লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিম ইউরোপের আকাশে আজ বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ

১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম পশ্চিম ইউরোপের আকাশে আজ বুধবার দেখা যাবে বছরের সবচেয়ে আলোচিত মহাজাগতিক দৃশ্য—পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। বিরল এই ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছেন কোটি কোটি মানুষ।

এবারের সূর্যগ্রহণে চাঁদের প্রচ্ছায়াটি উত্তর সাইবেরিয়া, আর্কটিক মহাসাগর ও পূর্ব গ্রিনল্যান্ড পেরিয়ে পশ্চিম আইসল্যান্ড এবং উত্তর স্পেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। এরপর উত্তর-পূর্ব পর্তুগালের একটি ছোট অংশ ছুঁয়ে স্পেনের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল ও বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে সূর্যাস্তের মাধ্যমে এই মহাজাগতিক দৃশ্যটি শেষ হবে।

এবারের সূর্যগ্রহণের স্থায়িত্ব সবচেয়ে বেশি হবে আইসল্যান্ডের পশ্চিমে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর। আজ স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১৫টা ৪৮) আইসল্যান্ডের রাজধানী রিকজাভিক থেকে এই পূর্ণগ্রাস গ্রহণটি স্পষ্ট দেখা যাবে।

অন্যদিকে, স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টা ২৮ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১৮টা ২৮) সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শুরু হবে, যা আ করুনিয়া ও বিলবাওসহ কিছু এলাকায় দৃশ্যমান হবে। তবে মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাসহ ইউরোপের বেশিরভাগ অঞ্চলের বাসিন্দারা কেবল আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাবেন।

সূর্যগ্রহণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বলা যায়, চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে আসে, তখন চাঁদের ছায়ার ঘন অন্ধকার কেন্দ্রভাগ বা প্রচ্ছায়াটি পৃথিবীর যে অঞ্চলের ওপর দিয়ে যায়, সেখানকার মানুষই কেবল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে পান। পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের তারতম্যের কারণে আমাদের চোখে এর দৃশ্যমান আকারের পরিবর্তন ঘটে। চাঁদের কক্ষপথ পুরোপুরি বৃত্তাকার না হয়ে ডিম্বাকার বা উপবৃত্তাকার হওয়ায় আকাশেও এটির আকার কখনো কিছুটা বড়, আবার কখনো কিছুটা ছোট দেখায়।

এই আপাত আকারের ওপর ভিত্তি করে সূর্যগ্রহণ মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে—পূর্ণগ্রাস ও বলয়গ্রাস। চাঁদ যখন সূর্যকে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেয়, তখন তাকে পূর্ণগ্রাস বলা হয়। আর চাঁদ যখন সূর্যের ঠিক মাঝখানে এসে চারপাশে একটি উজ্জ্বল আলোর বলয় তৈরি করে, তখন তাকে বলয়গ্রাস বা ‘অ্যানুলার’ সূর্যগ্রহণ বলা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পীরগঞ্জে অটো পার্টসের দোকানে দুঃসাহসিক চুরি, ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক

পশ্চিম ইউরোপের আকাশে আজ বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম পশ্চিম ইউরোপের আকাশে আজ বুধবার দেখা যাবে বছরের সবচেয়ে আলোচিত মহাজাগতিক দৃশ্য—পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। বিরল এই ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছেন কোটি কোটি মানুষ।

এবারের সূর্যগ্রহণে চাঁদের প্রচ্ছায়াটি উত্তর সাইবেরিয়া, আর্কটিক মহাসাগর ও পূর্ব গ্রিনল্যান্ড পেরিয়ে পশ্চিম আইসল্যান্ড এবং উত্তর স্পেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। এরপর উত্তর-পূর্ব পর্তুগালের একটি ছোট অংশ ছুঁয়ে স্পেনের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল ও বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে সূর্যাস্তের মাধ্যমে এই মহাজাগতিক দৃশ্যটি শেষ হবে।

এবারের সূর্যগ্রহণের স্থায়িত্ব সবচেয়ে বেশি হবে আইসল্যান্ডের পশ্চিমে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর। আজ স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১৫টা ৪৮) আইসল্যান্ডের রাজধানী রিকজাভিক থেকে এই পূর্ণগ্রাস গ্রহণটি স্পষ্ট দেখা যাবে।

অন্যদিকে, স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টা ২৮ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১৮টা ২৮) সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শুরু হবে, যা আ করুনিয়া ও বিলবাওসহ কিছু এলাকায় দৃশ্যমান হবে। তবে মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাসহ ইউরোপের বেশিরভাগ অঞ্চলের বাসিন্দারা কেবল আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাবেন।

সূর্যগ্রহণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বলা যায়, চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে আসে, তখন চাঁদের ছায়ার ঘন অন্ধকার কেন্দ্রভাগ বা প্রচ্ছায়াটি পৃথিবীর যে অঞ্চলের ওপর দিয়ে যায়, সেখানকার মানুষই কেবল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে পান। পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের তারতম্যের কারণে আমাদের চোখে এর দৃশ্যমান আকারের পরিবর্তন ঘটে। চাঁদের কক্ষপথ পুরোপুরি বৃত্তাকার না হয়ে ডিম্বাকার বা উপবৃত্তাকার হওয়ায় আকাশেও এটির আকার কখনো কিছুটা বড়, আবার কখনো কিছুটা ছোট দেখায়।

এই আপাত আকারের ওপর ভিত্তি করে সূর্যগ্রহণ মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে—পূর্ণগ্রাস ও বলয়গ্রাস। চাঁদ যখন সূর্যকে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেয়, তখন তাকে পূর্ণগ্রাস বলা হয়। আর চাঁদ যখন সূর্যের ঠিক মাঝখানে এসে চারপাশে একটি উজ্জ্বল আলোর বলয় তৈরি করে, তখন তাকে বলয়গ্রাস বা ‘অ্যানুলার’ সূর্যগ্রহণ বলা হয়।