লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানি পাইলটদের গোপনে আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করল কাতার

চলতি বছরের শুরুতে ভূপাতিত ইরানি যুদ্ধবিমানের পাইলটদের গোপনে আটকে রাখার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। শনিবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের এই দাবিকে ‘বিভ্রান্তিকর বক্তব্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে তেহরানের পক্ষ থেকে এমন দাবিতে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছে দোহা। কাতারের সংবাদসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দাবি করেন, গত মার্চে কাতারের আকাশসীমায় সু-২৪ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিন পাইলটকে জীবিত আটক করা হয়। আটককৃত পাইলটরা হলেন—জাভাদ সালেহি, আবদোলমাজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরাভেশিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্সের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, এই তিন পাইলটকে গত ছয় মাস ধরে পরিবার ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দিয়ে গোপনে বন্দি রাখা হয়েছে। বাঘেরজাদেহ এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।

তবে কাতারের পক্ষ থেকে এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করা হয়েছে। কাতারের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, গত মার্চে তাদের আকাশসীমায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা ইরানি যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সতর্কবার্তায় কোনো সাড়া না পেয়ে বিমানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল মাজিদ কাজেমি নামের একজন পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে সেই মরদেহ ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছিল বলে জানায় কাতার।

মাজেদ আল-আনসারি আরও জানান, গত এপ্রিল মাসে উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত জানাতে ইরানের একটি প্রতিনিধিদলকে কাতার সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু তেহরান এখন পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি। উল্লেখ্য, ইরানি বিমান ভূপাতিত করার এই ঘটনাটি ঘটেছিল কাতারে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি আল-উদেইদে হামলার সময়। এই ঘাঁটিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সদস্যরা অবস্থান করেন। মার্চের শুরুতে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তাদের বাহিনী দুটি ইরানি সুখোই সু-২৪ বোমারু বিমান ভূপাতিত করেছে, যা ছিল কোনো উপসাগরীয় দেশ কর্তৃক ইরানি সামরিক বিমান ভূপাতিত করার প্রথম প্রকাশ্য দাবি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। যদিও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এপ্রিল মাসে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, কিন্তু জুনে এসে শান্তি আলোচনার কাঠামোটি ভেঙে পড়ে। এরপর হরমুজ প্রণালির আশপাশে নতুন করে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ এবং নৌপথ ও অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা ঘটে। পাইলটদের আটকে রাখার অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হলেও, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতার জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার এখনও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

এদিকে, মধ্য জুনে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অধীনে নির্ধারিত ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা আগামী সোমবার শেষ হতে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় শান্তি প্রচেষ্টা এখন বড় ধরনের uncertainty বা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ‘খুব খারাপভাবে পরাজিত’ হচ্ছে এবং তিনি শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ ঘোষণা করতে পারেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য শনিবার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি এক্সে বলেন, একটি পোস্ট বা রণতরী দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখল করা অসম্ভব। ওয়াশিংটন পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে না নেওয়া পর্যন্ত ইরান এই প্রণালিতে তাদের অবরোধ বজায় রাখবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ফলে ইরানি পাইলটদের আটকের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কাতার-ইরান কূটনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ঘিরে আঞ্চলিক সংকটও আরও জটিল হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে, ডাসারে ভূমি অফিসের নাজির গ্রেপ্তার

ইরানি পাইলটদের গোপনে আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করল কাতার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

চলতি বছরের শুরুতে ভূপাতিত ইরানি যুদ্ধবিমানের পাইলটদের গোপনে আটকে রাখার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। শনিবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের এই দাবিকে ‘বিভ্রান্তিকর বক্তব্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে তেহরানের পক্ষ থেকে এমন দাবিতে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছে দোহা। কাতারের সংবাদসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দাবি করেন, গত মার্চে কাতারের আকাশসীমায় সু-২৪ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিন পাইলটকে জীবিত আটক করা হয়। আটককৃত পাইলটরা হলেন—জাভাদ সালেহি, আবদোলমাজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরাভেশিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্সের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, এই তিন পাইলটকে গত ছয় মাস ধরে পরিবার ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দিয়ে গোপনে বন্দি রাখা হয়েছে। বাঘেরজাদেহ এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।

তবে কাতারের পক্ষ থেকে এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করা হয়েছে। কাতারের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, গত মার্চে তাদের আকাশসীমায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা ইরানি যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সতর্কবার্তায় কোনো সাড়া না পেয়ে বিমানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল মাজিদ কাজেমি নামের একজন পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে সেই মরদেহ ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছিল বলে জানায় কাতার।

মাজেদ আল-আনসারি আরও জানান, গত এপ্রিল মাসে উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত জানাতে ইরানের একটি প্রতিনিধিদলকে কাতার সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু তেহরান এখন পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি। উল্লেখ্য, ইরানি বিমান ভূপাতিত করার এই ঘটনাটি ঘটেছিল কাতারে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি আল-উদেইদে হামলার সময়। এই ঘাঁটিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সদস্যরা অবস্থান করেন। মার্চের শুরুতে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তাদের বাহিনী দুটি ইরানি সুখোই সু-২৪ বোমারু বিমান ভূপাতিত করেছে, যা ছিল কোনো উপসাগরীয় দেশ কর্তৃক ইরানি সামরিক বিমান ভূপাতিত করার প্রথম প্রকাশ্য দাবি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। যদিও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এপ্রিল মাসে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, কিন্তু জুনে এসে শান্তি আলোচনার কাঠামোটি ভেঙে পড়ে। এরপর হরমুজ প্রণালির আশপাশে নতুন করে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ এবং নৌপথ ও অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা ঘটে। পাইলটদের আটকে রাখার অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হলেও, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতার জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার এখনও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

এদিকে, মধ্য জুনে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অধীনে নির্ধারিত ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা আগামী সোমবার শেষ হতে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় শান্তি প্রচেষ্টা এখন বড় ধরনের uncertainty বা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ‘খুব খারাপভাবে পরাজিত’ হচ্ছে এবং তিনি শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ ঘোষণা করতে পারেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য শনিবার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি এক্সে বলেন, একটি পোস্ট বা রণতরী দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখল করা অসম্ভব। ওয়াশিংটন পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে না নেওয়া পর্যন্ত ইরান এই প্রণালিতে তাদের অবরোধ বজায় রাখবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ফলে ইরানি পাইলটদের আটকের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কাতার-ইরান কূটনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ঘিরে আঞ্চলিক সংকটও আরও জটিল হয়ে উঠছে।