লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরআনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক যেভাবে জীবনকে সুন্দর ও অর্থবহ করে

মানুষের অস্তিত্ব কেবল দৃশ্যমান দেহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে রয়েছে একটি আত্মাও। দেহের সুস্থতায় যেমন খাদ্যের প্রয়োজন, তেমনি আত্মার সতেজতা ও সঠিক পুষ্টির জন্য পবিত্র কোরআন অপরিহার্য। এটি মানুষের অন্তরকে জীবন্ত রাখে, অনাবিল প্রশান্তি দেয় এবং জীবনের প্রতিটি ধাপে সঠিক পথের দিশা দেখায়। কোরআনের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যত নিবিড় হয়, তার যাপিত জীবন ততই অর্থবহ ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

জীবনের নানা পর্যায়ে মানুষ যখন দুশ্চিন্তা, ভয় কিংবা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়, তখন পার্থিব কোনো সম্পদই হৃদয়ের শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। কোরআন মানুষকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সবকিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ। তিনিই সংকটের সমাধানদাতা এবং তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কোনো বিপদ আসে না। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা রা’দ, আয়াত: ২৮)। এই অটল বিশ্বাস একজন মুমিনের অন্তরে গভীর প্রশান্তি তৈরি করে।

বিভ্রান্তির অন্ধকারে কোরআন মানুষকে আলোর পথ দেখায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই এই কোরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক।’ (সুরা ইসরা, আয়াত: ৯)। নিয়মিত কোরআন পাঠ ও এর অর্থ নিয়ে চিন্তা করলে মানুষের বিবেক জাগ্রত হয়, যা তাকে পরিবার, সমাজ ও কর্মজীবনের জটিল সিদ্ধান্তগুলোতে সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে সহায়তা করে।

কোরআনের প্রতিটি হরফ তেলাওয়াতের মধ্যেও রয়েছে বিপুল পুণ্য। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করে, তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়। আর প্রতিটি নেকি ১০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। আমি বলি না যে “আলিফ-লাম-মিম” একটি অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৯১০)।

মানুষ যখন কোরআন থেকে দূরে সরে যায়, তখন অন্তরে মরিচা পড়ে এবং পাপকে স্বাভাবিক বলে মনে হতে থাকে। মহানবী (সা.) এই মরিচা দূর করার উপায় হিসেবে বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করা এবং কোরআন পাঠের কথা বলেছেন (বায়হাকি, শুয়াবুল ইমান, হাদিস: ২০১৪)। পার্থিব জীবনের সব সম্পর্ক মৃত্যুর সঙ্গে শেষ হয়ে গেলেও, কোরআনের সঙ্গে গড়ে ওঠা নিভৃত সম্পর্ক মৃত্যুর পরও কল্যাণ বয়ে আনে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কোরআন পাঠ করো। কেননা কেয়ামত দিবসে এটি তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮০৪)।

সাবেক সিআইডি প্রধানের গাড়িচাপায় গুরুতর আহত রিকশাচালক, গাড়ি জব্দ

কোরআনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক যেভাবে জীবনকে সুন্দর ও অর্থবহ করে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:১৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

মানুষের অস্তিত্ব কেবল দৃশ্যমান দেহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে রয়েছে একটি আত্মাও। দেহের সুস্থতায় যেমন খাদ্যের প্রয়োজন, তেমনি আত্মার সতেজতা ও সঠিক পুষ্টির জন্য পবিত্র কোরআন অপরিহার্য। এটি মানুষের অন্তরকে জীবন্ত রাখে, অনাবিল প্রশান্তি দেয় এবং জীবনের প্রতিটি ধাপে সঠিক পথের দিশা দেখায়। কোরআনের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যত নিবিড় হয়, তার যাপিত জীবন ততই অর্থবহ ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

জীবনের নানা পর্যায়ে মানুষ যখন দুশ্চিন্তা, ভয় কিংবা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়, তখন পার্থিব কোনো সম্পদই হৃদয়ের শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। কোরআন মানুষকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সবকিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ। তিনিই সংকটের সমাধানদাতা এবং তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কোনো বিপদ আসে না। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা রা’দ, আয়াত: ২৮)। এই অটল বিশ্বাস একজন মুমিনের অন্তরে গভীর প্রশান্তি তৈরি করে।

বিভ্রান্তির অন্ধকারে কোরআন মানুষকে আলোর পথ দেখায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই এই কোরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক।’ (সুরা ইসরা, আয়াত: ৯)। নিয়মিত কোরআন পাঠ ও এর অর্থ নিয়ে চিন্তা করলে মানুষের বিবেক জাগ্রত হয়, যা তাকে পরিবার, সমাজ ও কর্মজীবনের জটিল সিদ্ধান্তগুলোতে সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে সহায়তা করে।

কোরআনের প্রতিটি হরফ তেলাওয়াতের মধ্যেও রয়েছে বিপুল পুণ্য। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করে, তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়। আর প্রতিটি নেকি ১০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। আমি বলি না যে “আলিফ-লাম-মিম” একটি অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৯১০)।

মানুষ যখন কোরআন থেকে দূরে সরে যায়, তখন অন্তরে মরিচা পড়ে এবং পাপকে স্বাভাবিক বলে মনে হতে থাকে। মহানবী (সা.) এই মরিচা দূর করার উপায় হিসেবে বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করা এবং কোরআন পাঠের কথা বলেছেন (বায়হাকি, শুয়াবুল ইমান, হাদিস: ২০১৪)। পার্থিব জীবনের সব সম্পর্ক মৃত্যুর সঙ্গে শেষ হয়ে গেলেও, কোরআনের সঙ্গে গড়ে ওঠা নিভৃত সম্পর্ক মৃত্যুর পরও কল্যাণ বয়ে আনে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কোরআন পাঠ করো। কেননা কেয়ামত দিবসে এটি তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮০৪)।