লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউজিল্যান্ডে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

নিউজিল্যান্ড সরকার ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে সোমবার নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে শিশু-কিশোরদের দূরে রাখার বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নিউজিল্যান্ড এই পদক্ষেপ নিল। এর আগে গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আইন কার্যকর করে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোও একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

প্রস্তাবিত এই আইনের অধীনে মেটার মতো কোম্পানি যদি আইন অমান্য করে, তবে তাদের বৈশ্বিক রাজস্বের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন এই উদ্যোগের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, নিউজিল্যান্ডের একটি প্রজন্মের শিশুদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতি তিনজন শিশুর একজন প্রতিদিন অন্তত পাঁচ ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় করে।

লাক্সন উল্লেখ করেন, এসব প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিকর কনটেন্ট আসক্তি তৈরি করে এবং এমন চাপের মুখে ফেলে, যার জন্য শিশুরা মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের পারিবারিক জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম ও শিক্ষাক্ষেত্রে। নতুন আইনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স ১৬ বছরের বেশি কি না, তা যাচাইয়ে যুক্তিসংগত পদক্ষেপ নিতে হবে। এর জন্য বিদ্যমান অ্যাকাউন্টের তথ্য, মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিচয় সেবা এবং আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী এরিকা স্ট্যানফোর্ড জানিয়েছেন, বিলটিতে প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এর জন্য শিশু বা তাদের বাবা-মা ও অভিভাবকদের কোনো জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়নি। এছাড়া কোম্পানিগুলোকে তাদের সৃষ্ট ঝুঁকি মূল্যায়ন করে তা কমানোর পদক্ষেপ সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

তবে এই বিলটি পাস হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ন্যাশনাল পার্টির জোটসঙ্গী লিবার্টেরিয়ান অ্যাক্ট পার্টি ও পপুলিস্ট এনজেড ফার্স্ট এই আইনের বিরোধিতা করেছে। এনজেড ফার্স্ট জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার আইন ব্যর্থ হওয়ায় তারা একে সমর্থন করবে না। অন্যদিকে অ্যাক্ট পার্টির দাবি, এই আইন কার্যকর হবে না এবং কিশোর-কিশোরীরা সহজেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাবে। প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টিও এই বিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বয়স যাচাই পদ্ধতি এবং কোন কোন প্ল্যাটফর্ম এর আওতায় পড়বে, তা নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব হলেন মো. ইউনুস আলী

নিউজিল্যান্ডে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

নিউজিল্যান্ড সরকার ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে সোমবার নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে শিশু-কিশোরদের দূরে রাখার বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নিউজিল্যান্ড এই পদক্ষেপ নিল। এর আগে গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আইন কার্যকর করে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোও একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

প্রস্তাবিত এই আইনের অধীনে মেটার মতো কোম্পানি যদি আইন অমান্য করে, তবে তাদের বৈশ্বিক রাজস্বের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন এই উদ্যোগের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, নিউজিল্যান্ডের একটি প্রজন্মের শিশুদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতি তিনজন শিশুর একজন প্রতিদিন অন্তত পাঁচ ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় করে।

লাক্সন উল্লেখ করেন, এসব প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিকর কনটেন্ট আসক্তি তৈরি করে এবং এমন চাপের মুখে ফেলে, যার জন্য শিশুরা মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের পারিবারিক জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম ও শিক্ষাক্ষেত্রে। নতুন আইনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স ১৬ বছরের বেশি কি না, তা যাচাইয়ে যুক্তিসংগত পদক্ষেপ নিতে হবে। এর জন্য বিদ্যমান অ্যাকাউন্টের তথ্য, মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিচয় সেবা এবং আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী এরিকা স্ট্যানফোর্ড জানিয়েছেন, বিলটিতে প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এর জন্য শিশু বা তাদের বাবা-মা ও অভিভাবকদের কোনো জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়নি। এছাড়া কোম্পানিগুলোকে তাদের সৃষ্ট ঝুঁকি মূল্যায়ন করে তা কমানোর পদক্ষেপ সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

তবে এই বিলটি পাস হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ন্যাশনাল পার্টির জোটসঙ্গী লিবার্টেরিয়ান অ্যাক্ট পার্টি ও পপুলিস্ট এনজেড ফার্স্ট এই আইনের বিরোধিতা করেছে। এনজেড ফার্স্ট জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার আইন ব্যর্থ হওয়ায় তারা একে সমর্থন করবে না। অন্যদিকে অ্যাক্ট পার্টির দাবি, এই আইন কার্যকর হবে না এবং কিশোর-কিশোরীরা সহজেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাবে। প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টিও এই বিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বয়স যাচাই পদ্ধতি এবং কোন কোন প্ল্যাটফর্ম এর আওতায় পড়বে, তা নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে।