লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন গোয়েন্দা স্থাপনায় হামলায় রাশিয়ার সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মাঝে নতুন করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনায় রাশিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে এসেছে। টানা ১২ দিন ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। ছোট ছোট কিন্তু নিখুঁত হামলা চালিয়ে ইরান ক্ষতিসাধন করছে মার্কিন স্বার্থের। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা খতিয়ে দেখছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন গোয়েন্দা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে ইরানকে রাশিয়া কোনো ধরনের লক্ষ্যবস্তুর তথ্য বা উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করেছে কি না। জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চারজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি, তবে হামলার নিখুঁত লক্ষ্যভেদ এবং রাশিয়ার কারিগরি সহায়তার সক্ষমতা এই সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

গত মার্চ মাসে অন্তত দুটি সিআইএ স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে, যার একটি রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে অবস্থিত সিআইএ স্টেশন এবং অপরটি পূর্ব ইরাকে অবস্থিত। কিছু সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আক্রান্ত স্থাপনার সংখ্যা ১৩৬টির বেশি নয়। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার একটি স্মারকলিপির বরাতে জানা গেছে, এই স্থাপনাগুলোকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদের হামলায় ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোনের দুটি উন্নত সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছিল, যা দূতাবাসের বাইরের অংশে ছিদ্র করে ভেতরে বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, রাশিয়া ইরানকে শাহেদ ড্রোনের লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে ‘কোমেটা-এম’ নামক স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম সরবরাহের মাধ্যমে ড্রোনগুলোর কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, যা জ্যাম করা প্রায় অসম্ভব। জর্ডানের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে দুই সেনা নিহতের ঘটনার পর ইরানকে রাশিয়ার তথ্য সহায়তার বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। সিআইএ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এই বিষয়ে গোয়েন্দা মহলে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন ইরান এককভাবেই মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে থাকতে পারে, যা দুর্ঘটনাবশত সিআইএ স্টেশনে আঘাত হেনেছে। তবে সিআইএ-র সাবেক স্টেশন প্রধান ড্যানিয়েল হফম্যানের মতে, রাশিয়া ও ইরানের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদারিত্বের কারণে মস্কোর এই সহায়তার বিষয়টি আশ্চর্যজনক নয়, কারণ উভয় দেশই নিজ নিজ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমাতে আগ্রহী।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

মার্কিন গোয়েন্দা স্থাপনায় হামলায় রাশিয়ার সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৪৩:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মাঝে নতুন করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনায় রাশিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে এসেছে। টানা ১২ দিন ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। ছোট ছোট কিন্তু নিখুঁত হামলা চালিয়ে ইরান ক্ষতিসাধন করছে মার্কিন স্বার্থের। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা খতিয়ে দেখছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন গোয়েন্দা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে ইরানকে রাশিয়া কোনো ধরনের লক্ষ্যবস্তুর তথ্য বা উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করেছে কি না। জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চারজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি, তবে হামলার নিখুঁত লক্ষ্যভেদ এবং রাশিয়ার কারিগরি সহায়তার সক্ষমতা এই সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

গত মার্চ মাসে অন্তত দুটি সিআইএ স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে, যার একটি রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে অবস্থিত সিআইএ স্টেশন এবং অপরটি পূর্ব ইরাকে অবস্থিত। কিছু সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আক্রান্ত স্থাপনার সংখ্যা ১৩৬টির বেশি নয়। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার একটি স্মারকলিপির বরাতে জানা গেছে, এই স্থাপনাগুলোকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদের হামলায় ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোনের দুটি উন্নত সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছিল, যা দূতাবাসের বাইরের অংশে ছিদ্র করে ভেতরে বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, রাশিয়া ইরানকে শাহেদ ড্রোনের লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে ‘কোমেটা-এম’ নামক স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম সরবরাহের মাধ্যমে ড্রোনগুলোর কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, যা জ্যাম করা প্রায় অসম্ভব। জর্ডানের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে দুই সেনা নিহতের ঘটনার পর ইরানকে রাশিয়ার তথ্য সহায়তার বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। সিআইএ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এই বিষয়ে গোয়েন্দা মহলে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন ইরান এককভাবেই মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে থাকতে পারে, যা দুর্ঘটনাবশত সিআইএ স্টেশনে আঘাত হেনেছে। তবে সিআইএ-র সাবেক স্টেশন প্রধান ড্যানিয়েল হফম্যানের মতে, রাশিয়া ও ইরানের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদারিত্বের কারণে মস্কোর এই সহায়তার বিষয়টি আশ্চর্যজনক নয়, কারণ উভয় দেশই নিজ নিজ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমাতে আগ্রহী।