লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে মিত্রদের দ্বারে সৌদি আরব

ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সৌদি আরবের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। এসব হামলার মুখে রিয়াদ এখন টালমাটাল অবস্থায় পড়েছে। এর মধ্যেই শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন ধ্বংসে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে তাদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি আরব সরকার আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের দ্বারস্থ হয়েছে এবং তাদের কাছে অতিপ্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের সঙ্গে সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। রিয়াদ মূলত ইরান–সমর্থিত হুতি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র নিজেও এখন ক্ষেপণাস্ত্র–প্রতিরোধী অস্ত্রের সংকটে ভুগছে। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের জেরে দেশটিতে এসব অস্ত্রের মজুত কমতির দিকে। এ কারণে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের মুখাপেক্ষী না থেকে অন্যান্য দেশের কাছে সহায়তা চাইছে বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

জ্বালানি তেলের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব এখন হুতিদের প্রধান নিশানা। দেশটির প্রধান আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরান হুতিদের সমর্থন দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু সামরিক সহায়তা নয়, নিরাপদ পথে জ্বালানি তেল রপ্তানির উপায় খোঁজাও সৌদি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কোনোটিরই আপাত সহজ সমাধান দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।

চলমান ইরান যুদ্ধের জেরে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়েছে সৌদি আরব ও হুতিরা। এটি এখন ইরান যুদ্ধের নতুন একটি ফ্রন্ট। বুধবার সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, পবিত্র নগরী মক্কার দিকে হুতিরা ড্রোন ছুড়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন নিন্দা জানিয়েছে, তবে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কোনো লক্ষণ এ পর্যন্ত দেখা যায়নি। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জন্মস্থান মক্কা ও পবিত্র কাবা নগরীর দিকে হুতিদের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব।

তুরস্ক ও পাকিস্তান সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ নামে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। তবে পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুতিকে প্রতিহত করতে সৌদি আরব তাদের কাছে সরাসরি কোনো অনুরোধ জানায়নি। সৌদি আরব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পবিত্র নগরীতে হুতিদের এ ধরনের হামলার চেষ্টা ‘চূড়ান্ত সীমা’ লঙ্ঘন। তবে ইয়েমেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার বা ৬৮০ মাইল দূরের পবিত্র নগরীটিতে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা। এর মধ্যেই বুধবার ইয়েমেনের আকাশে সৌদি আরবের একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুতিরা এবং তারা ধ্বংসাবশেষের ছবিও প্রকাশ করেছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবে এক হামলায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ হয়ে গেছে। এর পেছনে ইরাকের ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালির কয়েকটি দ্বীপও হুতিরা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ রয়েছে। হরমুজের পর বাব আল–মানদেব দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানিতে সংকটের বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

আঞ্চলিক এক কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব এখন খুব কঠিন অবস্থায় পড়েছে, কারণ তাদের শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তেল স্থাপনাগুলোও রক্ষা করতে হচ্ছে। অন্য আরেক কর্মকর্তা জানান, হুতিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক মিত্রদের পাশে টানার চেষ্টা করছে। ওমানের মাসকাটে গত সপ্তাহান্তে হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা সরাসরি আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সৌদি বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা বৃদ্ধির জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। তবে মিত্রদেশগুলো সামরিক সহায়তা দিতে খুব একটা আগ্রহী নয়, বরং তারা কূটনৈতিক সহায়তা দিতে বেশি আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লন্ডন থেকে ঢাকাগামী বিমানে মাঝ আকাশে যাত্রীদের মারামারি

হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে মিত্রদের দ্বারে সৌদি আরব

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:২২:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সৌদি আরবের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। এসব হামলার মুখে রিয়াদ এখন টালমাটাল অবস্থায় পড়েছে। এর মধ্যেই শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন ধ্বংসে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে তাদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি আরব সরকার আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের দ্বারস্থ হয়েছে এবং তাদের কাছে অতিপ্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের সঙ্গে সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। রিয়াদ মূলত ইরান–সমর্থিত হুতি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র নিজেও এখন ক্ষেপণাস্ত্র–প্রতিরোধী অস্ত্রের সংকটে ভুগছে। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের জেরে দেশটিতে এসব অস্ত্রের মজুত কমতির দিকে। এ কারণে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের মুখাপেক্ষী না থেকে অন্যান্য দেশের কাছে সহায়তা চাইছে বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

জ্বালানি তেলের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব এখন হুতিদের প্রধান নিশানা। দেশটির প্রধান আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরান হুতিদের সমর্থন দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু সামরিক সহায়তা নয়, নিরাপদ পথে জ্বালানি তেল রপ্তানির উপায় খোঁজাও সৌদি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কোনোটিরই আপাত সহজ সমাধান দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।

চলমান ইরান যুদ্ধের জেরে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়েছে সৌদি আরব ও হুতিরা। এটি এখন ইরান যুদ্ধের নতুন একটি ফ্রন্ট। বুধবার সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, পবিত্র নগরী মক্কার দিকে হুতিরা ড্রোন ছুড়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন নিন্দা জানিয়েছে, তবে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কোনো লক্ষণ এ পর্যন্ত দেখা যায়নি। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জন্মস্থান মক্কা ও পবিত্র কাবা নগরীর দিকে হুতিদের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব।

তুরস্ক ও পাকিস্তান সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ নামে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। তবে পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুতিকে প্রতিহত করতে সৌদি আরব তাদের কাছে সরাসরি কোনো অনুরোধ জানায়নি। সৌদি আরব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পবিত্র নগরীতে হুতিদের এ ধরনের হামলার চেষ্টা ‘চূড়ান্ত সীমা’ লঙ্ঘন। তবে ইয়েমেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার বা ৬৮০ মাইল দূরের পবিত্র নগরীটিতে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা। এর মধ্যেই বুধবার ইয়েমেনের আকাশে সৌদি আরবের একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুতিরা এবং তারা ধ্বংসাবশেষের ছবিও প্রকাশ করেছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবে এক হামলায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ হয়ে গেছে। এর পেছনে ইরাকের ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালির কয়েকটি দ্বীপও হুতিরা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ রয়েছে। হরমুজের পর বাব আল–মানদেব দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানিতে সংকটের বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

আঞ্চলিক এক কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব এখন খুব কঠিন অবস্থায় পড়েছে, কারণ তাদের শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তেল স্থাপনাগুলোও রক্ষা করতে হচ্ছে। অন্য আরেক কর্মকর্তা জানান, হুতিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক মিত্রদের পাশে টানার চেষ্টা করছে। ওমানের মাসকাটে গত সপ্তাহান্তে হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা সরাসরি আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সৌদি বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা বৃদ্ধির জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। তবে মিত্রদেশগুলো সামরিক সহায়তা দিতে খুব একটা আগ্রহী নয়, বরং তারা কূটনৈতিক সহায়তা দিতে বেশি আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।