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রুখতে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা অত্যন্ত জরুরি।

মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক পরিচয় এবং সব ভেদাভেদ ভুলে গণতন্ত্রকামী প্রতিটি শক্তির একমাত্র পরিচয় হয়ে উঠেছিল তারা বাংলাদেশের পক্ষে। বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘ফ্যাসিবাদ বনাম বাংলাদেশ’ এক নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে আজ দুই বছর পূর্তিতে সেই ঐক্যের মাঝে এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দূরত্ব দেখা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, কোনো ধরনের অশালীন আচরণ না করেও একে অপরকে প্রশ্ন করা যায় এবং প্রজ্ঞার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা যায়।

দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আত্মনিয়োগকারী মুক্তিকামী জনগণের কাছে ৫ আগস্টকে একটি অবিস্মরণীয় বিজয়ের দিন এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণে ২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় এগিয়ে যায়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের রক্তে রঞ্জিত এই দিনটি আজ জাতীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় নেতৃত্ব, সাহস ও দিকনির্দেশনা আন্দোলনকে সফল পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে。

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত শক্তি ছিল সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, প্রবাসী, কৃষক, পোশাকশ্রমিক ও নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এই আন্দোলনকে বেগবান করেছিল। মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ভোটাধিকার লুণ্ঠন ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ছিল এই বিপ্লব। আন্দোলন দমাতে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণসহ চরম নির্মমতা চালিয়েছে, যা জাতিসংঘ ও বিশ্ব গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। রংপুরের শহিদ আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামের ছাত্রদল নেতা শহিদ ওয়াসিম আকরামের মতো অসংখ্য বীরের আত্মত্যাগ দেশের মানুষকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।

তিনি জানান, জুলাই-আগস্টের এই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ শহিদ হয়েছেন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। শত শত মানুষ স্থায়ীভাবে অঙ্গহানি ও দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়, এর প্রকৃত নায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ। জুলাইয়ের কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য কেউ প্রতিযোগিতায় নামলে তা আমাদের পেছনে টেনে নিয়ে যাবে। অতীতে একটি রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধকে একক অর্জন হিসেবে কুক্ষিগত করতে গিয়ে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল। সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এগোতে হবে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ এবং ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ।

মাহ্দী আমিন আরও উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের ১৫ বছরে সবচেয়ে বেশি গুম, খুন ও মামলার শিকার হওয়া দল বিএনপি আজ রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছে। বিগত সময়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৩১ দফা রূপকল্প, নির্বাচনি ইশতেহার, জুলাই সনদ এবং সংবিধান সংস্কারের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শ ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই নির্বাচিত বিএনপি সরকারের লক্ষ্য।