লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বে বাস ধর্মঘট, যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার রাত আটটার পর থেকে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় মঙ্গলবার সকাল থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা সেলিম খান জানান, আগামীকাল বুধবার সকাল ১০টায় তাঁর সৌদি আরব যাওয়ার ফ্লাইট রয়েছে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় তিনি ঢাকায় পৌঁছানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। একই অবস্থা গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ি এলাকার বিধান সাহার। তিনি মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে রংপুরে যাওয়ার জন্য বাস কাউন্টারে এসে আটকা পড়েছেন।

শ্রমিক নেতা মামিনুল ইসলাম জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আত্মগোপনে রয়েছেন। এই সুযোগে একটি দখলদার বাহিনী কার্যালয় দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় নির্বাচনী কমিটি গঠনের সময় এক মালিকের নাম ওঠায় শ্রমিকরা আপত্তি জানান। শ্রমিকদের দাবি, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ সভা করে নির্বাচন হতে হবে। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম (হেলাল) জানান, মিটিংয়ে মতবিরোধ হতে পারে, কিন্তু এর জেরে বাস বন্ধ রাখা বা হামলা-লুটপাট করা সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিকরা তাঁর চেম্বারে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।

সমস্যার সমাধানে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন তৎপর রয়েছে। রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী জানান, তিনি ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সাথে কথা বলে সমঝোতার পথ খুঁজছেন। বর্তমানে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের বৈঠক চলছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল নির্বাচন দাবি করা শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (পাখি) ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সড়ক পরিবহন ফেডারেশন রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করে নতুন কমিটি ঘোষণা করলে শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করে কয়েক দফা ধর্মঘট পালন করেছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনার খবরে তেলের দাম হ্রাস

রাজশাহীতে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বে বাস ধর্মঘট, যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৪৫:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার রাত আটটার পর থেকে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় মঙ্গলবার সকাল থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা সেলিম খান জানান, আগামীকাল বুধবার সকাল ১০টায় তাঁর সৌদি আরব যাওয়ার ফ্লাইট রয়েছে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় তিনি ঢাকায় পৌঁছানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। একই অবস্থা গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ি এলাকার বিধান সাহার। তিনি মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে রংপুরে যাওয়ার জন্য বাস কাউন্টারে এসে আটকা পড়েছেন।

শ্রমিক নেতা মামিনুল ইসলাম জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আত্মগোপনে রয়েছেন। এই সুযোগে একটি দখলদার বাহিনী কার্যালয় দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় নির্বাচনী কমিটি গঠনের সময় এক মালিকের নাম ওঠায় শ্রমিকরা আপত্তি জানান। শ্রমিকদের দাবি, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ সভা করে নির্বাচন হতে হবে। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম (হেলাল) জানান, মিটিংয়ে মতবিরোধ হতে পারে, কিন্তু এর জেরে বাস বন্ধ রাখা বা হামলা-লুটপাট করা সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিকরা তাঁর চেম্বারে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।

সমস্যার সমাধানে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন তৎপর রয়েছে। রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী জানান, তিনি ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সাথে কথা বলে সমঝোতার পথ খুঁজছেন। বর্তমানে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের বৈঠক চলছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল নির্বাচন দাবি করা শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (পাখি) ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সড়ক পরিবহন ফেডারেশন রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করে নতুন কমিটি ঘোষণা করলে শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করে কয়েক দফা ধর্মঘট পালন করেছিলেন।