লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধীরগতির ট্রেন ও বেহাল সেবায় রেলের ভোগান্তি চরমে

দেশের রেলপথগুলোতে ট্রেন চলাচলের শিডিউল বিপর্যয় এখন একটি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৪০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন ট্রেনগুলো বর্তমানে গড়ে মাত্র ৬৫ কিলোমিটার গতিতে চলছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সারা দেশের বিভিন্ন জোনের ট্রেন চলাচলের ওপর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে এই ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

রেলওয়ের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে প্রায় ৯ ঘণ্টা এবং ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যেতে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। অথচ ৪৮০ কিলোমিটার দূরত্বের ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিট এবং ৬৩৯ কিলোমিটার দূরত্বের ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে ৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে পৌঁছানোর কথা। বর্তমানে আন্তঃনগর, মেইল ও কমিউটার মিলে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। রেলওয়ের অপারেশন ও পরিবহণ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে ২৮৫টি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে ১২০টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং মাত্র তিনটি বিরতিহীন ট্রেন রয়েছে।

রেলপথ সংস্কার ও মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন-কোচ মেরামতের জন্য প্রায় ১৮শ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, শুধু রেলপথ ও ইঞ্জিন সংস্কার করলেই ট্রেনের গতি অন্তত একশ কিলোমিটারে উন্নীত করা সম্ভব। একই সঙ্গে লেভেল ক্রসিং সংস্কার এবং অবৈধ ক্রসিং বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রেনের গতি বাড়াতে পারলে একই সময়ে দ্বিগুণ ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, যাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন উচ্চগতির ইঞ্জিন ও কোচ কেনা হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে, জরাজীর্ণ লাইনের কারণে ১৪০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন ইঞ্জিনগুলো পূর্ণ গতিতে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ট্রেনের গতি বাড়লে যাত্রীদের আস্থা বাড়বে এবং রেলের আয় ও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

রেলওয়ের অবকাঠামো দপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় ৮৫ শতাংশ রুট জরাজীর্ণ এবং ৬৬ শতাংশ সেতু মেয়াদোত্তীর্ণ। বিশেষ করে আখাউড়া-সিলেট, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ এবং ভৈরব-কিশোরগঞ্জ রেলপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। রেলওয়ের ২৭০টি ইঞ্জিনের মধ্যে ৭৭ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা সুজিত কুমার বিশ্বাস এবং পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, ইঞ্জিন ও জনবল সংকটের কারণে যথাযথ গতি বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল হোসেন যাত্রীবাহী ট্রেনের গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

রেলওয়েতে গত অর্থবছরে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, বিলম্বে ট্রেন পরিচালনার পেছনে অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাস মালিকদের যোগসাজশ থাকতে পারে। এছাড়া গত ১৬ বছরে সোয়া ১ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও রেলের সামগ্রিক সেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী বিএনপির দোয়া কর্মসূচি ঘোষণা

ধীরগতির ট্রেন ও বেহাল সেবায় রেলের ভোগান্তি চরমে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

দেশের রেলপথগুলোতে ট্রেন চলাচলের শিডিউল বিপর্যয় এখন একটি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৪০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন ট্রেনগুলো বর্তমানে গড়ে মাত্র ৬৫ কিলোমিটার গতিতে চলছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সারা দেশের বিভিন্ন জোনের ট্রেন চলাচলের ওপর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে এই ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

রেলওয়ের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে প্রায় ৯ ঘণ্টা এবং ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যেতে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। অথচ ৪৮০ কিলোমিটার দূরত্বের ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিট এবং ৬৩৯ কিলোমিটার দূরত্বের ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে ৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে পৌঁছানোর কথা। বর্তমানে আন্তঃনগর, মেইল ও কমিউটার মিলে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। রেলওয়ের অপারেশন ও পরিবহণ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে ২৮৫টি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে ১২০টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং মাত্র তিনটি বিরতিহীন ট্রেন রয়েছে।

রেলপথ সংস্কার ও মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন-কোচ মেরামতের জন্য প্রায় ১৮শ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, শুধু রেলপথ ও ইঞ্জিন সংস্কার করলেই ট্রেনের গতি অন্তত একশ কিলোমিটারে উন্নীত করা সম্ভব। একই সঙ্গে লেভেল ক্রসিং সংস্কার এবং অবৈধ ক্রসিং বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রেনের গতি বাড়াতে পারলে একই সময়ে দ্বিগুণ ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, যাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন উচ্চগতির ইঞ্জিন ও কোচ কেনা হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে, জরাজীর্ণ লাইনের কারণে ১৪০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন ইঞ্জিনগুলো পূর্ণ গতিতে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ট্রেনের গতি বাড়লে যাত্রীদের আস্থা বাড়বে এবং রেলের আয় ও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

রেলওয়ের অবকাঠামো দপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় ৮৫ শতাংশ রুট জরাজীর্ণ এবং ৬৬ শতাংশ সেতু মেয়াদোত্তীর্ণ। বিশেষ করে আখাউড়া-সিলেট, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ এবং ভৈরব-কিশোরগঞ্জ রেলপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। রেলওয়ের ২৭০টি ইঞ্জিনের মধ্যে ৭৭ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা সুজিত কুমার বিশ্বাস এবং পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, ইঞ্জিন ও জনবল সংকটের কারণে যথাযথ গতি বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল হোসেন যাত্রীবাহী ট্রেনের গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

রেলওয়েতে গত অর্থবছরে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, বিলম্বে ট্রেন পরিচালনার পেছনে অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাস মালিকদের যোগসাজশ থাকতে পারে। এছাড়া গত ১৬ বছরে সোয়া ১ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও রেলের সামগ্রিক সেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।