লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলে ঝুম বৃষ্টির এক স্মরণীয় বিকেল

স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজার কিছুক্ষণ পরেই আকাশের চেহারা গম্ভীর হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। ঘন কালো মেঘে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়, আর ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকানো ও বজ্রের গর্জনে আকাশ কেঁপে উঠতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষার্থী ভয়ে দুহাতে কান চেপে শ্রেণিকক্ষে বসে পড়ে।

টিনের চালের ওপর মুষলধারে বৃষ্টির শব্দ এক অপূর্ব সুর তুলছিল। কেউ সেই সুর মুগ্ধ হয়ে শুনছিল, আবার কেউ বারান্দায় এসে বৃষ্টির ছিটা গায়ে মেখে আনন্দ নিচ্ছিল। এমন সময় অত্যন্ত শৃঙ্খলাপ্রিয় সহকারী প্রধান শিক্ষক উৎপল স্যার হাতে মাইক নিয়ে ঘোষণা করেন, বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত কেউ রুম থেকে বের হবে না এবং সবাই নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে থাকবে। তিনি বারান্দা দিয়ে বারবার হেঁটে তদারকি করছিলেন যেন কোনো শিক্ষার্থী বাইরে বেরিয়ে না পড়ে।

বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে যায়। শ্রেণিকক্ষের ভেতর একসময় ভয় কেটে গিয়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। কেউ গল্প করছিল, কেউ গান ধরছিল; গানের সুরে তাল-লয় না থাকলেও আনন্দের কোনো কমতি ছিল না। বাইরে প্রকৃতি নিজের ছন্দে নেচে চলছিল, আর ভেতরে শিক্ষার্থীদের মনে বইছিল খুশির জোয়ার।

এদিকে শিক্ষকদের চিন্তার শেষ ছিল না, কারণ ভেজা পথে শিশুদের বাড়ি পাঠানো নিরাপদ নয় এবং বজ্রপাতেরও আশঙ্কা ছিল। তখন প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব মোল্লা মাইকে ঘোষণা দেন, যারা বাড়িতে খবর দিতে চায় তারা যেন তার মোবাইল থেকে কথা বলে নেয়। তিনি আরও জানান, অভিভাবকরা ছাতা নিয়ে এলে তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা চলে যেতে পারবে।

এই ঘোষণা শুনে অনেকেই বাড়িতে ফোন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর একে একে অভিভাবকেরা ছাতা নিয়ে স্কুলে আসতে শুরু করেন এবং সন্তানদের হাত ধরে বাড়ির পথে রওনা হন। অবশেষে বিকালের দিকে বৃষ্টি কিছুটা কমলে শিক্ষকদের পরামর্শে সবাইকে ছুটি দেওয়া হয়। ছুটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাঁচা খুলে দেওয়া পাখির মতো শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে পড়ে। কেউ ছাতা মাথায়, আবার কেউ ভিজতে ভিজতেই বাড়ির পথে হাঁটতে থাকে।

সেদিনের সেই বৃষ্টিভেজা বিকাল ছিল ভয়, আনন্দ আর স্মৃতির এক অপূর্ব মিশেল। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই হারিয়ে যায়, কিন্তু টিনের চালের ওপর বৃষ্টির সেই সুর, বন্ধুদের দুষ্টুমি মেশানো হাসি আর শিক্ষকদের স্নেহময় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ছবি আজও স্মৃতির পাতায় অমলিন হয়ে আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাকৃবিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও আবাসন সমস্যা সমাধানে ইউজিসি’র আশ্বাস

স্কুলে ঝুম বৃষ্টির এক স্মরণীয় বিকেল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩০:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজার কিছুক্ষণ পরেই আকাশের চেহারা গম্ভীর হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। ঘন কালো মেঘে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়, আর ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকানো ও বজ্রের গর্জনে আকাশ কেঁপে উঠতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষার্থী ভয়ে দুহাতে কান চেপে শ্রেণিকক্ষে বসে পড়ে।

টিনের চালের ওপর মুষলধারে বৃষ্টির শব্দ এক অপূর্ব সুর তুলছিল। কেউ সেই সুর মুগ্ধ হয়ে শুনছিল, আবার কেউ বারান্দায় এসে বৃষ্টির ছিটা গায়ে মেখে আনন্দ নিচ্ছিল। এমন সময় অত্যন্ত শৃঙ্খলাপ্রিয় সহকারী প্রধান শিক্ষক উৎপল স্যার হাতে মাইক নিয়ে ঘোষণা করেন, বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত কেউ রুম থেকে বের হবে না এবং সবাই নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে থাকবে। তিনি বারান্দা দিয়ে বারবার হেঁটে তদারকি করছিলেন যেন কোনো শিক্ষার্থী বাইরে বেরিয়ে না পড়ে।

বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে যায়। শ্রেণিকক্ষের ভেতর একসময় ভয় কেটে গিয়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। কেউ গল্প করছিল, কেউ গান ধরছিল; গানের সুরে তাল-লয় না থাকলেও আনন্দের কোনো কমতি ছিল না। বাইরে প্রকৃতি নিজের ছন্দে নেচে চলছিল, আর ভেতরে শিক্ষার্থীদের মনে বইছিল খুশির জোয়ার।

এদিকে শিক্ষকদের চিন্তার শেষ ছিল না, কারণ ভেজা পথে শিশুদের বাড়ি পাঠানো নিরাপদ নয় এবং বজ্রপাতেরও আশঙ্কা ছিল। তখন প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব মোল্লা মাইকে ঘোষণা দেন, যারা বাড়িতে খবর দিতে চায় তারা যেন তার মোবাইল থেকে কথা বলে নেয়। তিনি আরও জানান, অভিভাবকরা ছাতা নিয়ে এলে তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা চলে যেতে পারবে।

এই ঘোষণা শুনে অনেকেই বাড়িতে ফোন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর একে একে অভিভাবকেরা ছাতা নিয়ে স্কুলে আসতে শুরু করেন এবং সন্তানদের হাত ধরে বাড়ির পথে রওনা হন। অবশেষে বিকালের দিকে বৃষ্টি কিছুটা কমলে শিক্ষকদের পরামর্শে সবাইকে ছুটি দেওয়া হয়। ছুটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাঁচা খুলে দেওয়া পাখির মতো শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে পড়ে। কেউ ছাতা মাথায়, আবার কেউ ভিজতে ভিজতেই বাড়ির পথে হাঁটতে থাকে।

সেদিনের সেই বৃষ্টিভেজা বিকাল ছিল ভয়, আনন্দ আর স্মৃতির এক অপূর্ব মিশেল। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই হারিয়ে যায়, কিন্তু টিনের চালের ওপর বৃষ্টির সেই সুর, বন্ধুদের দুষ্টুমি মেশানো হাসি আর শিক্ষকদের স্নেহময় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ছবি আজও স্মৃতির পাতায় অমলিন হয়ে আছে।