লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবল বিশ্বে অনন্য উচ্চতায় লিওনেল মেসি

সাত ম্যাচে আট গোল ও চার অ্যাসিস্টের জাদুকরী পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে এনেছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা যেন সবুজ গালিচায় ফুটবলীয় ঐশ্বর্যের নতুন গল্প লিখছেন। হরমোনজনিত রোগের বাধা পেরিয়ে আসা রোজারিওর সেই ছেলেটি আজ ষষ্ঠ বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিচ্ছেন। বয়সের ভারে তার যৌবন হয়তো আগের মতো নেই, কিন্তু তার ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা ও প্রতিভা এখনো অমূল্য।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসির প্রভাব ছিল স্পষ্ট। আটলান্টায় ১-০ গোলের লিড নিয়ে ইংল্যান্ড যখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, তখন মাঠের আসল রাজা হিসেবে আবির্ভূত হন মেসি। ৮৫ ও ৯২ মিনিটে তার দুটি নিখুঁত অ্যাসিস্টে এনজো ফার্নান্দেজ এবং লাওতারো মার্তিনেজ গোল করে ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করে দেন। এই জয়ে বুয়েনস এইরেসে উৎসবের জোয়ার বইলেও লন্ডনের আকাশে নেমে আসে বিষাদ। ১৯৬৬ সাল থেকে শিরোপার অপেক্ষায় থাকা ইংল্যান্ডের জন্য এটি ছিল এক দীর্ঘায়িত দুঃসময়।

৯০ মিনিটের ম্যাচে ৯৪ বার বল স্পর্শ করা মেসি যেন আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের স্বরলিপি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ১২টি অ্যাসিস্টের মালিক তিনি, যা তাকে তার পূর্বসূরি দিয়েগো ম্যারাডোনার চেয়ে চার ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। ম্যারাডোনা তার ক্যারিয়ারে মোট আটটি গোলে সহায়তা করেছিলেন। এবারের বিশ্বকাপে মেসি কম দৌড়ালেও সুযোগ তৈরিতে অনন্য। সেমিফাইনাল পর্যন্ত সাত ম্যাচে তিনি ৩৩টি শট নিয়েছেন এবং ২১টি গোল করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন।

মেসির শৈশবের আইডল পাবলো আইমার বলেছিলেন, ‘দ্য লাস্ট মেসি ইজ অলওয়েজ দ্য বেস্ট মেসি।’ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সোনালি ট্রফি জিতে ক্যারিয়ার পূর্ণতা পাওয়া মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপেও নিজের জাদু ধরে রেখেছেন। তার এই জয় তিনি উৎসর্গ করেছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং তার দাদিকে, যিনি শৈশবে তাকে বল পায়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ার শিক্ষা দিয়েছিলেন। নিউইয়র্ক-নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রবিবাসরীয় ফাইনালে মেসির পায়ের সেই ঢেউয়ের তোড়ে স্পেন ভেসে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না, কারণ তিনি সত্যিই ফুটবলের রাজা।

এজন্যই তিনি ফুটবলের রাজা। আর্জেন্টিনার হৃৎপিণ্ড। ৯০ মিনিটের ম্যাচে ৯৪ টাচ। আর্জেন্টিনার আক্রমণ যদি হয় গান, তাহলে মেসি সেই গানের স্বরলিপি। সেমিফাইনালের আলো ঝলমলে মঞ্চে সবাই পার্শ্বচরিত্র। মেসি সেখানে ‘লার্জার দ্যান লাইফ’। জীবনের চেয়েও বড় চরিত্র। ফাইনালে ওঠার লড়াইকে যদি একটি বিশাল ক্যানভাসের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে মেসির দুটি অ্যাসিস্ট তাতে তুলির শেষ আঁচড়। এই দুটি অ্যাসিস্ট আর্জেন্টাইন মহানক্ষত্রকে তার পূর্বসূরি দিয়েগো ম্যারাডোনার চার ধাপ উপরে বসিয়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব মিলিয়ে মেসি এখন ১২টি অ্যাসিস্টের মালিক। ম্যারাডোনা গোলে সহায়তা করেছেন আটবার। এও এক জাদু যে, এই বিশ্বকাপে মেসি দৌড়াচ্ছেন কম, সুযোগ তৈরি করছেন বেশি। সেমিফাইনাল পর্যন্ত সাত ম্যাচে জাদুকর ৩৩টি শট নিয়েছেন। সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন ২১টি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার অবদান ছিল এরচেয়ে কম। আরেকটি আশ্চর্যের বিষয়, মেসি মাঠে যেন হাঁটছেন। কিন্তু বল তার পায়ে গেলে বিদ্যুতায়িত হয়ে যান তিনি। গোটা পৃথিবী তখন বদলে যায়। চাঁদ ফিসফিস করে জ্যোৎস্নাকে বলে, নাচ তো একটু। মেসি এখন ম্যাজিক দেখাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রাম আদালতের ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে ঢাকায় প্রশিক্ষণ শুরু

