লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়েছে বিক্ষোভ

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত তরুণরা দিল্লির যন্তর-মন্তর ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সংসদের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়ার পর এই আন্দোলনের গতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দিল্লির বাইরেও বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

দিল্লির পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের মুম্বাই, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু ও বিহারের পাটনার মতো শহরগুলোতে এদিন বিক্ষোভ হয়েছে। প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাটনায় আন্দোলনকারী তরুণদের সমাবেশে পুলিশ টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করেছে। এছাড়া গুজরাটের আহমেদাবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর কয়েকজন সমর্থককে পুলিশ আটক করেছে। সিজেপির নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলন বর্তমানে নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগের দিন আটক হওয়া কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার কালো পোশাক পরে সংসদে উপস্থিত হয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ছাত্রদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তাদের সুরক্ষা ও ভবিষ্যতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।”

এর আগে মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, “সরকার সংস্কারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে।”

তবে শিক্ষামন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরও বুধবার যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত অব্যাহত ছিল। উত্তরাঞ্চলের হরিয়ানা থেকে আন্দোলনে যোগ দেওয়া এক তরুণী অভিযোগ করেন, “সরকার আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে।” আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, “প্রথমবারের মতো দেশের তরুণরা নিজেদের আওয়াজ তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে। পুলিশের মারধর ও বলপ্রয়োগের কারণে কেউ কেউ ভয় পেলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা থেমে গেলে আন্দোলন পুনরায় শুরু করা কঠিন হবে। ভারতে ভবিষ্যৎ কল্পনা করাও এখন কঠিন। এখানে আওয়াজ তুললেই চুপ করে দেওয়া হয়। পুরো ব্যবস্থাটাই বদলাতে হবে এবং রাজনৈতিক নেতাদের তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানের হাঙ্গুতে পুলিশ চেকপোস্টে সন্ত্রাসী হামলা, ডিএসপিসহ নিহত ৭

ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়েছে বিক্ষোভ

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত তরুণরা দিল্লির যন্তর-মন্তর ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সংসদের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়ার পর এই আন্দোলনের গতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দিল্লির বাইরেও বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

দিল্লির পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের মুম্বাই, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু ও বিহারের পাটনার মতো শহরগুলোতে এদিন বিক্ষোভ হয়েছে। প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাটনায় আন্দোলনকারী তরুণদের সমাবেশে পুলিশ টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করেছে। এছাড়া গুজরাটের আহমেদাবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর কয়েকজন সমর্থককে পুলিশ আটক করেছে। সিজেপির নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলন বর্তমানে নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগের দিন আটক হওয়া কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার কালো পোশাক পরে সংসদে উপস্থিত হয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ছাত্রদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তাদের সুরক্ষা ও ভবিষ্যতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।”

এর আগে মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, “সরকার সংস্কারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে।”

তবে শিক্ষামন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরও বুধবার যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত অব্যাহত ছিল। উত্তরাঞ্চলের হরিয়ানা থেকে আন্দোলনে যোগ দেওয়া এক তরুণী অভিযোগ করেন, “সরকার আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে।” আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, “প্রথমবারের মতো দেশের তরুণরা নিজেদের আওয়াজ তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে। পুলিশের মারধর ও বলপ্রয়োগের কারণে কেউ কেউ ভয় পেলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা থেমে গেলে আন্দোলন পুনরায় শুরু করা কঠিন হবে। ভারতে ভবিষ্যৎ কল্পনা করাও এখন কঠিন। এখানে আওয়াজ তুললেই চুপ করে দেওয়া হয়। পুরো ব্যবস্থাটাই বদলাতে হবে এবং রাজনৈতিক নেতাদের তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।”