লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২০২৬ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ, অর্জন ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছেন। রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০২৬-এ বাংলাদেশ: কূটনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্জনের গতিধারা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস (বিসিএআই) ও সিটিজেনস’ ফোরাম, বাংলাদেশ (সিএফবি)।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. সাখাওয়াত হোসেন সায়ান্থ। আলোচনার সূচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. তানভীর হাবিব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ থেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এর দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাই জ্বালানি, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটসহ আন্তর্জাতিক সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস এ ইসলাম বলেন, ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো কিছু গোপন না করে সাহসের সঙ্গে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন এবং শান্তির বার্তা দিয়েছেন।

আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটকে জাতীয় ও অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বেশ কয়েকজন বক্তা মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং বাংলাদেশের দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. বুলবুল সিদ্দিকী বলেন, ছোট রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এবার বিশ্বদরবারে নিজেদের বক্তব্য কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জেপি মরগ্যান ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করেছে।

এছাড়া কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নিয়েও আলোচনা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. কামরুল আহসান শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে সক্ষমতা গড়ার পরামর্শ দেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. মোস্তফা হোসাইন ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক আদালতে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে রোহিঙ্গা সংকটকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার কথা বলেন। বক্তারা চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগেভাগে পদক্ষেপ নেওয়ার এবং ব্লু ইকোনমি ও তিস্তা প্রকল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা স্ট্রিমের সিইও মো. সোহেল রানা, অধ্যাপক ইউসুফ হায়দার, রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী ও এআইইউবির রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম খান অংশ নেন। সবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ সভাপতি হিসেবে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী কুমকুমের হাত ধরে অলিম্পিকে ভারতের নতুন স্বপ্ন

পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২০২৬ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ, অর্জন ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছেন। রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০২৬-এ বাংলাদেশ: কূটনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্জনের গতিধারা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস (বিসিএআই) ও সিটিজেনস’ ফোরাম, বাংলাদেশ (সিএফবি)।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. সাখাওয়াত হোসেন সায়ান্থ। আলোচনার সূচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. তানভীর হাবিব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ থেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এর দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাই জ্বালানি, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটসহ আন্তর্জাতিক সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস এ ইসলাম বলেন, ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো কিছু গোপন না করে সাহসের সঙ্গে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন এবং শান্তির বার্তা দিয়েছেন।

আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটকে জাতীয় ও অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বেশ কয়েকজন বক্তা মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং বাংলাদেশের দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. বুলবুল সিদ্দিকী বলেন, ছোট রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এবার বিশ্বদরবারে নিজেদের বক্তব্য কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জেপি মরগ্যান ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করেছে।

এছাড়া কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নিয়েও আলোচনা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. কামরুল আহসান শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে সক্ষমতা গড়ার পরামর্শ দেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. মোস্তফা হোসাইন ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক আদালতে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে রোহিঙ্গা সংকটকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার কথা বলেন। বক্তারা চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগেভাগে পদক্ষেপ নেওয়ার এবং ব্লু ইকোনমি ও তিস্তা প্রকল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা স্ট্রিমের সিইও মো. সোহেল রানা, অধ্যাপক ইউসুফ হায়দার, রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী ও এআইইউবির রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম খান অংশ নেন। সবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ সভাপতি হিসেবে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।