লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপ: ৫ মাসে শতাধিক শিশুর মৃত্যু

সিলেট বিভাগে হাম ও এর উপসর্গে শিশু মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ছোবলে একের পর এক শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। সর্বশেষ রবিবার (১৯ জুলাই) সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সাহাব উদ্দিনের ৯ মাস বয়সী ছেলে আবু সাঈদ সিলেট শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. মিজানুর রহমান এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৫৪৪ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৯৬ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এখন শতকের ঘরে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ১ থেকে ২ বছর বয়সী শিশুরা।

বিভাগের চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সুনামগঞ্জে। জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৮৭ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪৪ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিলেট জেলায় আক্রান্ত ১৮০ জন এবং ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হবিগঞ্জে ৫৫ জন আক্রান্ত ও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং মৌলভীবাজারে ২২ জন আক্রান্ত ও ১১ জন মারা গেছে। দুর্গম হাওর অঞ্চল ও সচেতনতার অভাবে সুনামগঞ্জে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৮৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৫ জন, সিলেট শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৮ জন এবং অন্যান্য হাসপাতালে ১২ জন ভর্তি হয়েছে। রবিবার সকাল পর্যন্ত ১০০ শয্যার শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৯৬ জন রোগী ভর্তি ছিল।

জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নাজনীন আক্তার জানান, জ্বর ও শরীরে লালচে র‍্যাশ নিয়ে শিশুরা হাসপাতালে আসছে। শিশুদের বয়স কম হওয়ায় জটিলতা বেশি দেখা দিচ্ছে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম জানান, মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। টিকাদানের হার কম থাকা এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্যাম্পেইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত শিশুদের পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের নিয়মিত হামের টিকা দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

এ নিয়ে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা শতকের ঘরে। আর আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৫০০ ছুঁইছুঁই। এদিকে হাসপাতালেও রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। দিন দিন পরিস্থিতি জটিল হতে থাকায় চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবকেরা। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং হামের টিকার উপর বেশি জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

ঝুঁকিতে ১-২ বছরের শিশুরা চিকিৎসকদের মতে, হামের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর শিকার হচ্ছে ১ থেকে ২ বছর বয়সী শিশুরা। এই বয়সীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা এবং অনেকের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া এর অন্যতম কারণ হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা তীব্র অপুষ্টির কারণে শিশুর মৃত্যু হতে পারে। এ প্রসঙ্গে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম এদিনকে জানান, মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেসব এলাকায় টিকাদানের হার কম, সেখানে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত শিশুদের পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপের দাবানলে নতুন আতঙ্ক ‘ফায়ার ক্লাউড’, সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা

সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপ: ৫ মাসে শতাধিক শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৪৭:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

সিলেট বিভাগে হাম ও এর উপসর্গে শিশু মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ছোবলে একের পর এক শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। সর্বশেষ রবিবার (১৯ জুলাই) সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সাহাব উদ্দিনের ৯ মাস বয়সী ছেলে আবু সাঈদ সিলেট শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. মিজানুর রহমান এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৫৪৪ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৯৬ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এখন শতকের ঘরে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ১ থেকে ২ বছর বয়সী শিশুরা।

বিভাগের চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সুনামগঞ্জে। জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৮৭ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪৪ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিলেট জেলায় আক্রান্ত ১৮০ জন এবং ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হবিগঞ্জে ৫৫ জন আক্রান্ত ও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং মৌলভীবাজারে ২২ জন আক্রান্ত ও ১১ জন মারা গেছে। দুর্গম হাওর অঞ্চল ও সচেতনতার অভাবে সুনামগঞ্জে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৮৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৫ জন, সিলেট শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৮ জন এবং অন্যান্য হাসপাতালে ১২ জন ভর্তি হয়েছে। রবিবার সকাল পর্যন্ত ১০০ শয্যার শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৯৬ জন রোগী ভর্তি ছিল।

জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নাজনীন আক্তার জানান, জ্বর ও শরীরে লালচে র‍্যাশ নিয়ে শিশুরা হাসপাতালে আসছে। শিশুদের বয়স কম হওয়ায় জটিলতা বেশি দেখা দিচ্ছে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম জানান, মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। টিকাদানের হার কম থাকা এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্যাম্পেইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত শিশুদের পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের নিয়মিত হামের টিকা দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

এ নিয়ে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা শতকের ঘরে। আর আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৫০০ ছুঁইছুঁই। এদিকে হাসপাতালেও রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। দিন দিন পরিস্থিতি জটিল হতে থাকায় চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবকেরা। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং হামের টিকার উপর বেশি জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

ঝুঁকিতে ১-২ বছরের শিশুরা চিকিৎসকদের মতে, হামের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর শিকার হচ্ছে ১ থেকে ২ বছর বয়সী শিশুরা। এই বয়সীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা এবং অনেকের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া এর অন্যতম কারণ হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা তীব্র অপুষ্টির কারণে শিশুর মৃত্যু হতে পারে। এ প্রসঙ্গে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম এদিনকে জানান, মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেসব এলাকায় টিকাদানের হার কম, সেখানে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত শিশুদের পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।