লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপূজায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার রাষ্ট্রপতির

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি দেশে ও বিদেশে বসবাসরত সব হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা, সংস্কার এবং উন্নয়নে সরকার সহায়তা দিয়ে আসছে। পুরোহিতদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলাভাষী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শরতের নির্মল আকাশ, শুভ্র কাশফুল এবং উৎসবের আনন্দঘন পরিবেশ প্রতিবছর দেবী দুর্গার আগমন উপলক্ষে ভক্তদের মনে নতুন আশা ও কল্যাণের প্রত্যয় জাগিয়ে তোলে। অসুরের বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়ই এই দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত বার্তা, যা অন্যায়, অসত্য ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও মানবতার চিরন্তন আহ্বান জানায়।

তিনি আরও বলেন, আবহমানকাল ধরে হিন্দু সম্প্রদায় উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে, যা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এটি কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় পর্ব নয়, বরং চিরায়ত বাংলার সমাজ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে রয়েছে। এ উৎসবে সমাজের সব স্তরের মানুষ সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জেগে ওঠে।

দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায় যেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্ভয়ে, স্বাধীন, নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে উদযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রতিটি ধর্ম মানুষকে সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয় এবং অন্যায় ও অসত্য থেকে দূরে রেখে মুক্তির পথ দেখায়।

ধর্ম, বর্ণ বা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের কারণে কোনো মানুষ যেন বৈষম্য, বঞ্চনা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সবার দায়িত্ব বলে বাণীতে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে দুর্গাপূজার আনন্দ যেন অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে, সেই আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, এই উৎসব সবার জীবনে অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে এবং দেশে-বিদেশে গৃহীত সব কর্মসূচির পূর্ণ সফলতা কামনা করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঁড়াশি অভিযানে দেড় হাজার গ্রেপ্তার, তবু নিয়ন্ত্রণে আসছে না কিশোর গ্যাং

দুর্গাপূজায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার রাষ্ট্রপতির

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:১৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি দেশে ও বিদেশে বসবাসরত সব হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা, সংস্কার এবং উন্নয়নে সরকার সহায়তা দিয়ে আসছে। পুরোহিতদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলাভাষী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শরতের নির্মল আকাশ, শুভ্র কাশফুল এবং উৎসবের আনন্দঘন পরিবেশ প্রতিবছর দেবী দুর্গার আগমন উপলক্ষে ভক্তদের মনে নতুন আশা ও কল্যাণের প্রত্যয় জাগিয়ে তোলে। অসুরের বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়ই এই দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত বার্তা, যা অন্যায়, অসত্য ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও মানবতার চিরন্তন আহ্বান জানায়।

তিনি আরও বলেন, আবহমানকাল ধরে হিন্দু সম্প্রদায় উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে, যা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এটি কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় পর্ব নয়, বরং চিরায়ত বাংলার সমাজ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে রয়েছে। এ উৎসবে সমাজের সব স্তরের মানুষ সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জেগে ওঠে।

দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায় যেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্ভয়ে, স্বাধীন, নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে উদযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রতিটি ধর্ম মানুষকে সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয় এবং অন্যায় ও অসত্য থেকে দূরে রেখে মুক্তির পথ দেখায়।

ধর্ম, বর্ণ বা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের কারণে কোনো মানুষ যেন বৈষম্য, বঞ্চনা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সবার দায়িত্ব বলে বাণীতে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে দুর্গাপূজার আনন্দ যেন অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে, সেই আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, এই উৎসব সবার জীবনে অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে এবং দেশে-বিদেশে গৃহীত সব কর্মসূচির পূর্ণ সফলতা কামনা করেন।