লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৭.৯৬ ক্যারেটের হীরা পেয়ে রাতারাতি ভাগ্য বদল ৭ শ্রমিকের

ভারতের মধ্যপ্রদেশের পান্না জেলাকে বলা হয় হীরার ভূমি। তবে এই রত্নভাণ্ডারের ওপর বাস করেও সেখানকার সাধারণ মানুষের জীবন কাটে চরম দারিদ্র্য আর বেকারত্বের মধ্যে। এমনই এক প্রতিকূলতার মধ্যে জীবন কাটানো চা বিক্রেতা আখিলেশ পাল এবং তার ছয় সঙ্গী হঠাৎই এক অলৌকিক সৌভাগ্যের দেখা পেয়েছেন। পরিত্যক্ত একটি খনিতে কাদার ওপর চকচক করতে থাকা ১৭.৯৬ ক্যারেটের এক দুর্লভ হীরা বদলে দিয়েছে এই সাত দিনমজুরের ভাগ্য।

দুই বছর আগে সারোখা গ্রামে সামান্য কিছু টাকা জমিয়ে সরকারি নিয়মে একটি ছোট খনি লিজ নিয়েছিলেন আখিলেশ ও তার বন্ধুরা। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর হাড়ভাঙা খাটুনির পরও কোনো হীরা না পেয়ে হতাশ হয়ে বছরখানেক আগে তারা সেই কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর ঠিক পাশেই নতুন একটি জায়গায় তারা পুনরায় খনন শুরু করেন। সম্প্রতি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পর সারোখা গ্রামের মাটি ধসে যায় এবং তাদের ফেলে রাখা পুরোনো পরিত্যক্ত খনিটির ওপরের কাদার স্তর ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে যায়। গত সোমবার আখিলেশ কৌতূহলবশত সেই পুরোনো খনিতে চোখ বুলাতেই কাদার ওপর একটি পাথর জ্বলজ্বল করতে দেখেন। হাতে তুলে নিতেই তিনি বুঝতে পারেন, এটি তাদের ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি।

পান্না জেলা হীরা কার্যালয়ের কর্মকর্তা রবি প্যাটেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত করেছেন যে, এটি অত্যন্ত উচ্চমানের ও দুর্লভ ‘জেম কোয়ালিটি’ বা রত্ন মানের প্রাকৃতিক হীরা। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর মাসে উন্মুক্ত নিলামে হীরাটি তোলা হবে। সেখানে দেশ-বিদেশের ক্রেতাদের উপস্থিতিতে এটির মূল্য অন্তত ৫০ লাখ রুপি বা তার চেয়েও বেশি ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বিক্রয়লব্ধ অর্থের ১২ শতাংশ রয়্যালটি কেটে নিয়ে অবশিষ্ট সমস্ত টাকা এই সাত শ্রমিকের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে।

এই অভাবনীয় প্রাপ্তি শুধু তাদের দারিদ্র্যই ঘোচাবে না, বরং পূরণ করতে চলেছে তাদের জীবনের এক বড় স্বপ্ন। তীব্র অভাবের কারণে এত দিন পাত্র হিসেবে কেউ এই যুবকদের মেনে নেয়নি, ফলে তাদের বিয়ে আটকে ছিল। এই সাতজনের মধ্যে তিন যুবক জানান, রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার এই সুযোগ তাদের একটি সুন্দর সংসার গড়ে তোলার আজন্ম লালিত স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছে। কাদা-মাটি থেকে পাওয়া এই মূল্যবান রত্নটি এখন তাদের কাছে নতুন করে বেঁচে থাকার এক উজ্জ্বল প্রতীক।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইস্তাম্বুল জাস্টিস সামিটে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব ভাগের আহ্বান আইনমন্ত্রীর

১৭.৯৬ ক্যারেটের হীরা পেয়ে রাতারাতি ভাগ্য বদল ৭ শ্রমিকের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের মধ্যপ্রদেশের পান্না জেলাকে বলা হয় হীরার ভূমি। তবে এই রত্নভাণ্ডারের ওপর বাস করেও সেখানকার সাধারণ মানুষের জীবন কাটে চরম দারিদ্র্য আর বেকারত্বের মধ্যে। এমনই এক প্রতিকূলতার মধ্যে জীবন কাটানো চা বিক্রেতা আখিলেশ পাল এবং তার ছয় সঙ্গী হঠাৎই এক অলৌকিক সৌভাগ্যের দেখা পেয়েছেন। পরিত্যক্ত একটি খনিতে কাদার ওপর চকচক করতে থাকা ১৭.৯৬ ক্যারেটের এক দুর্লভ হীরা বদলে দিয়েছে এই সাত দিনমজুরের ভাগ্য।

দুই বছর আগে সারোখা গ্রামে সামান্য কিছু টাকা জমিয়ে সরকারি নিয়মে একটি ছোট খনি লিজ নিয়েছিলেন আখিলেশ ও তার বন্ধুরা। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর হাড়ভাঙা খাটুনির পরও কোনো হীরা না পেয়ে হতাশ হয়ে বছরখানেক আগে তারা সেই কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর ঠিক পাশেই নতুন একটি জায়গায় তারা পুনরায় খনন শুরু করেন। সম্প্রতি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পর সারোখা গ্রামের মাটি ধসে যায় এবং তাদের ফেলে রাখা পুরোনো পরিত্যক্ত খনিটির ওপরের কাদার স্তর ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে যায়। গত সোমবার আখিলেশ কৌতূহলবশত সেই পুরোনো খনিতে চোখ বুলাতেই কাদার ওপর একটি পাথর জ্বলজ্বল করতে দেখেন। হাতে তুলে নিতেই তিনি বুঝতে পারেন, এটি তাদের ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি।

পান্না জেলা হীরা কার্যালয়ের কর্মকর্তা রবি প্যাটেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত করেছেন যে, এটি অত্যন্ত উচ্চমানের ও দুর্লভ ‘জেম কোয়ালিটি’ বা রত্ন মানের প্রাকৃতিক হীরা। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর মাসে উন্মুক্ত নিলামে হীরাটি তোলা হবে। সেখানে দেশ-বিদেশের ক্রেতাদের উপস্থিতিতে এটির মূল্য অন্তত ৫০ লাখ রুপি বা তার চেয়েও বেশি ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বিক্রয়লব্ধ অর্থের ১২ শতাংশ রয়্যালটি কেটে নিয়ে অবশিষ্ট সমস্ত টাকা এই সাত শ্রমিকের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে।

এই অভাবনীয় প্রাপ্তি শুধু তাদের দারিদ্র্যই ঘোচাবে না, বরং পূরণ করতে চলেছে তাদের জীবনের এক বড় স্বপ্ন। তীব্র অভাবের কারণে এত দিন পাত্র হিসেবে কেউ এই যুবকদের মেনে নেয়নি, ফলে তাদের বিয়ে আটকে ছিল। এই সাতজনের মধ্যে তিন যুবক জানান, রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার এই সুযোগ তাদের একটি সুন্দর সংসার গড়ে তোলার আজন্ম লালিত স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছে। কাদা-মাটি থেকে পাওয়া এই মূল্যবান রত্নটি এখন তাদের কাছে নতুন করে বেঁচে থাকার এক উজ্জ্বল প্রতীক।