লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ সংকট কাটাতে ওমান-ইরান বৈঠক, পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। টানা ১৪ দিনের মতো দুই পক্ষই একে অপরের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংঘাতের জেরে প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তেলের দামের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংকট সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ওমান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, চলমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অংশ হিসেবে ওমানের একটি প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করেছে। এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। তবে এই আলোচনায় ঠিক কী ধরনের প্রস্তাব বা পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে সংকট শুরুর পর থেকেই তেহরান বলে আসছে, তারা ওমানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পরিচালনা করতে আগ্রহী। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ইরানের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

হরমুজ প্রণালির প্রবেশ ও প্রস্থানের মুখে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ওমান দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের বিভিন্ন বিরোধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশটি একদিকে যেমন ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো আন্তর্জাতিক নৌচলাচল ও বাণিজ্যের জন্য সবসময় উন্মুক্ত এবং নির্বিঘ্ন থাকা উচিত।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও শুক্রবার টানা ১৪তম দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছে। গত মাসে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যকর করা হলেও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধের জেরে তা ভেঙে পড়ে। এর মধ্যে গত সোমবার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করায় এই সংঘাত আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এছাড়া ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় সেখানে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের একটি ডেটা সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ওই ডেটা সেন্টারটি মার্কিন বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছিল।

অন্যদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথি বিদ্রোহীরা হরমুজ প্রণালি ও কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। তবে হুথিদের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, তারা কোনো নৌপথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরে হাতির ধাক্কায় ইজিবাইক উল্টে ১০ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু

হরমুজ সংকট কাটাতে ওমান-ইরান বৈঠক, পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৫১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। টানা ১৪ দিনের মতো দুই পক্ষই একে অপরের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংঘাতের জেরে প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তেলের দামের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংকট সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ওমান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, চলমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অংশ হিসেবে ওমানের একটি প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করেছে। এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। তবে এই আলোচনায় ঠিক কী ধরনের প্রস্তাব বা পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে সংকট শুরুর পর থেকেই তেহরান বলে আসছে, তারা ওমানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পরিচালনা করতে আগ্রহী। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ইরানের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

হরমুজ প্রণালির প্রবেশ ও প্রস্থানের মুখে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ওমান দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের বিভিন্ন বিরোধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশটি একদিকে যেমন ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো আন্তর্জাতিক নৌচলাচল ও বাণিজ্যের জন্য সবসময় উন্মুক্ত এবং নির্বিঘ্ন থাকা উচিত।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও শুক্রবার টানা ১৪তম দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছে। গত মাসে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যকর করা হলেও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধের জেরে তা ভেঙে পড়ে। এর মধ্যে গত সোমবার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করায় এই সংঘাত আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এছাড়া ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় সেখানে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের একটি ডেটা সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ওই ডেটা সেন্টারটি মার্কিন বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছিল।

অন্যদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথি বিদ্রোহীরা হরমুজ প্রণালি ও কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। তবে হুথিদের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, তারা কোনো নৌপথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেননি।