লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেয়ারবাজারে বড় দরপতন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪১ পয়েন্ট কমে ৫,৬১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সূচকের এই পতনের দিনে লেনদেনে অংশ নেওয়া মাত্র ৪৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৩০৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়েছিল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায়। তবে কিছু সময় পার হওয়ার পরই বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে। দিন শেষে সূচকের বড় পতনের পাশাপাশি ডিএসই-৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে ২,১২২ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১,১২৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন ৫১ কোটি ২ লাখ টাকা বেড়ে ৫১৮ কোটি ৩ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বাজারে এই নেতিবাচক পরিস্থিতির পেছনে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা জ্বালানি সংকটে দেশের শিল্প খাতের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয় এবং এর জন্য কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। সরকারের এই বক্তব্যের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের হতাশা ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাজারে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মতো নেতিবাচক খবরের প্রভাব পড়ছে। তিনি বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, বাজারে উত্থান-পতন স্বাভাবিক, তবে জ্বালানি সংকটের কারণে বাজারে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সায়হাম টেক্সটাইল ২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ ২১ কোটি ২৪ লাখ টাকা এবং সায়হাম কটন ১৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করেছে। এছাড়া তালিকায় রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, লাভেলো আইসক্রিম, বেক্সিমকো, মালেক স্পিনিং, এমএল ডাইং এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স। এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৫ পয়েন্ট কমেছে এবং লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ১ লাখ টাকা।

ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫১৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৬৭ কোটি ১ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৫১ কোটি ২ লাখ টাকা।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১২টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৫ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাফরান রঙা সন্ধ্যা: তেহরানের বৃষ্টির দিনে এক অদেখা স্মৃতি

শেয়ারবাজারে বড় দরপতন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০২:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪১ পয়েন্ট কমে ৫,৬১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সূচকের এই পতনের দিনে লেনদেনে অংশ নেওয়া মাত্র ৪৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৩০৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়েছিল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায়। তবে কিছু সময় পার হওয়ার পরই বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে। দিন শেষে সূচকের বড় পতনের পাশাপাশি ডিএসই-৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে ২,১২২ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১,১২৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন ৫১ কোটি ২ লাখ টাকা বেড়ে ৫১৮ কোটি ৩ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বাজারে এই নেতিবাচক পরিস্থিতির পেছনে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা জ্বালানি সংকটে দেশের শিল্প খাতের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয় এবং এর জন্য কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। সরকারের এই বক্তব্যের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের হতাশা ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাজারে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মতো নেতিবাচক খবরের প্রভাব পড়ছে। তিনি বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, বাজারে উত্থান-পতন স্বাভাবিক, তবে জ্বালানি সংকটের কারণে বাজারে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সায়হাম টেক্সটাইল ২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ ২১ কোটি ২৪ লাখ টাকা এবং সায়হাম কটন ১৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করেছে। এছাড়া তালিকায় রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, লাভেলো আইসক্রিম, বেক্সিমকো, মালেক স্পিনিং, এমএল ডাইং এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স। এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৫ পয়েন্ট কমেছে এবং লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ১ লাখ টাকা।

ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫১৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৬৭ কোটি ১ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৫১ কোটি ২ লাখ টাকা।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১২টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৫ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ২৩ লাখ টাকা।