লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমার উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫৩০ রোহিঙ্গার মৃত্যুর আশঙ্কা

মিয়ানমারের উপকূলে পৃথক দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় ৫৩০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমার থেকে নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের খোঁজে সমুদ্রপথে পালিয়ে যাওয়ার সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে বৃহস্পতিবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়।

আইওএম ও ইউএনএইচসিআর-এর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী জুনের শেষ দিকে রোহিঙ্গা যাত্রী বহনকারী দুটি নৌকা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে। এই যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে যাওয়া কয়েকজনও ছিলেন। যদিও ঘটনা এবং হতাহতের সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য এই ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় সংস্থা দুটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, প্রায় ২৫০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা করা প্রথম নৌকাটি ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, প্রায় ২৮০ জন যাত্রী বহনকারী দ্বিতীয় নৌকাটি ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই যাত্রাগুলো নিয়মিত নৌচলাচল মৌসুমের বাইরে সংঘটিত হয়েছে, যখন সমুদ্র সাধারণত উত্তাল ও বিপজ্জনক থাকে।

দীর্ঘদিন ধরেই সহিংসতা, নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ছাড়ছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবিরের কঠিন জীবন থেকে মুক্তি পেতে অনেকে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো দেশে পৌঁছানোর আশায় বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় পা বাড়াচ্ছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত বা নিখোঁজ হন, যা এই রুটকে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সামুদ্রিক পথে পরিণত করেছে।

চলতি বছরেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৪ সালে এ পর্যন্ত আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকসহ প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন। এর আগে গত নভেম্বরে থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া সীমান্তের কাছে লাংকাউই উপকূলে রোহিঙ্গা বহনকারী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় বহু মানুষ প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করলে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে এবং সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির তীব্র সংঘর্ষের মধ্যে রোহিঙ্গারা আটকা পড়েছেন।

যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে যাওয়া কয়েকজনও ছিলেন বলে জানা গেছে।সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, দুটি নৌকাডুবিতে মোট ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢামেকের ৮ তলা থেকে লাফিয়ে চিকিৎসাধীন তরুণীর মৃত্যু

মিয়ানমার উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫৩০ রোহিঙ্গার মৃত্যুর আশঙ্কা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

মিয়ানমারের উপকূলে পৃথক দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় ৫৩০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমার থেকে নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের খোঁজে সমুদ্রপথে পালিয়ে যাওয়ার সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে বৃহস্পতিবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়।

আইওএম ও ইউএনএইচসিআর-এর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী জুনের শেষ দিকে রোহিঙ্গা যাত্রী বহনকারী দুটি নৌকা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে। এই যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে যাওয়া কয়েকজনও ছিলেন। যদিও ঘটনা এবং হতাহতের সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য এই ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় সংস্থা দুটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, প্রায় ২৫০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা করা প্রথম নৌকাটি ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, প্রায় ২৮০ জন যাত্রী বহনকারী দ্বিতীয় নৌকাটি ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই যাত্রাগুলো নিয়মিত নৌচলাচল মৌসুমের বাইরে সংঘটিত হয়েছে, যখন সমুদ্র সাধারণত উত্তাল ও বিপজ্জনক থাকে।

দীর্ঘদিন ধরেই সহিংসতা, নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ছাড়ছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবিরের কঠিন জীবন থেকে মুক্তি পেতে অনেকে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো দেশে পৌঁছানোর আশায় বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় পা বাড়াচ্ছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত বা নিখোঁজ হন, যা এই রুটকে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সামুদ্রিক পথে পরিণত করেছে।

চলতি বছরেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৪ সালে এ পর্যন্ত আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকসহ প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন। এর আগে গত নভেম্বরে থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া সীমান্তের কাছে লাংকাউই উপকূলে রোহিঙ্গা বহনকারী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় বহু মানুষ প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করলে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে এবং সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির তীব্র সংঘর্ষের মধ্যে রোহিঙ্গারা আটকা পড়েছেন।

যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে যাওয়া কয়েকজনও ছিলেন বলে জানা গেছে।সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, দুটি নৌকাডুবিতে মোট ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।