লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসএসসির ফলাফলে পটিয়ায় হতাশা, ব্যতিক্রম শীর্ষ কয়েকটি স্কুল

শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার ৪৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মোট ৫ হাজার ৭৪৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ হাজার ১৭৯ জন। সামগ্রিকভাবে উপজেলাটিতে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৩১ শতাংশে। এর মধ্যে ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই যে ফলাফল খারাপ হয়েছে তা নয়, কিছু বিদ্যালয় ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে। পাসের হারের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে পটিয়া হরিণখাইন ক্যাম্পাসের চিটাগাং আইডিয়াল হাই স্কুল। এই বিদ্যালয় থেকে ১০৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৯৬ জন পাস করেছে এবং ১০ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা ৯৩ দশমিক ২ শতাংশ পাসের হারের সমান। অন্যদিকে, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় সবার উপরে রয়েছে আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এখান থেকে ২৪৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০৪ জন পাস করেছে এবং ৫৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যেখানে পাসের হার ৮২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

শহরের তুলনায় গ্রামের বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল সাধারণত খারাপ হলেও কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা গেছে। তবে নিম্নমুখী ফলাফলের তালিকায় থাকা পাঁচটি বিদ্যালয়ের মধ্যে শাহ আমিন উচ্চ বিদ্যালয় পৌরসদরে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এখান থেকে ৬৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৩ জন পাস করতে পেরেছে, যার হার ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। কোনো শিক্ষার্থী এখান থেকে জিপিএ-৫ পায়নি।

অন্যান্য পিছিয়ে পড়া বিদ্যালয়ের মধ্যে আশিয়া ইউনিয়নের বাথুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ২৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ (৫৮ জনের মধ্যে ১৫ জন পাস), কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ (২৮২ জনের মধ্যে ৭৩ জন পাস) এবং হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৭ দশমিক ৭২ শতাংশ (১৯১ জনের মধ্যে ৫৩ জন পাস)। এছাড়া কচুয়াই ইউনিয়নের আজিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র ৫ জন পাস করেছে, যার হার ২৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাত্র একজন জিপিএ-৫ পেলেও বাকিগুলোতে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। তবে গ্রামের কয়েকটি বিদ্যালয় পাসের হার কম থাকলেও জিপিএ-৫ অর্জনে পিছিয়ে নেই; এর মধ্যে জঙ্গলখাইন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ জন, মুকুটনাইট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন এবং করল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর তৎপরতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের খোঁজে তদন্ত কমিটি

এসএসসির ফলাফলে পটিয়ায় হতাশা, ব্যতিক্রম শীর্ষ কয়েকটি স্কুল

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার ৪৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মোট ৫ হাজার ৭৪৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ হাজার ১৭৯ জন। সামগ্রিকভাবে উপজেলাটিতে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৩১ শতাংশে। এর মধ্যে ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই যে ফলাফল খারাপ হয়েছে তা নয়, কিছু বিদ্যালয় ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে। পাসের হারের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে পটিয়া হরিণখাইন ক্যাম্পাসের চিটাগাং আইডিয়াল হাই স্কুল। এই বিদ্যালয় থেকে ১০৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৯৬ জন পাস করেছে এবং ১০ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা ৯৩ দশমিক ২ শতাংশ পাসের হারের সমান। অন্যদিকে, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় সবার উপরে রয়েছে আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এখান থেকে ২৪৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০৪ জন পাস করেছে এবং ৫৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যেখানে পাসের হার ৮২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

শহরের তুলনায় গ্রামের বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল সাধারণত খারাপ হলেও কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা গেছে। তবে নিম্নমুখী ফলাফলের তালিকায় থাকা পাঁচটি বিদ্যালয়ের মধ্যে শাহ আমিন উচ্চ বিদ্যালয় পৌরসদরে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এখান থেকে ৬৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৩ জন পাস করতে পেরেছে, যার হার ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। কোনো শিক্ষার্থী এখান থেকে জিপিএ-৫ পায়নি।

অন্যান্য পিছিয়ে পড়া বিদ্যালয়ের মধ্যে আশিয়া ইউনিয়নের বাথুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ২৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ (৫৮ জনের মধ্যে ১৫ জন পাস), কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ (২৮২ জনের মধ্যে ৭৩ জন পাস) এবং হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৭ দশমিক ৭২ শতাংশ (১৯১ জনের মধ্যে ৫৩ জন পাস)। এছাড়া কচুয়াই ইউনিয়নের আজিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র ৫ জন পাস করেছে, যার হার ২৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাত্র একজন জিপিএ-৫ পেলেও বাকিগুলোতে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। তবে গ্রামের কয়েকটি বিদ্যালয় পাসের হার কম থাকলেও জিপিএ-৫ অর্জনে পিছিয়ে নেই; এর মধ্যে জঙ্গলখাইন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ জন, মুকুটনাইট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন এবং করল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।