লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমাকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল: পরীমণি

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি ২০২১ সালের সেই আলোচিত গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলামের একটি অনলাইন টকশোতে দেওয়া বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।

পরীমনির ভাষ্যমতে, র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলাম দেরিতে হলেও কিছু সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। এর মাধ্যমে দেশবাসী জানতে পেরেছে যে, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীতে তার বাসায় দীর্ঘ সময় ধরে অভিযানের নামে নাটকীয়তা চালানো হয়েছিল। অভিনেত্রী অভিযোগ করেন, তৎকালীন র‍্যাব প্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে তাকে সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনিভাবে, বিশেষ মহলের স্বার্থে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

পরীমণি জানান, পরবর্তীতে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়। তিনি বলেন, ওই সময়ের অভিজ্ঞতা তার জীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি মনে করেন, সত্য চিরদিন চাপা রাখা যায় না এবং এক সময় তা প্রকাশিত হয়ই।

গ্রেফতারের দিন থেকে আজ পর্যন্ত নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করে পরীমণি বলেন, যেভাবে তাকে অপদস্থ করা হয়েছে এবং তার সম্মান, নৈতিকতা ও চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবন বিপর্যস্ত করার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো নির্দোষ মানুষ এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন, সেই প্রত্যাশা জানান।

অভিনেত্রী আরও বলেন, তিনি এখন আর কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা ভাবছেন না, বরং সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলতে চান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আদালত হয়তো তাকে রাষ্ট্রীয় সেই সাজানো মামলা থেকে অব্যাহতি দেবেন। তবে তিনি প্রশ্ন রাখেন, যে সম্মান ও মানসিক শান্তি তিনি হারিয়েছেন, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে?

সবশেষে পরীমণি জানান, তিনি নিজেকে বিতর্কিত মানুষ হিসেবে নয়, বরং একজন শিল্পী হিসেবেই বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছেন। কঠিন সময়ে যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভক্তদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি অতীতের ক্ষত বয়ে না বেড়িয়ে মুক্ত আকাশে উড়তে চান এবং বাকি জীবন কাজ ও সন্তানকে নিয়ে বাঁচতে চান।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

আমাকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল: পরীমণি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি ২০২১ সালের সেই আলোচিত গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলামের একটি অনলাইন টকশোতে দেওয়া বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।

পরীমনির ভাষ্যমতে, র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলাম দেরিতে হলেও কিছু সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। এর মাধ্যমে দেশবাসী জানতে পেরেছে যে, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীতে তার বাসায় দীর্ঘ সময় ধরে অভিযানের নামে নাটকীয়তা চালানো হয়েছিল। অভিনেত্রী অভিযোগ করেন, তৎকালীন র‍্যাব প্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে তাকে সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনিভাবে, বিশেষ মহলের স্বার্থে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

পরীমণি জানান, পরবর্তীতে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়। তিনি বলেন, ওই সময়ের অভিজ্ঞতা তার জীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি মনে করেন, সত্য চিরদিন চাপা রাখা যায় না এবং এক সময় তা প্রকাশিত হয়ই।

গ্রেফতারের দিন থেকে আজ পর্যন্ত নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করে পরীমণি বলেন, যেভাবে তাকে অপদস্থ করা হয়েছে এবং তার সম্মান, নৈতিকতা ও চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবন বিপর্যস্ত করার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো নির্দোষ মানুষ এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন, সেই প্রত্যাশা জানান।

অভিনেত্রী আরও বলেন, তিনি এখন আর কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা ভাবছেন না, বরং সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলতে চান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আদালত হয়তো তাকে রাষ্ট্রীয় সেই সাজানো মামলা থেকে অব্যাহতি দেবেন। তবে তিনি প্রশ্ন রাখেন, যে সম্মান ও মানসিক শান্তি তিনি হারিয়েছেন, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে?

সবশেষে পরীমণি জানান, তিনি নিজেকে বিতর্কিত মানুষ হিসেবে নয়, বরং একজন শিল্পী হিসেবেই বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছেন। কঠিন সময়ে যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভক্তদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি অতীতের ক্ষত বয়ে না বেড়িয়ে মুক্ত আকাশে উড়তে চান এবং বাকি জীবন কাজ ও সন্তানকে নিয়ে বাঁচতে চান।