লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পেনে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা, ৪ জনের প্রাণহানি

স্পেনের পূর্বাঞ্চলে শনিবার থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ‘অ্যাডাম’ নামক এই ঝড়ের প্রভাবে ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের কিছু এলাকায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রতি বর্গমিটারে ৭০০ লিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পানির তোড়ে নদী উপচে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের বেশ কয়েকটি শহর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নিহতদের মধ্যে দুজন উপকূলীয় পর্যটন শহর অলিভার বাসিন্দা। এছাড়া সাগুন্তোর একটি সৈকতে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং চতুর্থ ব্যক্তি কাতালোনিয়ায় পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে মারা গেছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, দুই বছর আগের বন্যায় ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে ২৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর সেই স্মৃতি ফিরে এসেছে।

জরুরি সেবাকর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। সরকারি প্রতিনিধি পিলার বার্নাবে জানিয়েছেন, ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী চার শতাধিক উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে এবং বাড়ির ছাদে আটকে পড়া অনেককে তারের সাহায্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। সিভিল গার্ড পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশ অলিভা এলাকার।

স্থানীয় বাসিন্দা হাভিয়ের ফোরনেস এলাকাটিকে বিপর্যয়কর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পেগো শহরের মেয়র এনরিক মোল জানান, শহরটিতে প্রবেশের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক বয়স্ক মানুষ নিজ বাড়িতে কোমরপানি জমে যাওয়ায় আটকা পড়েছেন। অলিভার উপমেয়র সালভাদর লোপিস জানান, জরুরি সেবাকর্মীরা পানিতে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে কাজ করছেন এবং হেলিকপ্টারে করে আটকে পড়াদের উদ্ধারের অপেক্ষা চলছে।

ঝড়টি বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ ও কাতালোনিয়া অঞ্চলেও আঘাত হেনেছে। সোমবার সকালে প্রায় ৮ লাখ বাসিন্দাকে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা পরে বিকেলের দিকে ৮টি পৌরসভার ৮৭ হাজার বাসিন্দার জন্য সীমিত রাখা হয়। এছাড়া সোমবার ১০০ পৌরসভার বাসিন্দাদের কয়েক ঘণ্টা ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হলেও দুপুরের দিকে আবহাওয়ার উন্নতির ফলে বেশিরভাগ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। আলিকান্তে শহরের উত্তর-পূর্বে এলস পবলেটস এলাকায় পানির স্রোতে গাড়ি ও ভ্যান একটার ওপর আরেকটা উঠে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ২২আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ৩৯

স্থানীয় বাসিন্দা হাভিয়ের ফোরনেস বলেন, ‘গ্রামটির অবস্থা এখন বিপর্যয়কর। আবারও কিছু মানুষ সবকিছু হারিয়েছেন। ২০০৭ সালেও ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল।’

জনপ্রিয় সংবাদ

ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ মৃত্যু: দায়বদ্ধতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

স্পেনে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা, ৪ জনের প্রাণহানি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪০:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

স্পেনের পূর্বাঞ্চলে শনিবার থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ‘অ্যাডাম’ নামক এই ঝড়ের প্রভাবে ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের কিছু এলাকায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রতি বর্গমিটারে ৭০০ লিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পানির তোড়ে নদী উপচে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের বেশ কয়েকটি শহর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নিহতদের মধ্যে দুজন উপকূলীয় পর্যটন শহর অলিভার বাসিন্দা। এছাড়া সাগুন্তোর একটি সৈকতে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং চতুর্থ ব্যক্তি কাতালোনিয়ায় পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে মারা গেছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, দুই বছর আগের বন্যায় ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে ২৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর সেই স্মৃতি ফিরে এসেছে।

জরুরি সেবাকর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। সরকারি প্রতিনিধি পিলার বার্নাবে জানিয়েছেন, ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী চার শতাধিক উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে এবং বাড়ির ছাদে আটকে পড়া অনেককে তারের সাহায্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। সিভিল গার্ড পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশ অলিভা এলাকার।

স্থানীয় বাসিন্দা হাভিয়ের ফোরনেস এলাকাটিকে বিপর্যয়কর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পেগো শহরের মেয়র এনরিক মোল জানান, শহরটিতে প্রবেশের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক বয়স্ক মানুষ নিজ বাড়িতে কোমরপানি জমে যাওয়ায় আটকা পড়েছেন। অলিভার উপমেয়র সালভাদর লোপিস জানান, জরুরি সেবাকর্মীরা পানিতে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে কাজ করছেন এবং হেলিকপ্টারে করে আটকে পড়াদের উদ্ধারের অপেক্ষা চলছে।

ঝড়টি বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ ও কাতালোনিয়া অঞ্চলেও আঘাত হেনেছে। সোমবার সকালে প্রায় ৮ লাখ বাসিন্দাকে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা পরে বিকেলের দিকে ৮টি পৌরসভার ৮৭ হাজার বাসিন্দার জন্য সীমিত রাখা হয়। এছাড়া সোমবার ১০০ পৌরসভার বাসিন্দাদের কয়েক ঘণ্টা ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হলেও দুপুরের দিকে আবহাওয়ার উন্নতির ফলে বেশিরভাগ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। আলিকান্তে শহরের উত্তর-পূর্বে এলস পবলেটস এলাকায় পানির স্রোতে গাড়ি ও ভ্যান একটার ওপর আরেকটা উঠে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ২২আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ৩৯

স্থানীয় বাসিন্দা হাভিয়ের ফোরনেস বলেন, ‘গ্রামটির অবস্থা এখন বিপর্যয়কর। আবারও কিছু মানুষ সবকিছু হারিয়েছেন। ২০০৭ সালেও ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল।’