লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, তিনি ইতিমধ্যে তাঁর অধস্তন কর্মীদের বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং পদত্যাগের পর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। তবে ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন তাঁর অপসারণের দাবি জানালেও অন্তর্বর্তী সরকার এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ সামলাতে হবে, তাই গ্রহণযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকারে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বরত একজন সচিবের নাম আলোচনায় থাকলেও, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নামও অতীতে এই পদে আলোচনায় ছিল। তবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। যেহেতু সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এর আগে ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এস আলম গ্রুপের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ছিল। বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাচ্ছে, যা পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে এখনো বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সয়াবিন তেল, চিনি ও দুধে মিলছে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক

শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৬:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, তিনি ইতিমধ্যে তাঁর অধস্তন কর্মীদের বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং পদত্যাগের পর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও তাই গুরুত্ব পাচ্ছে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। তবে ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন তাঁর অপসারণের দাবি জানালেও অন্তর্বর্তী সরকার এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ সামলাতে হবে, তাই গ্রহণযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকারে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বরত একজন সচিবের নাম আলোচনায় থাকলেও, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নামও অতীতে এই পদে আলোচনায় ছিল। তবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। যেহেতু সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এর আগে ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এস আলম গ্রুপের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ছিল। বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাচ্ছে, যা পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে এখনো বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।