লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা পাচ্ছেন ৬২ শতাংশ সচ্ছল মানুষ

বাংলাদেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন কর্মসূচি চালু থাকলেও এর সুফল প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় থাকা সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৮ শতাংশই দরিদ্র বা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নন, বরং তারা সচ্ছল। এর ফলে প্রকৃত দরিদ্রদের একটি বড় অংশ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন জিইডির সদস্য ড. মনজুর হোসেন এবং উপপ্রধান মোহাম্মদ ফাহিম আফসান চৌধুরী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ৬৭ দশমিক ১ শতাংশই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে রয়ে গেছেন।

তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনে সামাজিক নিরাপত্তার জন্য ব্যয় জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ায় গড় ব্যয় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। বর্তমানে দেশে ৯৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ছোট ৫০টি কর্মসূচি মোট বরাদ্দের মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ পায়, যা প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং নজরদারি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। এছাড়া বিধবা ভাতা কর্মসূচিতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ পড়ার হার ৮৫ শতাংশ।

দারিদ্র্যের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে মাঝারি দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে যথাক্রমে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শহরাঞ্চলেও এই খাতের কাঠামোয় বড় ঘাটতি রয়েছে; মাত্র ২৩টি কর্মসূচি শহরের জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত হচ্ছে, যার বরাদ্দ মোট ব্যয়ের মাত্র ৪ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, ৯০টির বেশি কর্মসূচি কমিয়ে ১০টির নিচে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচনকে সর্বজনীন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে রাজনৈতিক প্রভাব কমানো যায়। এছাড়া ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুরক্ষার ‘হেলথ প্রটেকশন ফান্ড’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষার ‘সিস্টেম লস’ বা ঝরে পড়ার হারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, প্রায় ৩৮ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই এবং স্কুল-কলেজে ৭৭ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসডিজি অর্জনে পানি, শিক্ষা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নকে পরিবেশবান্ধব গ্রাম ঘোষণা

সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা পাচ্ছেন ৬২ শতাংশ সচ্ছল মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন কর্মসূচি চালু থাকলেও এর সুফল প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় থাকা সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৮ শতাংশই দরিদ্র বা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নন, বরং তারা সচ্ছল। এর ফলে প্রকৃত দরিদ্রদের একটি বড় অংশ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন জিইডির সদস্য ড. মনজুর হোসেন এবং উপপ্রধান মোহাম্মদ ফাহিম আফসান চৌধুরী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ৬৭ দশমিক ১ শতাংশই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে রয়ে গেছেন।

তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনে সামাজিক নিরাপত্তার জন্য ব্যয় জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ায় গড় ব্যয় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। বর্তমানে দেশে ৯৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ছোট ৫০টি কর্মসূচি মোট বরাদ্দের মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ পায়, যা প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং নজরদারি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। এছাড়া বিধবা ভাতা কর্মসূচিতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ পড়ার হার ৮৫ শতাংশ।

দারিদ্র্যের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে মাঝারি দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে যথাক্রমে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শহরাঞ্চলেও এই খাতের কাঠামোয় বড় ঘাটতি রয়েছে; মাত্র ২৩টি কর্মসূচি শহরের জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত হচ্ছে, যার বরাদ্দ মোট ব্যয়ের মাত্র ৪ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, ৯০টির বেশি কর্মসূচি কমিয়ে ১০টির নিচে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচনকে সর্বজনীন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে রাজনৈতিক প্রভাব কমানো যায়। এছাড়া ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুরক্ষার ‘হেলথ প্রটেকশন ফান্ড’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষার ‘সিস্টেম লস’ বা ঝরে পড়ার হারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, প্রায় ৩৮ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই এবং স্কুল-কলেজে ৭৭ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসডিজি অর্জনে পানি, শিক্ষা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দেন।