লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষক থেকে খুচরা বাজারে চালের দাম দ্বিগুণ: সিপিডি গবেষণা

কৃষক পর্যায় থেকে খুচরা বাজারে পৌঁছাতে চালের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাচ্ছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘খাদ্যের মূল্যশৃঙ্খল: বাংলাদেশের বাজারব্যবস্থা, মুনাফার ও মধ্যস্বত্বভোগী’ শীর্ষক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির সিনিয়র গবেষক ফকরুদ্দিন আল কবির আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত সংলাপে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি পাইজাম চাল গড়ে ৩০ টাকা ৬৫ পয়সায় বিক্রি হয়। কিন্তু বিভিন্ন হাত ঘুরে ব্যাপারী, মিলার ও আড়তদার পেরিয়ে যখন তা খুচরা পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন সেই চালের দাম দাঁড়ায় ৫৯ টাকা ৬৯ পয়সা।

সিপিডির এই গবেষণায় চালের পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ব্যবধানও তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষক বা ফার্ম থেকে খুচরা পর্যায়ে ভোক্তাদের কাছে আসতে মসুর ডালের দাম ৭৮ শতাংশ, পেঁয়াজের ৮৭ শতাংশ, আলুর ৫০ শতাংশ এবং কাঁচা মরিচের দাম ১১৬ শতাংশ বেড়ে যায়। এছাড়া বেগুনের দাম ৭২ শতাংশ, ডিমের ২৫ শতাংশ, ব্রয়লার মুরগির ২২ শতাংশ, মাছের ১০ শতাংশ এবং গরুর মাংসের দাম ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে লজিস্টিক খরচ জিডিপির ১০ শতাংশের সমান হলেও বাংলাদেশে তা ১৬ শতাংশ। দেশে দীর্ঘসময় ধরে ৯ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় থাকার পেছনে এটি অন্যতম কারণ।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও বলেন, গত দুই বছর ধরে দেশে এক কোটি টনের বেশি আলু উৎপাদিত হলেও কৃষকরা উৎপাদন খরচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয় করতে পারছেন না। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত প্রতিটি স্তরের সমস্যা চিহ্নিত করা হচ্ছে। তিনি আনঅ্যাকাউন্টেড খরচ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিপি নেতা তানভীরকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

কৃষক থেকে খুচরা বাজারে চালের দাম দ্বিগুণ: সিপিডি গবেষণা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

কৃষক পর্যায় থেকে খুচরা বাজারে পৌঁছাতে চালের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাচ্ছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘খাদ্যের মূল্যশৃঙ্খল: বাংলাদেশের বাজারব্যবস্থা, মুনাফার ও মধ্যস্বত্বভোগী’ শীর্ষক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির সিনিয়র গবেষক ফকরুদ্দিন আল কবির আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত সংলাপে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি পাইজাম চাল গড়ে ৩০ টাকা ৬৫ পয়সায় বিক্রি হয়। কিন্তু বিভিন্ন হাত ঘুরে ব্যাপারী, মিলার ও আড়তদার পেরিয়ে যখন তা খুচরা পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন সেই চালের দাম দাঁড়ায় ৫৯ টাকা ৬৯ পয়সা।

সিপিডির এই গবেষণায় চালের পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ব্যবধানও তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষক বা ফার্ম থেকে খুচরা পর্যায়ে ভোক্তাদের কাছে আসতে মসুর ডালের দাম ৭৮ শতাংশ, পেঁয়াজের ৮৭ শতাংশ, আলুর ৫০ শতাংশ এবং কাঁচা মরিচের দাম ১১৬ শতাংশ বেড়ে যায়। এছাড়া বেগুনের দাম ৭২ শতাংশ, ডিমের ২৫ শতাংশ, ব্রয়লার মুরগির ২২ শতাংশ, মাছের ১০ শতাংশ এবং গরুর মাংসের দাম ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে লজিস্টিক খরচ জিডিপির ১০ শতাংশের সমান হলেও বাংলাদেশে তা ১৬ শতাংশ। দেশে দীর্ঘসময় ধরে ৯ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় থাকার পেছনে এটি অন্যতম কারণ।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও বলেন, গত দুই বছর ধরে দেশে এক কোটি টনের বেশি আলু উৎপাদিত হলেও কৃষকরা উৎপাদন খরচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয় করতে পারছেন না। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত প্রতিটি স্তরের সমস্যা চিহ্নিত করা হচ্ছে। তিনি আনঅ্যাকাউন্টেড খরচ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।