লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের ‘সাবেক বাসিন্দা’ বলল মিয়ানমার

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে রাখাইন রাজ্যের ‘সাবেক বাসিন্দা’ হিসেবে নিশ্চিত করেছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার। তবে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই কেবল এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত রবিবার এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত ৩১ জুলাই, ২০২৬ তারিখে তাদের কাছে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের নামের একটি তালিকা জমা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে নিশ্চিত করতে পেরেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তবে তালিকায় থাকা ৪ হাজার ২৪১ জনকে সন্ত্রাসী তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আরও ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছে দেশটি।

জান্তা সরকার স্পষ্ট করেছে যে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়। এর আগে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রস্তুতি নেওয়া সত্ত্বেও কোনো রোহিঙ্গা নাগরিক নিজ দেশে ফিরে যাননি। বর্তমানে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাখাইনের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াইরত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হতে শুরু করলেই কেবল এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর বর্বরোচিত অভিযানের পর ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। এখনও অনেকে স্থল ও জলপথে অনিশ্চিত যাত্রার মাধ্যমে এ দেশে আসার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এদিকে, মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সম্মত হলেও মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জীবন ঝুঁকির মুখে থাকলে তারা এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে না।

মিয়ানমার বলছে, তারা বাংলাদেশের দেওয়া প্রত্যাবর্তনের তালিকায় থাকা ৪২৪১ জনকে সন্ত্রাসী তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে আর আরও এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনকে যাচাই করতে পারেনি।

মালয়েশিয়া থেকে ৫০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। কিন্তু মালিয়েশিয়া জানিয়েছে, যদি জীবন ঝুঁকির মুখে থাকে তাহলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডের গ্রিন শিপইয়ার্ডে তকমার আড়ালে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের ‘সাবেক বাসিন্দা’ বলল মিয়ানমার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০৩:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে রাখাইন রাজ্যের ‘সাবেক বাসিন্দা’ হিসেবে নিশ্চিত করেছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার। তবে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই কেবল এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত রবিবার এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত ৩১ জুলাই, ২০২৬ তারিখে তাদের কাছে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের নামের একটি তালিকা জমা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে নিশ্চিত করতে পেরেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তবে তালিকায় থাকা ৪ হাজার ২৪১ জনকে সন্ত্রাসী তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আরও ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছে দেশটি।

জান্তা সরকার স্পষ্ট করেছে যে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়। এর আগে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রস্তুতি নেওয়া সত্ত্বেও কোনো রোহিঙ্গা নাগরিক নিজ দেশে ফিরে যাননি। বর্তমানে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাখাইনের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াইরত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হতে শুরু করলেই কেবল এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর বর্বরোচিত অভিযানের পর ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। এখনও অনেকে স্থল ও জলপথে অনিশ্চিত যাত্রার মাধ্যমে এ দেশে আসার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এদিকে, মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সম্মত হলেও মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জীবন ঝুঁকির মুখে থাকলে তারা এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে না।

মিয়ানমার বলছে, তারা বাংলাদেশের দেওয়া প্রত্যাবর্তনের তালিকায় থাকা ৪২৪১ জনকে সন্ত্রাসী তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে আর আরও এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনকে যাচাই করতে পারেনি।

মালয়েশিয়া থেকে ৫০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। কিন্তু মালিয়েশিয়া জানিয়েছে, যদি জীবন ঝুঁকির মুখে থাকে তাহলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে না।