লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাটোরের গুরুদাসপুরে নির্মাণের তিন বছরেই ভেঙে ফেলা হলো স্কুল ভবন

নাটোরের গুরুদাসপুরে নির্মাণের মাত্র তিন বছর পার হতে না হতেই ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্যবহার উপযোগী স্কুল ভবন ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ভবনটি ভাঙার আগে কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে খোদ প্রধান শিক্ষক স্বীকার করেছেন। ভবনটি ভাঙার পর এর নির্মাণসামগ্রী প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে জাইকার অর্থায়নে ও এলজিইডির বাস্তবায়নে প্রায় ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভবনটির উদ্বোধন করা হয়। তবে তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের একটি পুরোনো আধাপাকা ভবনও অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই জায়গায় প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিতবিশিষ্ট নতুন একতলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস ধরে শ্রমিক দিয়ে ভবন দুটি ভাঙার কাজ চলে এবং এ সময় মাইকিং করা হয়। সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনটি এত দ্রুত কেন ভাঙা হলো এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থের হিসাব কোথায়, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি রনি আহমেদ জানিয়েছেন, দেড়-দুই মাস আগে দায়িত্ব নিলেও ভবন ভাঙা বা সামগ্রী বিক্রির বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি এবং হিসাবও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনের দাবি, বিদ্যালয়ের জায়গার সংকট থাকায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আগের ভবনটি ভাঙা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের সহায়তায় নতুন ভবনের অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং গত ২৬ আগস্ট এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির রেজুলেশন অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করা হয়েছে, যদিও এর কোনো নথি বা বিক্রির অর্থ বিদ্যালয়ের হিসাবে জমা দেওয়ার প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি।

সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবন ভাঙার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি বা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে আগে থেকে জানানো হয়নি। ইউজিডিপি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার ও উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ জানিয়েছেন, নিয়ম উপেক্ষা করে ভবন ভাঙার ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাফরান রঙা সন্ধ্যা: তেহরানের বৃষ্টির দিনে এক অদেখা স্মৃতি

নাটোরের গুরুদাসপুরে নির্মাণের তিন বছরেই ভেঙে ফেলা হলো স্কুল ভবন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুরে নির্মাণের মাত্র তিন বছর পার হতে না হতেই ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্যবহার উপযোগী স্কুল ভবন ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ভবনটি ভাঙার আগে কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে খোদ প্রধান শিক্ষক স্বীকার করেছেন। ভবনটি ভাঙার পর এর নির্মাণসামগ্রী প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে জাইকার অর্থায়নে ও এলজিইডির বাস্তবায়নে প্রায় ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভবনটির উদ্বোধন করা হয়। তবে তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের একটি পুরোনো আধাপাকা ভবনও অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই জায়গায় প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিতবিশিষ্ট নতুন একতলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস ধরে শ্রমিক দিয়ে ভবন দুটি ভাঙার কাজ চলে এবং এ সময় মাইকিং করা হয়। সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনটি এত দ্রুত কেন ভাঙা হলো এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থের হিসাব কোথায়, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি রনি আহমেদ জানিয়েছেন, দেড়-দুই মাস আগে দায়িত্ব নিলেও ভবন ভাঙা বা সামগ্রী বিক্রির বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি এবং হিসাবও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনের দাবি, বিদ্যালয়ের জায়গার সংকট থাকায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আগের ভবনটি ভাঙা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের সহায়তায় নতুন ভবনের অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং গত ২৬ আগস্ট এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির রেজুলেশন অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করা হয়েছে, যদিও এর কোনো নথি বা বিক্রির অর্থ বিদ্যালয়ের হিসাবে জমা দেওয়ার প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি।

সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবন ভাঙার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি বা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে আগে থেকে জানানো হয়নি। ইউজিডিপি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার ও উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ জানিয়েছেন, নিয়ম উপেক্ষা করে ভবন ভাঙার ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।