ফুটবল বিশ্বে অনন্য উচ্চতায় লিওনেল মেসি

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সাত ম্যাচে আট গোল ও চার অ্যাসিস্টের জাদুকরী পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে এনেছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা যেন সবুজ গালিচায় ফুটবলীয় ঐশ্বর্যের নতুন গল্প লিখছেন। হরমোনজনিত রোগের বাধা পেরিয়ে আসা রোজারিওর সেই ছেলেটি আজ ষষ্ঠ বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিচ্ছেন। বয়সের ভারে তার যৌবন হয়তো আগের মতো নেই, কিন্তু তার ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা ও প্রতিভা এখনো অমূল্য।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসির প্রভাব ছিল স্পষ্ট। আটলান্টায় ১-০ গোলের লিড নিয়ে ইংল্যান্ড যখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, তখন মাঠের আসল রাজা হিসেবে আবির্ভূত হন মেসি। ৮৫ ও ৯২ মিনিটে তার দুটি নিখুঁত অ্যাসিস্টে এনজো ফার্নান্দেজ এবং লাওতারো মার্তিনেজ গোল করে ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করে দেন। এই জয়ে বুয়েনস এইরেসে উৎসবের জোয়ার বইলেও লন্ডনের আকাশে নেমে আসে বিষাদ। ১৯৬৬ সাল থেকে শিরোপার অপেক্ষায় থাকা ইংল্যান্ডের জন্য এটি ছিল এক দীর্ঘায়িত দুঃসময়।

৯০ মিনিটের ম্যাচে ৯৪ বার বল স্পর্শ করা মেসি যেন আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের স্বরলিপি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ১২টি অ্যাসিস্টের মালিক তিনি, যা তাকে তার পূর্বসূরি দিয়েগো ম্যারাডোনার চেয়ে চার ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। ম্যারাডোনা তার ক্যারিয়ারে মোট আটটি গোলে সহায়তা করেছিলেন। এবারের বিশ্বকাপে মেসি কম দৌড়ালেও সুযোগ তৈরিতে অনন্য। সেমিফাইনাল পর্যন্ত সাত ম্যাচে তিনি ৩৩টি শট নিয়েছেন এবং ২১টি গোল করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন।

মেসির শৈশবের আইডল পাবলো আইমার বলেছিলেন, ‘দ্য লাস্ট মেসি ইজ অলওয়েজ দ্য বেস্ট মেসি।’ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সোনালি ট্রফি জিতে ক্যারিয়ার পূর্ণতা পাওয়া মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপেও নিজের জাদু ধরে রেখেছেন। তার এই জয় তিনি উৎসর্গ করেছেন দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং তার দাদিকে, যিনি শৈশবে তাকে বল পায়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ার শিক্ষা দিয়েছিলেন। নিউইয়র্ক-নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রবিবাসরীয় ফাইনালে মেসির পায়ের সেই ঢেউয়ের তোড়ে স্পেন ভেসে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না, কারণ তিনি সত্যিই ফুটবলের রাজা।

এজন্যই তিনি ফুটবলের রাজা। আর্জেন্টিনার হৃৎপিণ্ড। ৯০ মিনিটের ম্যাচে ৯৪ টাচ। আর্জেন্টিনার আক্রমণ যদি হয় গান, তাহলে মেসি সেই গানের স্বরলিপি। সেমিফাইনালের আলো ঝলমলে মঞ্চে সবাই পার্শ্বচরিত্র। মেসি সেখানে ‘লার্জার দ্যান লাইফ’। জীবনের চেয়েও বড় চরিত্র। ফাইনালে ওঠার লড়াইকে যদি একটি বিশাল ক্যানভাসের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে মেসির দুটি অ্যাসিস্ট তাতে তুলির শেষ আঁচড়। এই দুটি অ্যাসিস্ট আর্জেন্টাইন মহানক্ষত্রকে তার পূর্বসূরি দিয়েগো ম্যারাডোনার চার ধাপ উপরে বসিয়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব মিলিয়ে মেসি এখন ১২টি অ্যাসিস্টের মালিক। ম্যারাডোনা গোলে সহায়তা করেছেন আটবার। এও এক জাদু যে, এই বিশ্বকাপে মেসি দৌড়াচ্ছেন কম, সুযোগ তৈরি করছেন বেশি। সেমিফাইনাল পর্যন্ত সাত ম্যাচে জাদুকর ৩৩টি শট নিয়েছেন। সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন ২১টি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার অবদান ছিল এরচেয়ে কম। আরেকটি আশ্চর্যের বিষয়, মেসি মাঠে যেন হাঁটছেন। কিন্তু বল তার পায়ে গেলে বিদ্যুতায়িত হয়ে যান তিনি। গোটা পৃথিবী তখন বদলে যায়। চাঁদ ফিসফিস করে জ্যোৎস্নাকে বলে, নাচ তো একটু। মেসি এখন ম্যাজিক দেখাবে।